দেশে হামে আরও ৩ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৮৮৭ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৯৯ শিশুসহ মোট ৯৮৬ শিশু মারা গেছে। মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছেন।
তবে যারা হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাসাবাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের তথ্য জানা গেলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে ৯৬৪ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৮০ শিশুসহ মোট ১ হাজার ৪৪ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৩৬৮ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৭৪ শিশু আক্রান্ত।
সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হামে ১৩৭ শিশু, রাজশাহী বিভাগে ১৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫২, বরিশাল বিভাগে ১১৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮২, খুলনা বিভাগে ৮৫ ও রংপুর বিভাগে ৮ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি মাসের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ শিশু ও নিশ্চিত হামে ১৯ হাজার ৫২৭ শিশুসহ মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৫ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৯ শিশু। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ শিশু। বাকিরা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংক্রমণব্যাধি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম সহজে কমবে না। আরও ২ থেকে ৩ বছর টানা ৬ মাস অন্তর এলাকাভিত্তিক টিকা দিতে হবে। সামনে ডিসেম্বর মাসে হাম পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ ডিসেম্বর থেকে হামের মৌসুম শুরু হয়। এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১ জন, দক্ষিণে ১ জন, চট্টগ্রামে ১ জন ও খুলনায় ১ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৩২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ বছর থেকে ১০ বছর বয়সী ৪ হাজারেরও বেশি শিশু রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ৫ বছরের শিশু ৫৮ জন, ৬ থেকে ১০ বছরের ৪৮ জন, ১১ থেকে ১৫ বছরের ৮২ জন, ১৬ থেকে ২০ বছরের ১৮৬ জন, ২১ থেকে ২৫ বছরের ১৮৩ জন, ২৬ থেকে ৩০ বছরের ১৭৮ জন, ৩১ থেকে ৩৫ বছরের ১৩৩ জন, ৩৬ থেকে ৪০ বছরের ১১৪ জন, ৭৬ থেকে ৮০ বছরের ৪ জন এবং ৮০ বছরের ৩ জনসহ মোট ১ হাজার ২৫২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আরও অনেকে বাসাবাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে আক্রান্ত আরও বাড়তে পারে। সামনে শীত পড়তে শুরু করলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন তার এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, আমরা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সক্রিয় হই। সংকটের শেষ ধাপে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা বেশি।’
ডা. মুশতাক বলেন, ‘বড় হাসপাতালে আইসিইউ, বিশেষায়িত চিকিৎসা বা সংকটাপন্ন রোগীকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও জরুরি হলো রোগী যেন সেই জটিল অবস্থায় পৌঁছাতে না পারে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব না দিলে কেবল তৃতীয় সর্বোচ্চ স্তরের চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গুর মৃত্যু কমানো সম্ভব নয়।’
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা। সরকারিভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও তা এখনো সবার কাছে সহজলভ্য নয়। জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদি বিনামূল্যে পরীক্ষা করা যায় এবং রোগী শনাক্ত হয়, তাহলে তাকে যথাযথ পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হবে।’

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশে হামে আরও ৩ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৮৮৭ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৯৯ শিশুসহ মোট ৯৮৬ শিশু মারা গেছে। মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছেন।
তবে যারা হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাসাবাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের তথ্য জানা গেলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে ৯৬৪ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৮০ শিশুসহ মোট ১ হাজার ৪৪ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৩৬৮ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৭৪ শিশু আক্রান্ত।
সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হামে ১৩৭ শিশু, রাজশাহী বিভাগে ১৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫২, বরিশাল বিভাগে ১১৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮২, খুলনা বিভাগে ৮৫ ও রংপুর বিভাগে ৮ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি মাসের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ শিশু ও নিশ্চিত হামে ১৯ হাজার ৫২৭ শিশুসহ মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৫ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৯ শিশু। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ শিশু। বাকিরা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংক্রমণব্যাধি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম সহজে কমবে না। আরও ২ থেকে ৩ বছর টানা ৬ মাস অন্তর এলাকাভিত্তিক টিকা দিতে হবে। সামনে ডিসেম্বর মাসে হাম পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ ডিসেম্বর থেকে হামের মৌসুম শুরু হয়। এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১ জন, দক্ষিণে ১ জন, চট্টগ্রামে ১ জন ও খুলনায় ১ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৩২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ বছর থেকে ১০ বছর বয়সী ৪ হাজারেরও বেশি শিশু রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ৫ বছরের শিশু ৫৮ জন, ৬ থেকে ১০ বছরের ৪৮ জন, ১১ থেকে ১৫ বছরের ৮২ জন, ১৬ থেকে ২০ বছরের ১৮৬ জন, ২১ থেকে ২৫ বছরের ১৮৩ জন, ২৬ থেকে ৩০ বছরের ১৭৮ জন, ৩১ থেকে ৩৫ বছরের ১৩৩ জন, ৩৬ থেকে ৪০ বছরের ১১৪ জন, ৭৬ থেকে ৮০ বছরের ৪ জন এবং ৮০ বছরের ৩ জনসহ মোট ১ হাজার ২৫২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আরও অনেকে বাসাবাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে আক্রান্ত আরও বাড়তে পারে। সামনে শীত পড়তে শুরু করলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন তার এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, আমরা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সক্রিয় হই। সংকটের শেষ ধাপে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা বেশি।’
ডা. মুশতাক বলেন, ‘বড় হাসপাতালে আইসিইউ, বিশেষায়িত চিকিৎসা বা সংকটাপন্ন রোগীকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও জরুরি হলো রোগী যেন সেই জটিল অবস্থায় পৌঁছাতে না পারে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব না দিলে কেবল তৃতীয় সর্বোচ্চ স্তরের চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গুর মৃত্যু কমানো সম্ভব নয়।’
এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা। সরকারিভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও তা এখনো সবার কাছে সহজলভ্য নয়। জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদি বিনামূল্যে পরীক্ষা করা যায় এবং রোগী শনাক্ত হয়, তাহলে তাকে যথাযথ পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হবে।’

আপনার মতামত লিখুন