সংবাদ

বশীর আল্হেলালের উপন্যাসে

মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাত এবং দুই অবাঙালি-নারী


মারুফ রায়হান
মারুফ রায়হান
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম

মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাত এবং দুই অবাঙালি-নারী
বটতলা আয়োজিত বশীর আল্হেলাল স্মরণাঞ্জলি শীর্ষক অনুষ্ঠানে পিতার প্রিয় গান শোনাচ্ছেন শিল্পী লায়েকা বশীর


বাড়তি কথা বা ভাবাবেগের সন্ধান পাওয়া যাবে না বশীর আল্হেলালের ফিকশন, ননফিকশন কিংবা গবেষণালব্ধ কোনো লেখাতেই। সাতচল্লিশের পরে নয়, একাত্তরের ক’বছর আগে (১৯৬৫ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরে) তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে এসেছিলেন বাংলাদেশে, অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ববাংলায়। বশীর আল্হেলালের প্রয়াণের দু’বছর পরে, তাঁর একমাত্র কন্যার কাছে শৈশব-বন্ধু খ্যাতিমান সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘বাসির’ কেন কলকাতা ছেড়ে চলে গেল! বামপন্থী সংস্কারমুক্ত লেখক বশীরের দু’ভাই বহু আগে বাংলাদেশে চলে এলেও তিনি মাকে নিয়ে থেকে যান। পরে প্রধানত অগ্রজদের উপর্যুপরি তাগিদেই মাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। যদিও এর পেছনে ভারতে পঁয়ষট্টি-পরবর্তী দাঙ্গার পরোক্ষ প্রভাব ছিল কিনা সেটি এখন আর জানার উপায় নেই। 

বশীরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপন্যাসে দুটি প্রধান নারীচরিত্র বাঙালি নয়। বশীর স্মরণে তাঁর নব্বইতম জন্মবার্ষিকীর বছরে এবং অনুপস্থিত হওয়ার মাস আগস্টে ঢাকার বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রে বৈচিত্র্যপূর্ণ এক আয়োজনে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে কিছু বলার সুযোগ হয়েছিল। বাকি চার আলোচকই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। সেখানে যে-কথার ওপরে জোর দিয়েছিলাম তেমনটি এই লেখক সম্পর্কে আগে শুনিনি। বলা সমীচীন, সম্ভবত বশীরকে নিয়ে এ শহরে সর্বপ্রথম কোনো সাহিত্য-আয়োজন হলো। বলতেই হচ্ছে, তাঁর প্রয়াণের পাঁচ বছরেও তাঁকে নিয়ে সাহিত্যপত্রে সার্বিক মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণধর্মী কোনো লেখা আমার নজরে পড়েনি। তাই একটা ঘোষণা দেয়ার মতো করেই বলেছিলাম, বহুমাত্রিক লেখক, সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, এমন সব্যসাচী নিশ্চয়ই দুয়েকজন আছেন বা ছিলেন আমাদের, তবে বশীর আল্হেলাল এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ও বিশিষ্ট, কেননা তিনি একজন গবেষকও। গবেষণালব্ধ তাঁর দুটি মহাগ্রন্থ হলো: ভাষা-আন্দোলনের ইতিহাস এবং বাংলা একাডেমির ইতিহাস। বাংলা একাডেমিতে চাকরি করতেন বলে তাঁর ওপরে একাডেমির ইতিহাস লেখার দায় চেপেছিল। কিন্তু সে-গ্রন্থ লিখতে লিখতে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস লেখার দায়িত্ব ও কর্তব্য বোধ করেন তিনি। যিনি নিজের বাড়ির নাম দেন ‘বাংলাভাষার পাঠশালা’, এবং ভাষার দুটি প্রধান প্রকাশ-বাহন লেখা ও বলা, এ দুটি বিষয়ে বই লেখার দায়িত্ব অনুভব করেছিলেন বলেই ‘আদর্শ বাংলা বানান’ ( ১৯৯০) ও বাংলা উচ্চারণ (২০০১) নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ লিখে গেছেন। 

যা হোক, এই লেখায় দৃষ্টি দিতে চাইছি মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাত ধারণকারী তাঁর দুটি উপন্যাস ‘কালো ইলিশ’ ও ‘যে পথে বুলবুলিরা যায়’-এর দুটি অবাঙালি নারীচরিত্র সোহেলী ও আবেদার জীবনের ওপরে। সোহেলী বিহারী নারী, আগে থেকেই তার বসবাস ঢাকায়; কিন্তু আবেদা সিন্ধুর মেয়ে। একাত্তরে সে করাচিতেই ছিল এবং ঘটনাচক্রে বিয়ের পর বাঙালি স্বামীর সঙ্গে সে বাংলাদেশে আসে। কাজের সুযোগ করে দেয়া, একেবারে ভিখিরি পর্যায় থেকে গৃহপরিচারিকায় উন্নীত হওয়া সোহেলী নানাভাবে বাঙালি মনিবকে খুশি করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে আবেদা আত্মীয় স্বজন ও নিজের দেশ ফেলে স্বেচ্ছায় বাঙালি স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় চলে আসে। স্বামীর মন জুগিয়ে চলার দায় সংগত ও স্বাভাবিকই ধারণা হয়। স্বামীর প্রতি তার ভালোবাসা নিখাদ। লক্ষ্য করার মতো হলো উপন্যাসে এই দুই নারীর দুরকমের পরিণতি। 

আশ্রয়দাতা করিমের সঙ্গে সোহেলীর বিয়ে হবে, এমন নিশ্চিত ধারণা পাবেন পাঠক। অন্যদিকে আবেদাকে তালাক দেয় তার স্বামী বেলায়েত। একটি উপন্যাসে বিয়ের প্রস্তুতি এবং অন্যটিতে তালাক প্রদান, এই দুই চূড়ান্ত পরিণতির ভেতর দিয়ে কাহিনি দুটির সমাপ্তি ঘটে। শেষকথা বলে দিলে সম্ভাব্য উপন্যাস পাঠকের আগ্রহ কমে যেতে পারে। তবু ওই দুই নারীর পুরুষসঙ্গীর চরিত্র বিশ্লেষণ এবং সোহেলী-আবেদার ব্যক্তিত্বের স্বরূপ প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমরা দেখতে পাবো মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাত সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশ ও পরাজিত পাকিস্তান, উভয় সমাজের ওপর এসে পড়ায় ব্যক্তিমানুষের ওপর তার কী প্রভাব পড়ে। বিষয়টি অভূতপূর্বই বটে। সেই বিস্ময়কে ছুঁতে হলে আমাদের একটু পেছনে তাকাতে হবে।

কালো ইলিশ-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র করিমের স্ত্রী এক সন্তানের জননী শরীফা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে নির্যাতিত হয়েছিল। এজন্যে স্বামীর কাছ থেকে তার প্রত্যক্ষ কোনো সমস্যা হয়নি বটে, সংকট ছিল তার নিজেরই মনে। সেটি অসংগত কিংবা অস্বাভাবিকও নয়। স্বাধীনতার কিছুকাল পরে শরীফা আত্মহত্যা করে। ঢাকায় নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীদের ছোট ফ্ল্যাটে করিম একাই থাকে, ইতিমধ্যে হাফপাগলা হিসেবে সে পরিচিতি পেয়েছে। উপন্যাসে লেখক যেভাবে করিমকে তুলে ধরেছেন তাতে বরং তাকে বাস্তববাদী, সংস্কারমুক্ত, মানবিক ও অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে ধারণা হয়। এক শিশুকন্যার জননী বিহারী নারী সোহেলী ভিখিরিনি। প্রথমদিন করিম তাকে পাঁচ টাকা ভিক্ষে দেয়। রাস্তার ধারে বুক চাপড়ে চাপড়ে ভিক্ষা চাইছিল সে। স্বাধীনতার পরপর ওই সময়টায় আট টাকায় একটা মুরগি কেনা যেত। ভিখিরিনির কাছে পাঁচ টাকা অনেক। সোহেলী করিমের ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে দরোজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়ে। (কবি ও কেরানি করিমের ভাষায়: ‘শ্রাবণের সিক্ত গোধূলির মতো কী এক ম্লান বিষণ্ন গলায় চৌকি দেখিয়ে মেয়েটি বলল, এখানেই শুই?’ করিম ভাবে, ‘সবাই তাহলে বেইমান নয়’।) এটা পরিষ্কার যে সে দেহদানের বিনিময়ে করিমের দেয়া টাকার মূল্য চুকাতে চায়। দীর্ঘকাল শরীরী সম্পর্কহীন করিম সুযোগটি গ্রহণ করে। যদিও এ নিয়ে পরে তার হেলদোল হয়নি, বরং সোহেলীর বারবার হাত পাতা নিয়ে সে বিরক্ত। এক পর্যায়ে সে করিমের গৃহকর্মে নিয়োজিত হয়। এরপরই করিম জানতে পারে যে তার মতোই সোহেলীরও একটি শিশুকন্যা আছে। আর তার স্বামীকে বাঙালিরা একাত্তরে মেরে ফেলেছে। করিমের চোখে ‘সমস্ত গায়ের রং পুড়ে কালো হয়ে গেছে সোহেলীর। সে পেত্নির মতো নোংরা, তেনা তেনা কাপড় পরে,  দুই গালে মেচতা, চুলে ধুলা। মুখে এত কাতরতা, যে কোনো সময় মরে পড়ে যাবে মনে হয়।’ তবু সোহেলীর ভেতরকার তেজ করিমকে আকর্ষণ করে। 

বাঙালি ফুল ভালোবাসে তাই করিমকে খুশি করতে সোহেলী ফুলসহ কয়েকটা ডাল নিয়ে আসে কৃষ্ণচূড়ার। অথচ করিম সেই ফুলসমেত ডালপালা ঝাড়ু বানিয়ে ঘর ঝাঁট দেয়। সোহেলীর ঘরগেরস্তালির কাজ দেখে, বানানো চায়ের চমৎকার স্বাদ নিতে নিতে করিমের চকিতে মন বলে ওঠে, ‘তাহলে কি জীবন আবার শুরু হলো?’ করিমকে সোহেলী ভাইয়া সম্বোধন করতে মানা করে দেয়। কেননা ‘অরণ্যে বাঘ বাঘিনীর দিকে যে চোখে তাকায়, করিমও তাকে তেমন চোখে দেখে। সেদিনই সোহেলী গ্রাম থেকে শিশুকন্যাকে ঢাকার বাসায় নিয়ে আসার কথা বলে। জানায় তার কোনো অযত্ন হবে না। করিম কঠিন সত্যোচ্চারণ করে, পৃথিবীটা বড় খারাপ জায়গা। কাউকে বিশ্বাস নাই। সে কাজের মানুষ হিসেবে থাকলে জুঁইয়ের অযত্ন হবে না, কিন্তু বউ হলে তখন ওকথা বলা যাবে কিনা সন্দেহ। 

যা হোক, সোহেলী দুখী, তবে তার দুঃখ আকর্ষণ করেনি করিমকে। দুঃখের ছাইয়ের নিচে ঘৃণার আগুন আছে। জীবন কেমন নরক একেবারে শেষ পর্যন্ত সে দেখতে চায়। সমাজে অপ্রকৃতিস্থ বলা হয় যাদের, তারাই সবচেয়ে বেশি প্রকৃতিস্থ, প্রকৃতিলগ্ন, প্রকৃতিসম্মত। বিহারী ভিখিরিণী সোহেলীর পোড়-খাওয়া জীবন-সিঞ্চিত তেজ করিমকে মুগ্ধ করে। দু’জনার ভেতর ‘সম্বন্ধ’ হয়। উপন্যাসের একেবারে শেষ স্তবকে এসে লেখক হাস্যরত দুজনের বর্ণনা দিলেন এভাবে:  ‘যেন ঝোপ থেকে বেরুনো দুটি সজারু পরস্পরের ধুলোমাখা বুকে মুখ লুকনোর জন্যে উদগ্রীব!’   

আসা যাক পাকিস্তানের করাচি থেকে আসা অবাঙালি মেয়ে আবেদা প্রসঙ্গে। তার স্বামী বেলায়েতের ব্যবসা ছিল করাচিতে। পূর্ব পাকিস্তানে অর্থাৎ তার জন্মভূমিতে আগুন জ্বলছে, মানুষ মরছে, মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, এসব নিয়ে তার কোনো ভাবান্তর নেই। বরং পাকিস্তানের অবাঙালি লোকজনের সঙ্গেই তার দহরম-মহরম এবং ব্যবসা। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। পাকিস্তানি মেয়ের স্বামী পরিচয়ও তাকে রক্ষা করতে না। তাই বাধ্য হয়ে বেলায়েত প্রায় কপর্দকহীন অবস্থায় ঢাকায় পৈত্রিক বাড়িতে ফিরে আসে। বিচিত্র গাছপালায় ভরা প্রায় পরিত্যক্ত সে পোড়ো বাড়ি, যেখানে বাস করছিল ভবঘুরে ও ভিখিরিরা। তাদের হটিয়ে ধীরে ধীরে বাড়িটা বাসযোগ্য করে তোলে। বেলায়েতের ধনী বন্ধু মাবুদের নজর পড়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী রূপসী আবেদার প্রতি। ওদিকে বাঙালি মেয়ে বিয়ের বাসনা জাগে বেলায়েতের। দুই বন্ধুতে কিছু একটা বোঝাপড়া হয়। আবেদাকে তালাক দেয় বেলায়েত, বার্তাটি বয়ে আনে মাবুদই। হতাশ বিস্মিত আবেদার বোধোদয় হয়, ‘বাঙালি গাছ বিক্রি করে না, স্ত্রীকে বিক্রি করে’। 

পাখি আর গাছের সম্পর্ক কেমন? গাছ অপেক্ষায় থাকে পাখি আসবেই; পাখিও জানে তার নীড় কোথায়। কেমন অবিচ্ছেদ্য পরম নির্ভরতা। ছাতিমগাছে যে বুলবুলিরা থাকে, হঠাৎ সশব্দ সন্ত্রাসে তারা কোথায় উড়ে যায় আতঙ্কে? ভূমি ও ভাষার শেকড় ওপড়ানো রক্তের আত্মীয়তাবিহীন নিঃসঙ্গ নারী কি বুলবুলি পাখি? পরমনির্ভর পুরুষটি পর হয়ে গেলে, সংসারে প্রলোভনের এবং বিচ্ছেদের সন্ত্রাস আছড়ে পড়লে, ভিনদেশি  ভিনভাষী স্ত্রীটি কোথায় উড়ে যাবে? না, নারীলিপ্সু শঠ মাবুদের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আবেদা ঘর ছাড়ে।

স্বাধীনতালাভের অব্যবহিত পরের সমাজবাস্তবতার চিত্র উপন্যাসে তুলে ধরেছেন গুণী কথাসাহিত্যিক বশীর আল্হেলাল। দুটি ভিনভাষী নারীর জীবনের বৈপরীত্য পাঠককে হতবাক করে দেয়ার মতোই। অগ্নিবারুদে মেশা একাত্তরের বাস্তবতার ভেতর থেকে নতুন জীবনবোধে জারিত এক ব্যক্তির মানবিকতার বিপরীতে শেকড়-অস্বীকারকারী স্বদেশপ্রেমহীন সুবিধাবাদী স্বার্থপর ব্যক্তির মনোজগৎ তুলে ধরেছেন। বলাবাহুল্য, একাত্তর-পরবর্তী বাস্তবতায় সোহেলী ও আবেদার জীবনের বাঁকবদলের জন্যে ওই দুই বাঙালি পুরুষের ভূমিকাই প্রধান। সযত্নে গড়ে তোলা নীড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া বিপন্ন বুলবুলিরা কোন পথে যায়? তেমনই অজানা গন্তব্যে যাত্রা আবেদারও, অথচ সে হয়ে উঠতে চেয়েছিল এই বাংলার নারীর মতোই একজন। বাংলা ভাষা শেখা, বাঙালি সংস্কৃতিকে ভালোবেসে ফেলা আবেদার বিপন্নতা পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।    

নারীকে মানুষ হিসেবে দেখার চোখ বহু লেখকের মধ্যেই অনুপস্থিত। দুঃখজনক হলেও এটিই সত্যি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সমাজসঙ্গী নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ মানবিক ও নারীবান্ধব না হলে নারীর বিপদের শেষ নেই। যদিও বিবিধ বিপদ থেকে উত্তরণের জন্যে স্বকীয় শক্তিতে নারীও শক্তিময়ী। নারীর প্রতি সমমর্যাদাপূর্ণ কল্যাণময় সুশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বশীর আল্হেলালের কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ, এমনকি ভ্রমণবৃত্তান্তেও তাৎপর্যপূর্ণভাবে উপস্থিত। নারী-পুরষের প্রকৃত ও অকৃত্রিম সমতার বিষয়টি তাঁর মতো খুব বেশি লেখকের লেখায় আমরা পাইনি। ভাষাসজ্ঞান দায়িত্বশীল এ সুসাহিত্যিককে এখনও আমাদের আবিষ্কার করা বাকি। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাত এবং দুই অবাঙালি-নারী

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


বাড়তি কথা বা ভাবাবেগের সন্ধান পাওয়া যাবে না বশীর আল্হেলালের ফিকশন, ননফিকশন কিংবা গবেষণালব্ধ কোনো লেখাতেই। সাতচল্লিশের পরে নয়, একাত্তরের ক’বছর আগে (১৯৬৫ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরে) তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে এসেছিলেন বাংলাদেশে, অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ববাংলায়। বশীর আল্হেলালের প্রয়াণের দু’বছর পরে, তাঁর একমাত্র কন্যার কাছে শৈশব-বন্ধু খ্যাতিমান সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘বাসির’ কেন কলকাতা ছেড়ে চলে গেল! বামপন্থী সংস্কারমুক্ত লেখক বশীরের দু’ভাই বহু আগে বাংলাদেশে চলে এলেও তিনি মাকে নিয়ে থেকে যান। পরে প্রধানত অগ্রজদের উপর্যুপরি তাগিদেই মাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। যদিও এর পেছনে ভারতে পঁয়ষট্টি-পরবর্তী দাঙ্গার পরোক্ষ প্রভাব ছিল কিনা সেটি এখন আর জানার উপায় নেই। 

বশীরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপন্যাসে দুটি প্রধান নারীচরিত্র বাঙালি নয়। বশীর স্মরণে তাঁর নব্বইতম জন্মবার্ষিকীর বছরে এবং অনুপস্থিত হওয়ার মাস আগস্টে ঢাকার বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রে বৈচিত্র্যপূর্ণ এক আয়োজনে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে কিছু বলার সুযোগ হয়েছিল। বাকি চার আলোচকই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। সেখানে যে-কথার ওপরে জোর দিয়েছিলাম তেমনটি এই লেখক সম্পর্কে আগে শুনিনি। বলা সমীচীন, সম্ভবত বশীরকে নিয়ে এ শহরে সর্বপ্রথম কোনো সাহিত্য-আয়োজন হলো। বলতেই হচ্ছে, তাঁর প্রয়াণের পাঁচ বছরেও তাঁকে নিয়ে সাহিত্যপত্রে সার্বিক মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণধর্মী কোনো লেখা আমার নজরে পড়েনি। তাই একটা ঘোষণা দেয়ার মতো করেই বলেছিলাম, বহুমাত্রিক লেখক, সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, এমন সব্যসাচী নিশ্চয়ই দুয়েকজন আছেন বা ছিলেন আমাদের, তবে বশীর আল্হেলাল এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ও বিশিষ্ট, কেননা তিনি একজন গবেষকও। গবেষণালব্ধ তাঁর দুটি মহাগ্রন্থ হলো: ভাষা-আন্দোলনের ইতিহাস এবং বাংলা একাডেমির ইতিহাস। বাংলা একাডেমিতে চাকরি করতেন বলে তাঁর ওপরে একাডেমির ইতিহাস লেখার দায় চেপেছিল। কিন্তু সে-গ্রন্থ লিখতে লিখতে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস লেখার দায়িত্ব ও কর্তব্য বোধ করেন তিনি। যিনি নিজের বাড়ির নাম দেন ‘বাংলাভাষার পাঠশালা’, এবং ভাষার দুটি প্রধান প্রকাশ-বাহন লেখা ও বলা, এ দুটি বিষয়ে বই লেখার দায়িত্ব অনুভব করেছিলেন বলেই ‘আদর্শ বাংলা বানান’ ( ১৯৯০) ও বাংলা উচ্চারণ (২০০১) নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ লিখে গেছেন। 

যা হোক, এই লেখায় দৃষ্টি দিতে চাইছি মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাত ধারণকারী তাঁর দুটি উপন্যাস ‘কালো ইলিশ’ ও ‘যে পথে বুলবুলিরা যায়’-এর দুটি অবাঙালি নারীচরিত্র সোহেলী ও আবেদার জীবনের ওপরে। সোহেলী বিহারী নারী, আগে থেকেই তার বসবাস ঢাকায়; কিন্তু আবেদা সিন্ধুর মেয়ে। একাত্তরে সে করাচিতেই ছিল এবং ঘটনাচক্রে বিয়ের পর বাঙালি স্বামীর সঙ্গে সে বাংলাদেশে আসে। কাজের সুযোগ করে দেয়া, একেবারে ভিখিরি পর্যায় থেকে গৃহপরিচারিকায় উন্নীত হওয়া সোহেলী নানাভাবে বাঙালি মনিবকে খুশি করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে আবেদা আত্মীয় স্বজন ও নিজের দেশ ফেলে স্বেচ্ছায় বাঙালি স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় চলে আসে। স্বামীর মন জুগিয়ে চলার দায় সংগত ও স্বাভাবিকই ধারণা হয়। স্বামীর প্রতি তার ভালোবাসা নিখাদ। লক্ষ্য করার মতো হলো উপন্যাসে এই দুই নারীর দুরকমের পরিণতি। 

আশ্রয়দাতা করিমের সঙ্গে সোহেলীর বিয়ে হবে, এমন নিশ্চিত ধারণা পাবেন পাঠক। অন্যদিকে আবেদাকে তালাক দেয় তার স্বামী বেলায়েত। একটি উপন্যাসে বিয়ের প্রস্তুতি এবং অন্যটিতে তালাক প্রদান, এই দুই চূড়ান্ত পরিণতির ভেতর দিয়ে কাহিনি দুটির সমাপ্তি ঘটে। শেষকথা বলে দিলে সম্ভাব্য উপন্যাস পাঠকের আগ্রহ কমে যেতে পারে। তবু ওই দুই নারীর পুরুষসঙ্গীর চরিত্র বিশ্লেষণ এবং সোহেলী-আবেদার ব্যক্তিত্বের স্বরূপ প্রকাশের মধ্য দিয়ে আমরা দেখতে পাবো মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাত সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশ ও পরাজিত পাকিস্তান, উভয় সমাজের ওপর এসে পড়ায় ব্যক্তিমানুষের ওপর তার কী প্রভাব পড়ে। বিষয়টি অভূতপূর্বই বটে। সেই বিস্ময়কে ছুঁতে হলে আমাদের একটু পেছনে তাকাতে হবে।

কালো ইলিশ-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র করিমের স্ত্রী এক সন্তানের জননী শরীফা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে নির্যাতিত হয়েছিল। এজন্যে স্বামীর কাছ থেকে তার প্রত্যক্ষ কোনো সমস্যা হয়নি বটে, সংকট ছিল তার নিজেরই মনে। সেটি অসংগত কিংবা অস্বাভাবিকও নয়। স্বাধীনতার কিছুকাল পরে শরীফা আত্মহত্যা করে। ঢাকায় নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীদের ছোট ফ্ল্যাটে করিম একাই থাকে, ইতিমধ্যে হাফপাগলা হিসেবে সে পরিচিতি পেয়েছে। উপন্যাসে লেখক যেভাবে করিমকে তুলে ধরেছেন তাতে বরং তাকে বাস্তববাদী, সংস্কারমুক্ত, মানবিক ও অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে ধারণা হয়। এক শিশুকন্যার জননী বিহারী নারী সোহেলী ভিখিরিনি। প্রথমদিন করিম তাকে পাঁচ টাকা ভিক্ষে দেয়। রাস্তার ধারে বুক চাপড়ে চাপড়ে ভিক্ষা চাইছিল সে। স্বাধীনতার পরপর ওই সময়টায় আট টাকায় একটা মুরগি কেনা যেত। ভিখিরিনির কাছে পাঁচ টাকা অনেক। সোহেলী করিমের ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে দরোজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়ে। (কবি ও কেরানি করিমের ভাষায়: ‘শ্রাবণের সিক্ত গোধূলির মতো কী এক ম্লান বিষণ্ন গলায় চৌকি দেখিয়ে মেয়েটি বলল, এখানেই শুই?’ করিম ভাবে, ‘সবাই তাহলে বেইমান নয়’।) এটা পরিষ্কার যে সে দেহদানের বিনিময়ে করিমের দেয়া টাকার মূল্য চুকাতে চায়। দীর্ঘকাল শরীরী সম্পর্কহীন করিম সুযোগটি গ্রহণ করে। যদিও এ নিয়ে পরে তার হেলদোল হয়নি, বরং সোহেলীর বারবার হাত পাতা নিয়ে সে বিরক্ত। এক পর্যায়ে সে করিমের গৃহকর্মে নিয়োজিত হয়। এরপরই করিম জানতে পারে যে তার মতোই সোহেলীরও একটি শিশুকন্যা আছে। আর তার স্বামীকে বাঙালিরা একাত্তরে মেরে ফেলেছে। করিমের চোখে ‘সমস্ত গায়ের রং পুড়ে কালো হয়ে গেছে সোহেলীর। সে পেত্নির মতো নোংরা, তেনা তেনা কাপড় পরে,  দুই গালে মেচতা, চুলে ধুলা। মুখে এত কাতরতা, যে কোনো সময় মরে পড়ে যাবে মনে হয়।’ তবু সোহেলীর ভেতরকার তেজ করিমকে আকর্ষণ করে। 

বাঙালি ফুল ভালোবাসে তাই করিমকে খুশি করতে সোহেলী ফুলসহ কয়েকটা ডাল নিয়ে আসে কৃষ্ণচূড়ার। অথচ করিম সেই ফুলসমেত ডালপালা ঝাড়ু বানিয়ে ঘর ঝাঁট দেয়। সোহেলীর ঘরগেরস্তালির কাজ দেখে, বানানো চায়ের চমৎকার স্বাদ নিতে নিতে করিমের চকিতে মন বলে ওঠে, ‘তাহলে কি জীবন আবার শুরু হলো?’ করিমকে সোহেলী ভাইয়া সম্বোধন করতে মানা করে দেয়। কেননা ‘অরণ্যে বাঘ বাঘিনীর দিকে যে চোখে তাকায়, করিমও তাকে তেমন চোখে দেখে। সেদিনই সোহেলী গ্রাম থেকে শিশুকন্যাকে ঢাকার বাসায় নিয়ে আসার কথা বলে। জানায় তার কোনো অযত্ন হবে না। করিম কঠিন সত্যোচ্চারণ করে, পৃথিবীটা বড় খারাপ জায়গা। কাউকে বিশ্বাস নাই। সে কাজের মানুষ হিসেবে থাকলে জুঁইয়ের অযত্ন হবে না, কিন্তু বউ হলে তখন ওকথা বলা যাবে কিনা সন্দেহ। 

যা হোক, সোহেলী দুখী, তবে তার দুঃখ আকর্ষণ করেনি করিমকে। দুঃখের ছাইয়ের নিচে ঘৃণার আগুন আছে। জীবন কেমন নরক একেবারে শেষ পর্যন্ত সে দেখতে চায়। সমাজে অপ্রকৃতিস্থ বলা হয় যাদের, তারাই সবচেয়ে বেশি প্রকৃতিস্থ, প্রকৃতিলগ্ন, প্রকৃতিসম্মত। বিহারী ভিখিরিণী সোহেলীর পোড়-খাওয়া জীবন-সিঞ্চিত তেজ করিমকে মুগ্ধ করে। দু’জনার ভেতর ‘সম্বন্ধ’ হয়। উপন্যাসের একেবারে শেষ স্তবকে এসে লেখক হাস্যরত দুজনের বর্ণনা দিলেন এভাবে:  ‘যেন ঝোপ থেকে বেরুনো দুটি সজারু পরস্পরের ধুলোমাখা বুকে মুখ লুকনোর জন্যে উদগ্রীব!’   

আসা যাক পাকিস্তানের করাচি থেকে আসা অবাঙালি মেয়ে আবেদা প্রসঙ্গে। তার স্বামী বেলায়েতের ব্যবসা ছিল করাচিতে। পূর্ব পাকিস্তানে অর্থাৎ তার জন্মভূমিতে আগুন জ্বলছে, মানুষ মরছে, মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, এসব নিয়ে তার কোনো ভাবান্তর নেই। বরং পাকিস্তানের অবাঙালি লোকজনের সঙ্গেই তার দহরম-মহরম এবং ব্যবসা। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। পাকিস্তানি মেয়ের স্বামী পরিচয়ও তাকে রক্ষা করতে না। তাই বাধ্য হয়ে বেলায়েত প্রায় কপর্দকহীন অবস্থায় ঢাকায় পৈত্রিক বাড়িতে ফিরে আসে। বিচিত্র গাছপালায় ভরা প্রায় পরিত্যক্ত সে পোড়ো বাড়ি, যেখানে বাস করছিল ভবঘুরে ও ভিখিরিরা। তাদের হটিয়ে ধীরে ধীরে বাড়িটা বাসযোগ্য করে তোলে। বেলায়েতের ধনী বন্ধু মাবুদের নজর পড়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী রূপসী আবেদার প্রতি। ওদিকে বাঙালি মেয়ে বিয়ের বাসনা জাগে বেলায়েতের। দুই বন্ধুতে কিছু একটা বোঝাপড়া হয়। আবেদাকে তালাক দেয় বেলায়েত, বার্তাটি বয়ে আনে মাবুদই। হতাশ বিস্মিত আবেদার বোধোদয় হয়, ‘বাঙালি গাছ বিক্রি করে না, স্ত্রীকে বিক্রি করে’। 

পাখি আর গাছের সম্পর্ক কেমন? গাছ অপেক্ষায় থাকে পাখি আসবেই; পাখিও জানে তার নীড় কোথায়। কেমন অবিচ্ছেদ্য পরম নির্ভরতা। ছাতিমগাছে যে বুলবুলিরা থাকে, হঠাৎ সশব্দ সন্ত্রাসে তারা কোথায় উড়ে যায় আতঙ্কে? ভূমি ও ভাষার শেকড় ওপড়ানো রক্তের আত্মীয়তাবিহীন নিঃসঙ্গ নারী কি বুলবুলি পাখি? পরমনির্ভর পুরুষটি পর হয়ে গেলে, সংসারে প্রলোভনের এবং বিচ্ছেদের সন্ত্রাস আছড়ে পড়লে, ভিনদেশি  ভিনভাষী স্ত্রীটি কোথায় উড়ে যাবে? না, নারীলিপ্সু শঠ মাবুদের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আবেদা ঘর ছাড়ে।

স্বাধীনতালাভের অব্যবহিত পরের সমাজবাস্তবতার চিত্র উপন্যাসে তুলে ধরেছেন গুণী কথাসাহিত্যিক বশীর আল্হেলাল। দুটি ভিনভাষী নারীর জীবনের বৈপরীত্য পাঠককে হতবাক করে দেয়ার মতোই। অগ্নিবারুদে মেশা একাত্তরের বাস্তবতার ভেতর থেকে নতুন জীবনবোধে জারিত এক ব্যক্তির মানবিকতার বিপরীতে শেকড়-অস্বীকারকারী স্বদেশপ্রেমহীন সুবিধাবাদী স্বার্থপর ব্যক্তির মনোজগৎ তুলে ধরেছেন। বলাবাহুল্য, একাত্তর-পরবর্তী বাস্তবতায় সোহেলী ও আবেদার জীবনের বাঁকবদলের জন্যে ওই দুই বাঙালি পুরুষের ভূমিকাই প্রধান। সযত্নে গড়ে তোলা নীড় থেকে উচ্ছেদ হওয়া বিপন্ন বুলবুলিরা কোন পথে যায়? তেমনই অজানা গন্তব্যে যাত্রা আবেদারও, অথচ সে হয়ে উঠতে চেয়েছিল এই বাংলার নারীর মতোই একজন। বাংলা ভাষা শেখা, বাঙালি সংস্কৃতিকে ভালোবেসে ফেলা আবেদার বিপন্নতা পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।    

নারীকে মানুষ হিসেবে দেখার চোখ বহু লেখকের মধ্যেই অনুপস্থিত। দুঃখজনক হলেও এটিই সত্যি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সমাজসঙ্গী নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ মানবিক ও নারীবান্ধব না হলে নারীর বিপদের শেষ নেই। যদিও বিবিধ বিপদ থেকে উত্তরণের জন্যে স্বকীয় শক্তিতে নারীও শক্তিময়ী। নারীর প্রতি সমমর্যাদাপূর্ণ কল্যাণময় সুশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বশীর আল্হেলালের কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ, এমনকি ভ্রমণবৃত্তান্তেও তাৎপর্যপূর্ণভাবে উপস্থিত। নারী-পুরষের প্রকৃত ও অকৃত্রিম সমতার বিষয়টি তাঁর মতো খুব বেশি লেখকের লেখায় আমরা পাইনি। ভাষাসজ্ঞান দায়িত্বশীল এ সুসাহিত্যিককে এখনও আমাদের আবিষ্কার করা বাকি। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত