মহাকাশে
পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার একটি
সম্ভাব্য কক্ষপথভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তার
পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মহাকাশে উচ্চক্ষমতার কোনো পারমাণবিক
বিস্ফোরণ ঘটলে এর প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ক্ষতিগ্রস্ত হতে
পারে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট অবকাঠামোও।
সম্প্রতি
আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিলের এক বিশ্লেষণে মহাকাশে পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য
ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে কয়েক শ কিলোমিটার
উচ্চতায় বড় ধরনের পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে বিপুলসংখ্যক স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত বা অকার্যকর
হয়ে যেতে পারে।
বিপর্যস্ত হতে পারে যোগাযোগব্যবস্থা
বর্তমান
বিশ্বে ইন্টারনেট, যোগাযোগ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, নেভিগেশন ও সামরিক নজরদারিসহ নানা
গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। কক্ষপথে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ হলে
এসব পরিষেবার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হতে পারে।
স্যাটেলাইট
ইন্টারনেট ব্যবস্থার পাশাপাশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, বিমান ও নৌযানের নেভিগেশন এবং জিপিএসনির্ভর
বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন
যোগাযোগ থেকে শুরু করে পরিবহন ও জরুরি পরিষেবাতেও।
মহাকাশে
থাকা নভোচারীরাও এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার বিকিরণ
ও কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনসহ অন্যান্য মহাকাশযানের
জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে।
বাড়তে পারে মহাকাশ-বর্জ্যের ঝুঁকি
পারমাণবিক
বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষ ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি বড় সমস্যা হতে পারে মহাকাশ-বর্জ্য।
বিস্ফোরণে বিপুলসংখ্যক উপগ্রহ ধ্বংস হলে তাদের অসংখ্য টুকরো পৃথিবীর কক্ষপথে ছড়িয়ে
পড়তে পারে। এসব ধ্বংসাবশেষ অন্য স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে আরও টুকরো তৈরি করতে
পারে।
এ
ধরনের ধারাবাহিক সংঘর্ষের সম্ভাবনাকেই ‘কেসলার সিন্ড্রোম’ বলা হয়। পরিস্থিতি গুরুতর
হলে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে নতুন স্যাটেলাইট স্থাপন ও পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে এমন পরিস্থিতি কতটা বিস্তৃত বা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা বিস্ফোরণের ধরন, অবস্থান ও
কক্ষপথের ওপর নির্ভর করবে।
মহাকাশে পারমাণবিক বিস্ফোরণের পুরোনো ইতিহাস
মহাকাশে
পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি নতুন কোনো বিষয় নয়। ১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্টারফিশ প্রাইম’
নামে একটি উচ্চ-উচ্চতার পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল। ওই বিস্ফোরণের পর কৃত্রিম বিকিরণ
বলয় তৈরি হয় এবং কয়েকটি স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত বা অকার্যকর হয়ে যায়।
পরবর্তীতে
মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৬৭
সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী পৃথিবীর কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্র বা অন্যান্য
গণবিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। পৃথিবীর যোগাযোগ ও অর্থনীতির সঙ্গে মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোর নির্ভরতা যত বাড়ছে, কক্ষপথে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়েও তত বেশি উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মহাকাশে
পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার একটি
সম্ভাব্য কক্ষপথভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তার
পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মহাকাশে উচ্চক্ষমতার কোনো পারমাণবিক
বিস্ফোরণ ঘটলে এর প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ক্ষতিগ্রস্ত হতে
পারে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট অবকাঠামোও।
সম্প্রতি
আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিলের এক বিশ্লেষণে মহাকাশে পারমাণবিক বিস্ফোরণের সম্ভাব্য
ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে কয়েক শ কিলোমিটার
উচ্চতায় বড় ধরনের পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে বিপুলসংখ্যক স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত বা অকার্যকর
হয়ে যেতে পারে।
বিপর্যস্ত হতে পারে যোগাযোগব্যবস্থা
বর্তমান
বিশ্বে ইন্টারনেট, যোগাযোগ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, নেভিগেশন ও সামরিক নজরদারিসহ নানা
গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। কক্ষপথে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ হলে
এসব পরিষেবার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হতে পারে।
স্যাটেলাইট
ইন্টারনেট ব্যবস্থার পাশাপাশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, বিমান ও নৌযানের নেভিগেশন এবং জিপিএসনির্ভর
বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন
যোগাযোগ থেকে শুরু করে পরিবহন ও জরুরি পরিষেবাতেও।
মহাকাশে
থাকা নভোচারীরাও এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার বিকিরণ
ও কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনসহ অন্যান্য মহাকাশযানের
জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে।
বাড়তে পারে মহাকাশ-বর্জ্যের ঝুঁকি
পারমাণবিক
বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষ ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি বড় সমস্যা হতে পারে মহাকাশ-বর্জ্য।
বিস্ফোরণে বিপুলসংখ্যক উপগ্রহ ধ্বংস হলে তাদের অসংখ্য টুকরো পৃথিবীর কক্ষপথে ছড়িয়ে
পড়তে পারে। এসব ধ্বংসাবশেষ অন্য স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে আরও টুকরো তৈরি করতে
পারে।
এ
ধরনের ধারাবাহিক সংঘর্ষের সম্ভাবনাকেই ‘কেসলার সিন্ড্রোম’ বলা হয়। পরিস্থিতি গুরুতর
হলে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে নতুন স্যাটেলাইট স্থাপন ও পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে এমন পরিস্থিতি কতটা বিস্তৃত বা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা বিস্ফোরণের ধরন, অবস্থান ও
কক্ষপথের ওপর নির্ভর করবে।
মহাকাশে পারমাণবিক বিস্ফোরণের পুরোনো ইতিহাস
মহাকাশে
পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি নতুন কোনো বিষয় নয়। ১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্টারফিশ প্রাইম’
নামে একটি উচ্চ-উচ্চতার পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল। ওই বিস্ফোরণের পর কৃত্রিম বিকিরণ
বলয় তৈরি হয় এবং কয়েকটি স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত বা অকার্যকর হয়ে যায়।
পরবর্তীতে
মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৬৭
সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী পৃথিবীর কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্র বা অন্যান্য
গণবিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। পৃথিবীর যোগাযোগ ও অর্থনীতির সঙ্গে মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোর নির্ভরতা যত বাড়ছে, কক্ষপথে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়েও তত বেশি উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন