সংবাদ

হাম-ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

হাম-ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা
‘হাম-ডেঙ্গুতে বাড়ছে প্রাণহানি, বাড়ছে আতঙ্ক’

হামে শিশু মৃত্যু এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সন্দেহজনক হামে ৯০২ শিশু ও নিশ্চিত হামে ১০০ শিশুসহ মোট ১০০২ শিশু মারা গেছে। মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হান এ তথ্য জানিয়েছেন।

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকে হাসপাতালে না এনে বাড়িতে বা ডাক্তারের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ায় বিচ্ছিন্নভাবে আরও অনেক শিশু মারা যেতে পারে। তাদের তথ্য জানা গেলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় মৃত্যু বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা না দেওয়াই এ অবস্থার জন্য দায়ী।

গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে ১১১৯ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৬৯ শিশুসহ মোট ১১৮৮ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। ঢাকা বিভাগে ৪২৭ শিশু, সিলেটে ১৮৩, চট্টগ্রামে ২২০, বরিশালে ১৩৮, খুলনায় ৫৮, রাজশাহীতে ৩৫, ময়মনসিংহে ৪১ ও রংপুরে ১৭ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ শিশু ও নিশ্চিত হামে ১৯ হাজার ৯০৪ শিশুসহ মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ শিশু, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ শিশু।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৬৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৯৩৮ জনে।

আক্রান্তদের মধ্যে ৫ বছরের শিশু ৬৬ জন, ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী ৭৪ জন, ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৭৮ জন, ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী ২১০ জন, ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী ২৩০ জন ও ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২১১ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও ডেঙ্গু গণহারে ছড়িয়ে পড়ছে। এ জন্য জনস্বাস্থ্য ভিত্তিক বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। ডেঙ্গু ও হামকে স্পেশাল হিসেবে দেখে চিকিৎসা দিতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বর হলে ডেঙ্গু টেস্ট ও হামের টিকা দেওয়া দরকার। না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেঙ্গু সংক্রমণ কমাতে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গু সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে এই উদ্যোগ।

উপজেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন ও সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জনদের ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ও শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হাম-ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হামে শিশু মৃত্যু এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সন্দেহজনক হামে ৯০২ শিশু ও নিশ্চিত হামে ১০০ শিশুসহ মোট ১০০২ শিশু মারা গেছে। মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হান এ তথ্য জানিয়েছেন।

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকে হাসপাতালে না এনে বাড়িতে বা ডাক্তারের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ায় বিচ্ছিন্নভাবে আরও অনেক শিশু মারা যেতে পারে। তাদের তথ্য জানা গেলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় মৃত্যু বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা না দেওয়াই এ অবস্থার জন্য দায়ী।

গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে ১১১৯ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৬৯ শিশুসহ মোট ১১৮৮ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। ঢাকা বিভাগে ৪২৭ শিশু, সিলেটে ১৮৩, চট্টগ্রামে ২২০, বরিশালে ১৩৮, খুলনায় ৫৮, রাজশাহীতে ৩৫, ময়মনসিংহে ৪১ ও রংপুরে ১৭ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ শিশু ও নিশ্চিত হামে ১৯ হাজার ৯০৪ শিশুসহ মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ শিশু, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ শিশু।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৬৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৯৩৮ জনে।

আক্রান্তদের মধ্যে ৫ বছরের শিশু ৬৬ জন, ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী ৭৪ জন, ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৭৮ জন, ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী ২১০ জন, ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী ২৩০ জন ও ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২১১ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও ডেঙ্গু গণহারে ছড়িয়ে পড়ছে। এ জন্য জনস্বাস্থ্য ভিত্তিক বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। ডেঙ্গু ও হামকে স্পেশাল হিসেবে দেখে চিকিৎসা দিতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বর হলে ডেঙ্গু টেস্ট ও হামের টিকা দেওয়া দরকার। না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেঙ্গু সংক্রমণ কমাতে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গু সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে এই উদ্যোগ।

উপজেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন ও সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জনদের ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ও শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত