পাসপোর্টের মতো ভাঁজ করা
যায় ফোনটি। বন্ধ অবস্থায় এটি সাধারণ স্মার্টফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে। তবে খুলে
দিলে সামনে পাওয়া যাবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্দাটি
উল্লম্ব কিংবা অনুভূমিক-দুইভাবেই ব্যবহার করা যাবে।
পাতলা নকশা,
টাইটানিয়াম বডি
অ্যাপলের দাবি, খোলা
অবস্থায় আইফোন ডুও তাদের তৈরি সবচেয়ে পাতলা আইফোন। তবে চীনা নির্মাতাদের কয়েকটি
ফোল্ডেবল ফোনের তুলনায় এটি কিছুটা মোটা। ফোনটির কাঠামোয় ব্যবহার করা হয়েছে
টাইটানিয়াম এবং বিশেষভাবে নকশা করা হিঞ্জ।
অ্যাপলের নতুন প্রধান
নির্বাহী জন টার্নাসের নেতৃত্বে পণ্যটির উন্মোচনকে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের নকশাগত
পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। টার্নাসের মতে, অনেক ফোল্ডেবল ফোন দেখতে আকর্ষণীয়
হলেও দৈনন্দিন ব্যবহারে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইফোন ডুওতে তাই পকেটে বহনযোগ্যতা
এবং বড় পর্দার সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিনোদনের
পাশাপাশি কাজেও বড় পর্দা
শুধু ভিডিও দেখা বা গেম
খেলার জন্য নয়, কাজের ক্ষেত্রেও বড় পর্দার সুবিধা দিতে চায় অ্যাপল। ডুওতে একই সময়ে
একাধিক অ্যাপ চালানো এবং একাধিক উইন্ডো খোলা রাখা যাবে। জুম কলে একসঙ্গে বেশি
অংশগ্রহণকারী দেখার পাশাপাশি স্ল্যাকের মতো অ্যাপের বার্তাও বড় পর্দায় পড়া সহজ
হবে।
ফোনটিতে ব্যবহার করা
হয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ। এর সঙ্গে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সি২ মডেম।
কোয়ালকমের চিপের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নিজস্ব মডেম ব্যবহারে
জোর দিয়েছে অ্যাপল।
২০ মিনিটে ৫০
শতাংশ চার্জ
ব্যাটারি নিয়েও বড়
সক্ষমতার দাবি করেছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, দুই পর্দার সমন্বিত ব্যবহারে
আইফোন ডুওতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। দ্রুত চার্জিং সুবিধায়
মাত্র ২০ মিনিটে ব্যাটারি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা সম্ভব হবে।
ফোল্ডেবল বাজারে
বড় প্রতিযোগিতা
উচ্চমূল্যের এই ফোনটি
বাজারে কতটা সাড়া ফেলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে বাজার বিশ্লেষকদের একটি অংশ
অ্যাপলের প্রবেশকে ফোল্ডেবল স্মার্টফোন শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে
দেখছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ডেটা
করপোরেশন (আইডিসি) পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে
অ্যাপলের অংশ প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে এই বাজারে স্যামসাং ও
হুয়াওয়ের মতো নির্মাতারা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চীনের বাজারে হুয়াওয়ের
শক্ত অবস্থান অ্যাপলের জন্য বড় প্রতিযোগিতার কারণ হতে পারে।
একসঙ্গে আরও
পণ্য উন্মোচন
ফোল্ডেবল আইফোন ডুওয়ের
পাশাপাশি অ্যাপল আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে। মডেল
দুটির দাম শুরু হচ্ছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯৯ ও ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে।
এ ছাড়া নতুন এয়ারপডসের
দাম শুরু হয়েছে ১২৯ ডলার থেকে। অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ ও ওয়াচ আলট্রা ৪-এও স্বাস্থ্য
ও ফিটনেসকেন্দ্রিক নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ
নিঃসন্দেহে প্রতিযোগিতার মাত্রা বাড়াবে। এখন দেখার বিষয়, প্রায় দুই হাজার ডলারের
আইফোন ডুও গ্রাহকদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে এবং ফোল্ডেবল ফোনকে আরও বড় পরিসরে
মূলধারার বাজারে নিয়ে যেতে অ্যাপল কতটা সফল হয়।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাসপোর্টের মতো ভাঁজ করা
যায় ফোনটি। বন্ধ অবস্থায় এটি সাধারণ স্মার্টফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে। তবে খুলে
দিলে সামনে পাওয়া যাবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্দাটি
উল্লম্ব কিংবা অনুভূমিক-দুইভাবেই ব্যবহার করা যাবে।
পাতলা নকশা,
টাইটানিয়াম বডি
অ্যাপলের দাবি, খোলা
অবস্থায় আইফোন ডুও তাদের তৈরি সবচেয়ে পাতলা আইফোন। তবে চীনা নির্মাতাদের কয়েকটি
ফোল্ডেবল ফোনের তুলনায় এটি কিছুটা মোটা। ফোনটির কাঠামোয় ব্যবহার করা হয়েছে
টাইটানিয়াম এবং বিশেষভাবে নকশা করা হিঞ্জ।
অ্যাপলের নতুন প্রধান
নির্বাহী জন টার্নাসের নেতৃত্বে পণ্যটির উন্মোচনকে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের নকশাগত
পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। টার্নাসের মতে, অনেক ফোল্ডেবল ফোন দেখতে আকর্ষণীয়
হলেও দৈনন্দিন ব্যবহারে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইফোন ডুওতে তাই পকেটে বহনযোগ্যতা
এবং বড় পর্দার সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিনোদনের
পাশাপাশি কাজেও বড় পর্দা
শুধু ভিডিও দেখা বা গেম
খেলার জন্য নয়, কাজের ক্ষেত্রেও বড় পর্দার সুবিধা দিতে চায় অ্যাপল। ডুওতে একই সময়ে
একাধিক অ্যাপ চালানো এবং একাধিক উইন্ডো খোলা রাখা যাবে। জুম কলে একসঙ্গে বেশি
অংশগ্রহণকারী দেখার পাশাপাশি স্ল্যাকের মতো অ্যাপের বার্তাও বড় পর্দায় পড়া সহজ
হবে।
ফোনটিতে ব্যবহার করা
হয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ। এর সঙ্গে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সি২ মডেম।
কোয়ালকমের চিপের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নিজস্ব মডেম ব্যবহারে
জোর দিয়েছে অ্যাপল।
২০ মিনিটে ৫০
শতাংশ চার্জ
ব্যাটারি নিয়েও বড়
সক্ষমতার দাবি করেছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, দুই পর্দার সমন্বিত ব্যবহারে
আইফোন ডুওতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। দ্রুত চার্জিং সুবিধায়
মাত্র ২০ মিনিটে ব্যাটারি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা সম্ভব হবে।
ফোল্ডেবল বাজারে
বড় প্রতিযোগিতা
উচ্চমূল্যের এই ফোনটি
বাজারে কতটা সাড়া ফেলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে বাজার বিশ্লেষকদের একটি অংশ
অ্যাপলের প্রবেশকে ফোল্ডেবল স্মার্টফোন শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে
দেখছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ডেটা
করপোরেশন (আইডিসি) পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে
অ্যাপলের অংশ প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে এই বাজারে স্যামসাং ও
হুয়াওয়ের মতো নির্মাতারা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চীনের বাজারে হুয়াওয়ের
শক্ত অবস্থান অ্যাপলের জন্য বড় প্রতিযোগিতার কারণ হতে পারে।
একসঙ্গে আরও
পণ্য উন্মোচন
ফোল্ডেবল আইফোন ডুওয়ের
পাশাপাশি অ্যাপল আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে। মডেল
দুটির দাম শুরু হচ্ছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯৯ ও ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে।
এ ছাড়া নতুন এয়ারপডসের
দাম শুরু হয়েছে ১২৯ ডলার থেকে। অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ ও ওয়াচ আলট্রা ৪-এও স্বাস্থ্য
ও ফিটনেসকেন্দ্রিক নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ
নিঃসন্দেহে প্রতিযোগিতার মাত্রা বাড়াবে। এখন দেখার বিষয়, প্রায় দুই হাজার ডলারের
আইফোন ডুও গ্রাহকদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে এবং ফোল্ডেবল ফোনকে আরও বড় পরিসরে
মূলধারার বাজারে নিয়ে যেতে অ্যাপল কতটা সফল হয়।

আপনার মতামত লিখুন