বাগেরহাটের চিতলমারী ও ফকিরহাট সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া চিত্রা নদীর প্রবহমান পানিতে খাঁচায় মাছ চাষ স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রথাগত ঘের ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নদীর পানিতে ভাসমান খাঁচায় আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে নদীপাড়ের মানুষের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চিত্রা পাড়ের গোয়ালবাড়ি গ্রামের উদ্যমী চাষি গোপাল বিশ্বাস নদীর বুকে খাঁচায় মাছ চাষ করে পুরো এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি প্লাস্টিকের ড্রাম ও শক্ত নেট (জাল) ব্যবহার করে নদীতে ১০টি ভাসমান খাঁচা তৈরি করেছেন। এসব খাঁচায় তিনি বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন (অ্যাকুয়ারিয়াম) মাছের পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল বিদেশি জাতের তেলাপিয়া চাষ করছেন।
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে গোপাল বিশ্বাস জানান, ফকিরহাট উপজেলা মৎস্য অফিসের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তায় তিনি এই প্রকল্প শুরু করেন। নিয়মিত খাবার প্রদান ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সফলভাবে মাছ প্রতিপালন করা সম্ভব। বিশেষ করে তার উৎপাদিত রঙিন মাছের বেশ চাহিদা তৈরি হয়েছে। শখ করে বাসাবাড়িতে অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখার জন্য অনেকেই তার কাছ থেকে সুলভ মূল্যে এসব মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, প্রবহমান নদীতে প্রতিনিয়ত জোয়ার-ভাটা হওয়ার কারণে পানি দূষিত হওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না। ফলে ঠিকমতো পরিচর্যা করলে অল্প সময়েই ভালো লাভের মুখ দেখা সম্ভব।
স্থানীয় মৎস্যচাষি নদ রায় বলেন, ‘গোপাল বিশ্বাসের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। যাদের নিজস্ব জমি বা ঘের নেই, তারা খুব সহজেই সরকারি সহায়তায় নদীর প্রবহমান পানি ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এটি দেশের বেকার সমস্যা দূর করতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।’
চিতলমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আনসারী জানান, খাঁচায় মাছ চাষ নদীতীরবর্তী অসচ্ছল ও ভূমিহীন মানুষের জন্য বড় একটি সুযোগ। সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও ঋণসুবিধা আরও বাড়ানো হলে এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ উপকূলীয় এলাকার বেকারত্ব দূর করে মৎস্য উৎপাদনে বড় অবদান রাখবে।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাগেরহাটের চিতলমারী ও ফকিরহাট সীমানা দিয়ে বয়ে যাওয়া চিত্রা নদীর প্রবহমান পানিতে খাঁচায় মাছ চাষ স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রথাগত ঘের ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নদীর পানিতে ভাসমান খাঁচায় আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে নদীপাড়ের মানুষের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চিত্রা পাড়ের গোয়ালবাড়ি গ্রামের উদ্যমী চাষি গোপাল বিশ্বাস নদীর বুকে খাঁচায় মাছ চাষ করে পুরো এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি প্লাস্টিকের ড্রাম ও শক্ত নেট (জাল) ব্যবহার করে নদীতে ১০টি ভাসমান খাঁচা তৈরি করেছেন। এসব খাঁচায় তিনি বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন (অ্যাকুয়ারিয়াম) মাছের পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল বিদেশি জাতের তেলাপিয়া চাষ করছেন।
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে গোপাল বিশ্বাস জানান, ফকিরহাট উপজেলা মৎস্য অফিসের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তায় তিনি এই প্রকল্প শুরু করেন। নিয়মিত খাবার প্রদান ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সফলভাবে মাছ প্রতিপালন করা সম্ভব। বিশেষ করে তার উৎপাদিত রঙিন মাছের বেশ চাহিদা তৈরি হয়েছে। শখ করে বাসাবাড়িতে অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখার জন্য অনেকেই তার কাছ থেকে সুলভ মূল্যে এসব মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, প্রবহমান নদীতে প্রতিনিয়ত জোয়ার-ভাটা হওয়ার কারণে পানি দূষিত হওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না। ফলে ঠিকমতো পরিচর্যা করলে অল্প সময়েই ভালো লাভের মুখ দেখা সম্ভব।
স্থানীয় মৎস্যচাষি নদ রায় বলেন, ‘গোপাল বিশ্বাসের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। যাদের নিজস্ব জমি বা ঘের নেই, তারা খুব সহজেই সরকারি সহায়তায় নদীর প্রবহমান পানি ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এটি দেশের বেকার সমস্যা দূর করতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।’
চিতলমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আনসারী জানান, খাঁচায় মাছ চাষ নদীতীরবর্তী অসচ্ছল ও ভূমিহীন মানুষের জন্য বড় একটি সুযোগ। সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও ঋণসুবিধা আরও বাড়ানো হলে এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ উপকূলীয় এলাকার বেকারত্ব দূর করে মৎস্য উৎপাদনে বড় অবদান রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন