দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের সম্পদ সীমিত হওয়ায় আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রয়োজন ও সক্ষমতার মধ্যে সবসময় সঠিক সমন্বয় তৈরি করতে হবে। জনগণের সত্যিকারের সেবা প্রদান এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বিবেচনায় নিয়েই সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি কর্মকর্তারা হলেন জনগণের আমানত ও সম্পদের কাস্টোডিয়ান, এমন মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, শুধু দাপ্তরিক নথিপত্র বা কাগজে-কলমে পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বরং সেই গৃহীত পরিকল্পনার যথার্থ বাস্তবায়নই হলো সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা, সঠিক পরিকল্পনা এবং কাজের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী উদ্যোগে এলজিইডি দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সম্পূর্ণ নতুন ধারার সূচনা করেছিল, যার ফলে আজকের বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামোগত চিত্রে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমানে যেসব সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দেশের সাধারণ মানুষ তার অভাবনীয় সুফল ভোগ করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বহুগুণ বাড়াতে হবে। উৎপাদিত এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে একদিকে যেমন প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব, অন্যদিকে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয়ও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
তিনি সকল কর্মকর্তাকে নিজ নিজ দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের কড়া নির্দেশনা দেন।
গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে নতুন প্রযুক্তির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক নির্মাণে প্রথাগত ইটের ব্যবহার কমিয়ে এখন থেকে আধুনিক ইউনি ব্লক ও সিসি ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ছয় থেকে নয় ফুট প্রশস্ত ছোট সড়কগুলোতে ইটের পরিবর্তে এসব টেকসই উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি, ভারী যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রয়োজন অনুযায়ী আরসিসি বা কার্পেটিং এবং মানসম্মত দেশীয় পাথর ব্যবহারের ওপর তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন।
এছাড়া নদী তীরবর্তী এবং বন্যাপ্রবণ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর সড়কে মাটির ক্ষয়রোধে বিশেষ প্রজাতির ‘বিন্যা ঘাস’ রোপণ করার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং উপজেলা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের সম্পদ সীমিত হওয়ায় আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রয়োজন ও সক্ষমতার মধ্যে সবসময় সঠিক সমন্বয় তৈরি করতে হবে। জনগণের সত্যিকারের সেবা প্রদান এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বিবেচনায় নিয়েই সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি কর্মকর্তারা হলেন জনগণের আমানত ও সম্পদের কাস্টোডিয়ান, এমন মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, শুধু দাপ্তরিক নথিপত্র বা কাগজে-কলমে পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বরং সেই গৃহীত পরিকল্পনার যথার্থ বাস্তবায়নই হলো সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা, সঠিক পরিকল্পনা এবং কাজের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী উদ্যোগে এলজিইডি দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সম্পূর্ণ নতুন ধারার সূচনা করেছিল, যার ফলে আজকের বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামোগত চিত্রে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে বর্তমানে যেসব সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দেশের সাধারণ মানুষ তার অভাবনীয় সুফল ভোগ করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বহুগুণ বাড়াতে হবে। উৎপাদিত এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে একদিকে যেমন প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব, অন্যদিকে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয়ও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
তিনি সকল কর্মকর্তাকে নিজ নিজ দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের কড়া নির্দেশনা দেন।
গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে নতুন প্রযুক্তির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক নির্মাণে প্রথাগত ইটের ব্যবহার কমিয়ে এখন থেকে আধুনিক ইউনি ব্লক ও সিসি ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ছয় থেকে নয় ফুট প্রশস্ত ছোট সড়কগুলোতে ইটের পরিবর্তে এসব টেকসই উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি, ভারী যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রয়োজন অনুযায়ী আরসিসি বা কার্পেটিং এবং মানসম্মত দেশীয় পাথর ব্যবহারের ওপর তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন।
এছাড়া নদী তীরবর্তী এবং বন্যাপ্রবণ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর সড়কে মাটির ক্ষয়রোধে বিশেষ প্রজাতির ‘বিন্যা ঘাস’ রোপণ করার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং উপজেলা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন