সংবাদ

জিয়া পরিবারের চার দশকের আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের নতুন মাত্রা


শামীম রিজভী
শামীম রিজভী
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

জিয়া পরিবারের চার দশকের আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের নতুন মাত্রা

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মঞ্চে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের ঐতিহাসিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হতে চলেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। তার এই অভিষেক ভাষণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক কূটনৈতিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের সঙ্গে এই পরিবারের সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছিল বহু আগে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে প্রথম ভাষণ দিয়েছিলেন।

তার ঠিক তেরো বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর তার স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫, ২০০২ এবং ২০০৫ সালে জাতিসংঘের বিভিন্ন বিশেষ ও সাধারণ অধিবেশনে মোট পাঁচবার বক্তব্য রেখে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছিলেন তিনি। দীর্ঘ এই ধারাবাহিকতার পর ২০২৬ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণে সেই ঐতিহাসিক ধারায় যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, এবারের বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের সমসাময়িক অর্জন ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা এবং জলবায়ু অর্থায়ন আদায়ের বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে স্থান পাবে। পাশাপাশি দেশের নতুন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরবেন তিনি। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি এবারের সফরেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হবে।

এবারের জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাকর। কারণ বর্তমান অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আগামী ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্বনেতাদের নজর কাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশ এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সফল কূটনৈতিক ধারাবাহিকতার পর, ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক সফলতার মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করবে বলেই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জিয়া পরিবারের চার দশকের আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের নতুন মাত্রা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মঞ্চে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের ঐতিহাসিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হতে চলেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। তার এই অভিষেক ভাষণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক কূটনৈতিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের সঙ্গে এই পরিবারের সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছিল বহু আগে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে প্রথম ভাষণ দিয়েছিলেন।

তার ঠিক তেরো বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর তার স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫, ২০০২ এবং ২০০৫ সালে জাতিসংঘের বিভিন্ন বিশেষ ও সাধারণ অধিবেশনে মোট পাঁচবার বক্তব্য রেখে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছিলেন তিনি। দীর্ঘ এই ধারাবাহিকতার পর ২০২৬ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণে সেই ঐতিহাসিক ধারায় যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, এবারের বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের সমসাময়িক অর্জন ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা এবং জলবায়ু অর্থায়ন আদায়ের বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে স্থান পাবে। পাশাপাশি দেশের নতুন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরবেন তিনি। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি এবারের সফরেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হবে।

এবারের জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাকর। কারণ বর্তমান অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আগামী ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্বনেতাদের নজর কাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশ এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সফল কূটনৈতিক ধারাবাহিকতার পর, ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক সফলতার মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করবে বলেই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল মনে করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত