সংবাদ

নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ, ১ জুলাই থেকে কার্যকর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ, ১ জুলাই থেকে কার্যকর
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার কাঠামো কার্যকর করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে জারি করা আদেশটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার এ আদেশ জারি করেছে।

নতুন বেতনকাঠামো গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে নতুন মূল বেতনের পুরোটা একবারে পাচ্ছেন না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গ্রেডভেদে ধাপে ধাপে বর্ধিত অংশ যোগ হবে। এর ফলে জুলাই থেকে গেজেট জারির আগপর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য অর্থও বকেয়া হিসেবে পাবেন তারা।

গেজেট অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন বর্ধিত অংশের ৫০ শতাংশ। ওই অর্থ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত বা প্রাপ্য মূল বেতনের সঙ্গে যোগ হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের জন্য বর্ধিত অংশের মোট ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য মোট ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন মূল বেতনের শতভাগ দেওয়া হবে।

প্রথম ছয় মাসে তুলনামূলক কম বেতনের কর্মচারীদের জন্য বর্ধিত অংশের অর্ধেক কার্যকর হচ্ছে। আর উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তা ৪০ শতাংশ। পরের বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপ এবং জুলাইয়ে গিয়ে নতুন মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হবে।

নতুন বেতনকাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে গ্রেডভেদে মূল বেতন বৃদ্ধির হার প্রায় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ।

তবে মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হলেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব, বাংলা নববর্ষসহ অন্যান্য ভাতার নতুন হার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে না। গেজেট অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত এসব ভাতা বিদ্যমান হারে দেওয়া হবে। ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত হারে ভাতা কার্যকর হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বাস্তবায়ন কাঠামোতেও একই সময়সূচি রাখা হয়েছিল।

নতুন কাঠামোর সঙ্গে পেনশনভোগীদের সুবিধাও ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হচ্ছে। গেজেটে নিট পেনশনের স্তর অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে বর্ধিত অংশের ৪০ বা ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৭০ বা ৭৫ শতাংশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে তাদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো অনুযায়ী পূর্ণ নিট পেনশন কার্যকর হবে।

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের দেওয়া আগের ‘বিশেষ সুবিধা’ বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। ১ জুলাই থেকে গেজেট জারির সময় পর্যন্ত কেউ ওই বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকলে তা নতুন বেতনকাঠামোর অধীনে প্রাপ্য বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হয়। অনুমোদিত কাঠামোতে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের জন্য ৪০, ৩০ ও ৩০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৫০, ২৫ ও ২৫ শতাংশ হারে তিন ধাপে বর্ধিত মূল বেতন কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রায় এক যুগ পর নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও আর্থিক প্রভাব পর্যালোচনা শেষে সরকার ধাপে ধাপে নতুন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয়।

সংক্ষেপে বাস্তবায়নের সময়সূচি: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম–নবম গ্রেডে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ ও ১০ম–২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ; ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে যথাক্রমে মোট ৭০ ও ৭৫ শতাংশ; ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন মূল বেতনের শতভাগ এবং ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন হারে অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ, ১ জুলাই থেকে কার্যকর

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার কাঠামো কার্যকর করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে জারি করা আদেশটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ১৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার এ আদেশ জারি করেছে।

নতুন বেতনকাঠামো গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে নতুন মূল বেতনের পুরোটা একবারে পাচ্ছেন না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গ্রেডভেদে ধাপে ধাপে বর্ধিত অংশ যোগ হবে। এর ফলে জুলাই থেকে গেজেট জারির আগপর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য অর্থও বকেয়া হিসেবে পাবেন তারা।

গেজেট অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন বর্ধিত অংশের ৫০ শতাংশ। ওই অর্থ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত বা প্রাপ্য মূল বেতনের সঙ্গে যোগ হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের জন্য বর্ধিত অংশের মোট ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য মোট ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন মূল বেতনের শতভাগ দেওয়া হবে।

প্রথম ছয় মাসে তুলনামূলক কম বেতনের কর্মচারীদের জন্য বর্ধিত অংশের অর্ধেক কার্যকর হচ্ছে। আর উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তা ৪০ শতাংশ। পরের বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপ এবং জুলাইয়ে গিয়ে নতুন মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হবে।

নতুন বেতনকাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে গ্রেডভেদে মূল বেতন বৃদ্ধির হার প্রায় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ।

তবে মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হলেও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব, বাংলা নববর্ষসহ অন্যান্য ভাতার নতুন হার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে না। গেজেট অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত এসব ভাতা বিদ্যমান হারে দেওয়া হবে। ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত হারে ভাতা কার্যকর হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বাস্তবায়ন কাঠামোতেও একই সময়সূচি রাখা হয়েছিল।

নতুন কাঠামোর সঙ্গে পেনশনভোগীদের সুবিধাও ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হচ্ছে। গেজেটে নিট পেনশনের স্তর অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে বর্ধিত অংশের ৪০ বা ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৭০ বা ৭৫ শতাংশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে তাদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো অনুযায়ী পূর্ণ নিট পেনশন কার্যকর হবে।

জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের দেওয়া আগের ‘বিশেষ সুবিধা’ বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। ১ জুলাই থেকে গেজেট জারির সময় পর্যন্ত কেউ ওই বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকলে তা নতুন বেতনকাঠামোর অধীনে প্রাপ্য বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হয়। অনুমোদিত কাঠামোতে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের জন্য ৪০, ৩০ ও ৩০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৫০, ২৫ ও ২৫ শতাংশ হারে তিন ধাপে বর্ধিত মূল বেতন কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রায় এক যুগ পর নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও আর্থিক প্রভাব পর্যালোচনা শেষে সরকার ধাপে ধাপে নতুন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয়।

সংক্ষেপে বাস্তবায়নের সময়সূচি: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম–নবম গ্রেডে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ ও ১০ম–২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ; ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে যথাক্রমে মোট ৭০ ও ৭৫ শতাংশ; ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন মূল বেতনের শতভাগ এবং ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন হারে অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত