সংবাদ

১০ কোটির সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, ঠিকাদারকে শোকজ


প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

১০ কোটির সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, ঠিকাদারকে শোকজ
ছবি : সংবাদ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ ওঠার পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয় দুটি নিশ্চিত করেছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। আগামী এক কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)’ নামের একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে কাজ বন্ধ রাখা হয়। এ সময় অনেকে মুঠোফোনে ধারণ করা কাজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তবে স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর রাতের আঁধারেই ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ ও অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই আবার নতুন করে সঠিকভাবে কাজ করা হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গাফিলতির জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশসহ কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।’

অন্যদিকে ইউএনও মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে গঠিত তদন্ত কমিটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য করা হয়েছে বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে। ইউএনও বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১০ কোটির সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, ঠিকাদারকে শোকজ

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ ওঠার পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয় দুটি নিশ্চিত করেছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। আগামী এক কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)’ নামের একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে কাজ বন্ধ রাখা হয়। এ সময় অনেকে মুঠোফোনে ধারণ করা কাজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তবে স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর রাতের আঁধারেই ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ ও অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই আবার নতুন করে সঠিকভাবে কাজ করা হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গাফিলতির জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশসহ কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।’

অন্যদিকে ইউএনও মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে গঠিত তদন্ত কমিটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য করা হয়েছে বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে। ইউএনও বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত