জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে সংস্থাটিতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছে 'জি৪' জোটের অন্তর্ভুক্ত চার দেশ–ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান। দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, দীর্ঘ ৮০ বছরের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জি৪ জোটের পররাষ্ট্রমণ্ডলীর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ডেভিড ওয়াডেফুল এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎসু সরাসরি অংশ নেন। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জোটটি জানায়, বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও জটিল বাস্তবতা মোকাবিলায় ১৯৪৫ সালের জাতিসংঘ সনদের আলোকে গঠিত নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দ্রুততম সময়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী–উভয় ক্যাটাগরিতেই আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বিশ্বমঞ্চের আসল রাজনৈতিক সক্ষমতাকে প্রতিফলিত করার কোনো বিকল্প নেই।
জি৪ জোটের মতে, বর্তমান পরিষদে আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকার মতো বিশাল ভৌগোলিক জনপদের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নেই। তাই নতুন সংস্কার প্রস্তাবে আফ্রিকার জন্য স্থায়ী আসন বরাদ্দসহ অনগ্রসর অঞ্চলগুলোর স্থায়ী ও সর্বজনীন প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে গত ১৮ বছর ধরে জাতিসংঘের আন্তঃসরকারি আলোচনা (আইজিএন) কোনো কাঙ্ক্ষিত ও কার্যকর ফলাফলে পৌঁছাতে না পারায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জোটটি। তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, সংস্কার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রতিটি দেশের শতভাগ সর্বসম্মত বা সর্বসম্মত ঐকমত্যের অজুহাত দেখিয়ে এই প্রক্রিয়াকে আর ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। সিংহভাগ সদস্য দেশের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী একটি সমন্বিত খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে লিখিত আলোচনা শুরু করাই এখন মূল অগ্রাধিকার।
বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে জোরদার করতে চার দেশ একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। একই সময়ে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ডেভিড ওয়াডেফুল জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে নিজেদের মধ্যে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে জোটটি। পরবর্তীতে ভারতের নয়াদিল্লিতে মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে এই সংস্কার উদ্যোগের সার্বিক অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হবে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে সংস্থাটিতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছে 'জি৪' জোটের অন্তর্ভুক্ত চার দেশ–ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান। দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, দীর্ঘ ৮০ বছরের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জি৪ জোটের পররাষ্ট্রমণ্ডলীর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ডেভিড ওয়াডেফুল এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎসু সরাসরি অংশ নেন। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জোটটি জানায়, বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও জটিল বাস্তবতা মোকাবিলায় ১৯৪৫ সালের জাতিসংঘ সনদের আলোকে গঠিত নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দ্রুততম সময়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী–উভয় ক্যাটাগরিতেই আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বিশ্বমঞ্চের আসল রাজনৈতিক সক্ষমতাকে প্রতিফলিত করার কোনো বিকল্প নেই।
জি৪ জোটের মতে, বর্তমান পরিষদে আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকার মতো বিশাল ভৌগোলিক জনপদের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নেই। তাই নতুন সংস্কার প্রস্তাবে আফ্রিকার জন্য স্থায়ী আসন বরাদ্দসহ অনগ্রসর অঞ্চলগুলোর স্থায়ী ও সর্বজনীন প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে গত ১৮ বছর ধরে জাতিসংঘের আন্তঃসরকারি আলোচনা (আইজিএন) কোনো কাঙ্ক্ষিত ও কার্যকর ফলাফলে পৌঁছাতে না পারায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জোটটি। তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, সংস্কার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রতিটি দেশের শতভাগ সর্বসম্মত বা সর্বসম্মত ঐকমত্যের অজুহাত দেখিয়ে এই প্রক্রিয়াকে আর ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। সিংহভাগ সদস্য দেশের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী একটি সমন্বিত খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে লিখিত আলোচনা শুরু করাই এখন মূল অগ্রাধিকার।
বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে জোরদার করতে চার দেশ একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। একই সময়ে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ডেভিড ওয়াডেফুল জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে নিজেদের মধ্যে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে জোটটি। পরবর্তীতে ভারতের নয়াদিল্লিতে মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে এই সংস্কার উদ্যোগের সার্বিক অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন