সংবাদ

লাভ দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের, লোকসান খামারির


হাবিবুর রহমান স্বপন, পাবনা
হাবিবুর রহমান স্বপন, পাবনা
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

লাভ দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের, লোকসান খামারির
ছবি : সংবাদ

গবাদিপশুতে সমৃদ্ধ পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের খামারি ও চাষিরা উৎপাদিত দুধের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমবায়ী ও বেসরকারি দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বেঁধে দেওয়া দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে ক্রমাগত লোকসান গুনে অনেক খামারি গাভি বিক্রি করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লিটারে মোটা অঙ্কের মুনাফা লুটছে বলে অভিযোগ চাষিদের।

খামারিদের সূত্রে জানা যায়, সমবায়ী ও বেসরকারি দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাছ থেকে প্রতি লিটার তরল দুধ বোনাসসহ ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় কেনে। এরপর সেই দুধ থেকে মাখন বা ফ্যাট আলাদা করে নেওয়া হয়। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর সেই তরল দুধ প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হয় প্রতি লিটার ৯৫ টাকায় (ভোক্তা পর্যায়ে যা ১০০ থেকে ১০৫ টাকা)। এ ছাড়া তুলে নেওয়া ফ্যাট থেকে তৈরি হয় ঘি। খামারিদের দাবি, এক লিটার দুধের ফ্যাট থেকে প্রায় ৬০ টাকার ঘি উৎপাদিত হয়। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লিটার দুধ ও মাখন বেচে প্রায় ১৫৫ টাকা পায়, যেখানে তাদের কেনা দাম ও খরচ বাদ দিয়ে লিটারপ্রতি অর্ধেকেরও বেশি টাকা লাভ থাকছে।

বাঘাবাড়ির খামারি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘মিঙ্কভিটা দুধে ফ্যাটের পরিমাণ মেপে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা দাম দেয়। খোলাবাজারে এই দুধ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আমার খামারে শতাধিক গাভি ছিল। লোকসান বইতে না পেরে সব বিক্রি করে দিয়েছি, এখন মাত্র ৩টি গাভি আছে। আগে আমার সমিতি থেকে প্রতিদিন ৪৩-৪৪ ক্যান (প্রতি ক্যানে ৪০ লিটার) দুধ সরবরাহ করা হতো, এখন তা নেমে এসেছে ৩-৪ ক্যানে।’

পাবনা ও সিরাজগঞ্জের খোলাবাজারে বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হলেও অধিকাংশ খামারি অগ্রিম দাদন নেওয়া ও চুক্তিবদ্ধ থাকায় প্রক্রিয়াজাতকারী সংস্থাকে কম দামে দুধ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ওপর প্রতি বস্তা গো-খাদ্যের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে অনেকে গরুর খামার বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই দুই জেলায় প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে বাঘাবাড়ি মিল্কভিটা, প্রাণ ডেইরি, আফতাব, আকিজ, ব্র্যাকসহ প্রায় ২০টি বেসরকারি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ঘোষ ও মিষ্টির দোকানগুলো মিলে কয়েক লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করে।

এ বিষয়ে সরকারি দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী সমবায় প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার পরিচালনা কমিটির সাবেক পরিচালক নজরুল ইসলাম আকন্দ (যিনি নিজেও একজন খামারি) জানান, বারবার গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় ডেইরি শিল্প এখন চরম হুমকির মুখে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে খামারি পর্যায়ে লিটারপ্রতি দুধের দাম অন্তত ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়ানো জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লাভ দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের, লোকসান খামারির

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গবাদিপশুতে সমৃদ্ধ পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের খামারি ও চাষিরা উৎপাদিত দুধের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমবায়ী ও বেসরকারি দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বেঁধে দেওয়া দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে ক্রমাগত লোকসান গুনে অনেক খামারি গাভি বিক্রি করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লিটারে মোটা অঙ্কের মুনাফা লুটছে বলে অভিযোগ চাষিদের।

খামারিদের সূত্রে জানা যায়, সমবায়ী ও বেসরকারি দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাছ থেকে প্রতি লিটার তরল দুধ বোনাসসহ ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় কেনে। এরপর সেই দুধ থেকে মাখন বা ফ্যাট আলাদা করে নেওয়া হয়। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর সেই তরল দুধ প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হয় প্রতি লিটার ৯৫ টাকায় (ভোক্তা পর্যায়ে যা ১০০ থেকে ১০৫ টাকা)। এ ছাড়া তুলে নেওয়া ফ্যাট থেকে তৈরি হয় ঘি। খামারিদের দাবি, এক লিটার দুধের ফ্যাট থেকে প্রায় ৬০ টাকার ঘি উৎপাদিত হয়। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লিটার দুধ ও মাখন বেচে প্রায় ১৫৫ টাকা পায়, যেখানে তাদের কেনা দাম ও খরচ বাদ দিয়ে লিটারপ্রতি অর্ধেকেরও বেশি টাকা লাভ থাকছে।

বাঘাবাড়ির খামারি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘মিঙ্কভিটা দুধে ফ্যাটের পরিমাণ মেপে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা দাম দেয়। খোলাবাজারে এই দুধ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আমার খামারে শতাধিক গাভি ছিল। লোকসান বইতে না পেরে সব বিক্রি করে দিয়েছি, এখন মাত্র ৩টি গাভি আছে। আগে আমার সমিতি থেকে প্রতিদিন ৪৩-৪৪ ক্যান (প্রতি ক্যানে ৪০ লিটার) দুধ সরবরাহ করা হতো, এখন তা নেমে এসেছে ৩-৪ ক্যানে।’

পাবনা ও সিরাজগঞ্জের খোলাবাজারে বর্তমানে প্রতি লিটার দুধ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হলেও অধিকাংশ খামারি অগ্রিম দাদন নেওয়া ও চুক্তিবদ্ধ থাকায় প্রক্রিয়াজাতকারী সংস্থাকে কম দামে দুধ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ওপর প্রতি বস্তা গো-খাদ্যের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে অনেকে গরুর খামার বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই দুই জেলায় প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে বাঘাবাড়ি মিল্কভিটা, প্রাণ ডেইরি, আফতাব, আকিজ, ব্র্যাকসহ প্রায় ২০টি বেসরকারি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ঘোষ ও মিষ্টির দোকানগুলো মিলে কয়েক লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করে।

এ বিষয়ে সরকারি দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী সমবায় প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার পরিচালনা কমিটির সাবেক পরিচালক নজরুল ইসলাম আকন্দ (যিনি নিজেও একজন খামারি) জানান, বারবার গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় ডেইরি শিল্প এখন চরম হুমকির মুখে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে খামারি পর্যায়ে লিটারপ্রতি দুধের দাম অন্তত ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়ানো জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত