সবজি উৎপাদনের জন্য খ্যাত যশোরে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে কচুর লতি চাষ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রচলিত সবজি চাষের পাশাপাশি কৃষকেরা এখন ঝুঁকছেন লাভজনক এই ফসলের দিকে। কম খরচে ভালো লাভ এবং দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়া যাওয়ায় অনেক কৃষক ধান চাষ ছেড়ে বিকল্প হিসেবে লতি চাষকে বেছে নিচ্ছেন।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে জেলায় মোট ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কচুর লতি চাষ করা হয়েছে। শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, বাঘারপাড়া, মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে এখন লতির সবুজ সমারোহ। উৎপাদিত এসব লতি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারদের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পুলের হাট বাজারে প্রতিদিন ভোরে জমে ওঠে কচুর লতির বেচাকেনা। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু এই হাট থেকেই প্রতিদিন কয়েক হাজার মণ লতি ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। এ ছাড়া চুরামনকাটি, সাতমাইল, চৌগাছা ও বাঁকড়া হাটেও চলে বেচাকেনা।
শার্শা উপজেলার ডিহি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ৪৫ শতক জমিতে লতি চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকার লতি বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়েও ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকছে। কম সময়ে এত কম খরচে অন্য কোনো ফসল থেকে এত আয় করা সম্ভব নয়।’
একই গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ধানের বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে তিনি লতি চাষ শুরু করেছিলেন। প্রথম বছরেই ভালো লাভ পাওয়ায় এখন পুরোদমে লতি চাষ করছেন।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, মাটির উপযোগিতা প্রমাণিত হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে লতির আবাদ দ্রুত বাড়ছে। কৃষকদের সুষম সার ব্যবহার ও সঠিক পরিচর্যায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আবুল হাসান বলেন, উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে জেলায় লতির ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ভালো দাম ও চাহিদা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে এই চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সবজি উৎপাদনের জন্য খ্যাত যশোরে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে কচুর লতি চাষ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রচলিত সবজি চাষের পাশাপাশি কৃষকেরা এখন ঝুঁকছেন লাভজনক এই ফসলের দিকে। কম খরচে ভালো লাভ এবং দীর্ঘ সময় ধরে ফলন পাওয়া যাওয়ায় অনেক কৃষক ধান চাষ ছেড়ে বিকল্প হিসেবে লতি চাষকে বেছে নিচ্ছেন।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে জেলায় মোট ৬ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কচুর লতি চাষ করা হয়েছে। শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, বাঘারপাড়া, মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে এখন লতির সবুজ সমারোহ। উৎপাদিত এসব লতি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারদের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পুলের হাট বাজারে প্রতিদিন ভোরে জমে ওঠে কচুর লতির বেচাকেনা। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু এই হাট থেকেই প্রতিদিন কয়েক হাজার মণ লতি ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। এ ছাড়া চুরামনকাটি, সাতমাইল, চৌগাছা ও বাঁকড়া হাটেও চলে বেচাকেনা।
শার্শা উপজেলার ডিহি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ৪৫ শতক জমিতে লতি চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকার লতি বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়েও ৬০ হাজার টাকা লাভ থাকছে। কম সময়ে এত কম খরচে অন্য কোনো ফসল থেকে এত আয় করা সম্ভব নয়।’
একই গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ধানের বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে তিনি লতি চাষ শুরু করেছিলেন। প্রথম বছরেই ভালো লাভ পাওয়ায় এখন পুরোদমে লতি চাষ করছেন।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, মাটির উপযোগিতা প্রমাণিত হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে লতির আবাদ দ্রুত বাড়ছে। কৃষকদের সুষম সার ব্যবহার ও সঠিক পরিচর্যায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আবুল হাসান বলেন, উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে জেলায় লতির ফলন বেশ ভালো হয়েছে। ভালো দাম ও চাহিদা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে এই চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।

আপনার মতামত লিখুন