কুমিল্লার মেঘনায় ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে দুই দিন পর তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের প্রধান হেলাল উদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুই দফায় তিনজনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজনদের গগনবিদীর্ণ আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস ও প্রকৃতি। নিহত সজিব হোসেনের সহপাঠীরা মাটি চাপড়ে বিলাপ করতে থাকেন। যা উপস্থিত প্রত্যেকের চোখ ভিজিয়ে তোলে। বন্ধুর শোকে কলেজজীবনের সহপাঠী ও প্রতিবেশী খেলার সাথীরা স্মৃতি হাতড়ে বিলাপ করছেন।
নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের পরিবারের চার সদস্যের সলিল সমাধির ফলে জলের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে ফেরা শিরিনা আক্তার প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ের লাশের পাশে বারবার মুর্ছা যান তিনি।
শিরিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী এখনো নিখোঁজ। আমার পরাণের ধন দুই ছেলেকে দাফন করেছি, মেয়েকেও স্বামীর বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। আমার পৃথিবীতে আর কেউ রইল না। আপনারা যদি আমার স্বামীকে উদ্ধার করে দেন, দশ বাপ-ভাইয়েরা যদি আমার সহযোগী হন, তবেই আমি বেঁচে থাকতে পারব।’
তিনি পরিবারের স্বজনদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান। বেঁচে ফেরা একমাত্র মেয়ে লামিয়াকে (৬) একটি কাঠের টুকরো ধরে রাখতে বলে শিরিনা আক্তার বলেন, ‘মায়ের কাপড় আর এই কাঠের টুকরো ধরে থাকো। মা বাঁচলে তুমিও বাঁচবা।’ এভাবেই মায়ের কাপড় ধরে তীরে ভিড়ে বেঁচে যায় লামিয়া।
শ্রীমদ্ধি গ্রামের তরুণ সমাজসেবক মো. কাউসার আহমেদ জানান, হেলাল মিয়া কৃষিকাজ ও অটোচালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি পিতাকে সহযোগিতা করতেন তার বড় ছেলে সজিব। বর্তমানে পরিবারটি বিরাট ক্ষতির মুখে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
হেলাল উদ্দিনের পরিবারের এক আত্মীয় ফিরোজ মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শ্রীমদ্ধি গাঙ্গকুল বাড়ির ঘাট থেকে ট্রলারযোগে সোনারগাঁও বৈদ্যারবাজার হারিয়া গ্রামে এক আত্মীয়ের বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন হেলাল মিয়ার পরিবারের ছয়জনসহ আরও সাতজন আত্মীয়।
ট্রলারডুবির ঘটনায় হেলালের স্ত্রী শিরিনা আক্তার ও মেয়ে লামিয়াসহ নয়জন তীরে ভিড়ে প্রাণে বেঁচে ফেরেন। তবে এদের মধ্যে হেলালের জেঠশাশুড়ি বাঞ্ছারামপুরের কালিকাপুর গ্রামের রায়েসা বেগমকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। এরপর থেকেই হেলাল উদ্দিনসহ তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন।
শনিবার সকাল সাতটার দিকে হেলাল উদ্দিনের মেয়ে সামিয়ার (১৭) লাশ আসে। স্বামীর বাড়ি কালিকাপুরে তাকে দাফন করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সজিব হোসেন (২৪) ও শামিন হোসেনের (৫) মরদেহ শ্রীমদ্ধি গ্রামে পৌঁছায়। জানাজা শেষে শ্রীমদ্ধি চরেরগাঁও কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুমিল্লার মেঘনায় ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে দুই দিন পর তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের প্রধান হেলাল উদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুই দফায় তিনজনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজনদের গগনবিদীর্ণ আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস ও প্রকৃতি। নিহত সজিব হোসেনের সহপাঠীরা মাটি চাপড়ে বিলাপ করতে থাকেন। যা উপস্থিত প্রত্যেকের চোখ ভিজিয়ে তোলে। বন্ধুর শোকে কলেজজীবনের সহপাঠী ও প্রতিবেশী খেলার সাথীরা স্মৃতি হাতড়ে বিলাপ করছেন।
নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের পরিবারের চার সদস্যের সলিল সমাধির ফলে জলের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে ফেরা শিরিনা আক্তার প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ের লাশের পাশে বারবার মুর্ছা যান তিনি।
শিরিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী এখনো নিখোঁজ। আমার পরাণের ধন দুই ছেলেকে দাফন করেছি, মেয়েকেও স্বামীর বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। আমার পৃথিবীতে আর কেউ রইল না। আপনারা যদি আমার স্বামীকে উদ্ধার করে দেন, দশ বাপ-ভাইয়েরা যদি আমার সহযোগী হন, তবেই আমি বেঁচে থাকতে পারব।’
তিনি পরিবারের স্বজনদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান। বেঁচে ফেরা একমাত্র মেয়ে লামিয়াকে (৬) একটি কাঠের টুকরো ধরে রাখতে বলে শিরিনা আক্তার বলেন, ‘মায়ের কাপড় আর এই কাঠের টুকরো ধরে থাকো। মা বাঁচলে তুমিও বাঁচবা।’ এভাবেই মায়ের কাপড় ধরে তীরে ভিড়ে বেঁচে যায় লামিয়া।
শ্রীমদ্ধি গ্রামের তরুণ সমাজসেবক মো. কাউসার আহমেদ জানান, হেলাল মিয়া কৃষিকাজ ও অটোচালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি পিতাকে সহযোগিতা করতেন তার বড় ছেলে সজিব। বর্তমানে পরিবারটি বিরাট ক্ষতির মুখে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
হেলাল উদ্দিনের পরিবারের এক আত্মীয় ফিরোজ মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শ্রীমদ্ধি গাঙ্গকুল বাড়ির ঘাট থেকে ট্রলারযোগে সোনারগাঁও বৈদ্যারবাজার হারিয়া গ্রামে এক আত্মীয়ের বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন হেলাল মিয়ার পরিবারের ছয়জনসহ আরও সাতজন আত্মীয়।
ট্রলারডুবির ঘটনায় হেলালের স্ত্রী শিরিনা আক্তার ও মেয়ে লামিয়াসহ নয়জন তীরে ভিড়ে প্রাণে বেঁচে ফেরেন। তবে এদের মধ্যে হেলালের জেঠশাশুড়ি বাঞ্ছারামপুরের কালিকাপুর গ্রামের রায়েসা বেগমকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। এরপর থেকেই হেলাল উদ্দিনসহ তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন।
শনিবার সকাল সাতটার দিকে হেলাল উদ্দিনের মেয়ে সামিয়ার (১৭) লাশ আসে। স্বামীর বাড়ি কালিকাপুরে তাকে দাফন করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সজিব হোসেন (২৪) ও শামিন হোসেনের (৫) মরদেহ শ্রীমদ্ধি গ্রামে পৌঁছায়। জানাজা শেষে শ্রীমদ্ধি চরেরগাঁও কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন