ডক্টর আহসান এইচ মনসুর। একজন অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর। দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং খাত ও গভর্নরের দায়িত্ব থেকে অপসারণ নিয়ে তার সঙ্গে আলাপ করেছেন সংবাদ-এর বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদ। আলাপচারিতাটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
রাশেদ আহমেদ: আপনি তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সারাদেশ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। মানুষ একটি নতুন সরকারকে বাছাই করবে। সেই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার একটি বাণিজ্য চুক্তি করল, যে চুক্তি নিয়ে নানা কথা। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ট্রাম্পের সেই ক্ষমতা খারিজ করে দিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে বিএনপি সরকার এসে, সেটি বহাল রেখেছে এবং সেখানে বিলিয়ন ডলার খরচ করছে কেনাবেচা নিয়ে। এটি বর্তমান সরকারের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করা কিনা?
আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, বর্তমানে যেটা, মানে ট্রাম্প গভর্নমেন্টের সময়ে যে জিনিসটা হয়েছে যে, বাণিজ্যনীতিতে বিশাল পরিবর্তন এনেছে মার্কিন সরকার। এবং সেটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। আপনি পৃথিবীর যেকোনো দেশেই তাকান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মতো একটা বড় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যেখানে একুশটা দেশ একসাথে আছে, তাদেরও কিন্তু চুক্তি করতে হয়েছে। সে চুক্তি কিন্তু এখনো বলবৎ আছে। ওই যে কোর্ট যেটি করেছে, শুধু ট্যারিফটাকে নালিফাইড করে দিয়েছে, কিন্তু বাণিজ্য চুক্তি ইজ... ইজ বাইল্যাটারাল। এখানে কোর্টের কোনো... বিধিনিষেধ নেই, কোনো মামলাও হয় নাই এবং সেটা নিয়ে কোনো রায়ও হওয়ার কথা নয়। তো সেটা বলবৎ আছে সবার সাথেই। এখন জিনিসটা হচ্ছে যে, দুটো জিনিস, সরকারের পক্ষে... যে জিনিসটা হয়েছিল যে, আমরা ডিলটা কীরকম পেয়েছিলাম? আপেক্ষিক, সবই আপেক্ষিক। আমরা কোনো সময়ই চাই নাই এই ধরনের কোনো ডিলে যেতে। কিন্তু এই ডিলটা না করে কোনো উপায় ছিল? ভারতের কোনো উপায় ছিল? ভারতও তো ডিল করেছে। ভারত আরও খারাপ ডিল করেছে আমাদের চাইতে। অন্যান্য দেশের কথাই ধরি, বেশিরভাগ দেশেই কিন্তু আপেক্ষিকভাবে আমরা ভালো ট্যারিফ রিডাকশন পেয়েছিলাম এবং বেশ কিছু বাণিজ্য সুবিধাও পেয়েছিলাম সেখানে। যেমন মার্কিন তুলো আমদানি করলে পরে, সেই তুলো দিয়ে যদি কাপড় তৈরি করে পোশাক পাঠানো হয় সেটার ওপর শুল্ক থাকবে না। তো একটা বড় সুবিধা আমাদের জন্য। সেটার ভিত্তিতে এখন ওয়্যারহাউস হচ্ছে, সেখানে মার্কিন তুলো এনে ওয়্যারহাউসে রাখা হবে, যাতে সময় কম লাগে, খুব তাড়াতাড়ি মার্কিন তুলো আমরা পেয়ে যেতে পারি, ভারতীয় তুলোর ওপর আমাদের ডিপেন্ডেন্সি কমে যাবে তখন। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, হয়তো অনেকেই ক্রিটিসাইজ করেন যে, বোয়িং বিমান কেনা হচ্ছে। আমরা ১৬টা, ১৪টা বোয়িং বিমানের কথা দিয়েছিলাম। ভালো কথা। চীন কতগুলো দিয়েছে? ২০০টা। কোরিয়া... কোরিয়া কী দিয়েছে? কোরিয়া বলেছে তারা ৪০০ গুডস কিনবে ৫০০ বিলিয়ন ডলার দিয়ে। জাপান দিয়েছে ট্রিলিয়ন ডলারে, সৌদি আরব দিয়েছে ট্রিলিয়ন ডলারে। তাহলে আমরা কে? আমরা তো ছোট দেশ।
রাশেদ আহমেদ: মালয়েশিয়া বেরিয়ে গেছে, এই চুক্তি থেকে।
আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, চুক্তি থেকে আমরা এখনো বেরিয়ে যেতে পারি।
রাশেদ আহমেদ: সম্ভব?
আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ, সম্ভব। সরকার যদি চায় সম্ভব। কিন্তু কথা হলো যে ‘দেয়ার উইল বি কস্ট’। সরকারকে বুঝতে হবে যে চুক্তি থেকে বের হয়ে গেলে মার্কিন সরকার কী করবে সেটা বুঝেই তো করতে হবে। আমার ক্ষতি বেশি হবে, না আমার ক্ষতি কম হবে চুক্তি থেকে বের হয়ে গেলে? চুক্তি যেকোনো সময় যেকোনো পক্ষ বের হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বিফোর ইউ ডু ইট, আমাকে অবশ্যই চিন্তা করতে হবে যে এই... বের হয়ে গেলে আপেক্ষিকভাবে আমি কি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবো, নাকি কম... আমার লাভ... আমি লাভবান হবো? এটা যার যার ক্ষেত্রে, ক্ষেত্রবিশেষে এটা প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তার লাভ-ক্ষতির পরিমাণ ভিন্ন। সে বিভিন্ন সরকার বিভিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তার মানে একটা সরকার বের হয়ে গেছে বলে আর সবাইকে বের হয়ে যেতে হবে তা তো নয়। চীন তো কোনো চুক্তি ওভাবে করে নাই, কিন্তু চীন কিন্তু সেপারেট একটা চুক্তি করেছে। চুক্তি করেছে, আলাদাভাবেও করেছে। এবং নিজস্ব শক্তি দিয়ে তারা মোকাবেলা করে তারা ভালো একটা টার্মসে আসছে। তাদের সেই সক্ষমতা আছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তো পারে নাই। কানাডার তো অবস্থা দেখছেন। তো আমরা কি কানাডার মতো ফাইট করতে যাবো? সেটা কি আমাদের উচিত হবে? এগুলো ভাবতে হবে। তবে যাই হোক এটা আমি মনে করি যে, পুরো জিনিসটাই নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয় মার্কিন সরকারের, কিন্তু তারা ছোট দেশ বা অন্য সব... সকল দেশের উপরে এটা এককভাবেই চাপিয়ে দিয়েছে বলতে হবে। এটা দুঃখজনক হলেও এটা বাস্তবতা।
রাশেদ আহমেদ: আমাদের সুদূরপ্রসারী অনেক ক্ষতি হবে এটি অনেকেই বলছেন। বর্তমানে যারা সমালোচনা করছেন, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের যারা উপদেষ্টা ছিলেন তাদেরও কেউ কেউ বলছেন, যেমন ফরিদা আক্তার।
আহসান এইচ মনসুর: বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন মত থাকতেই পারে। সরকারের মধ্যেও মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু সরকার একটা ইউনিফাইড ডিসিশনই নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সিদ্ধান্তটার দুটো ডাইমেনশন ছিল। একটা হলো যে, আমরা যদি তাড়াতাড়ি তখন ডিলটা করতাম, আমরা হয়তো একটা ভালো ডিল পেয়েছিলাম। নইলে আরও খারাপ কিছু পেতে পারতাম, হয়তো ডাবল করে দিতো। তাহলে কী হতো আমাদের? আমাদের ট্যারিফ যদি ১৯ এর জায়গায় ৩৮ হয়ে যেত বা ৪০ হয়ে যেত, কী হতো? তো সেটা ভাবতে হবে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে যে, একটা নতুন সরকার আসার আগেই কিছু প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেওয়াটাই ভালো অনেক ক্ষেত্রে। সরকারের কিন্তু অধিকার আছে বলার যে, আমি তো এটা সাইন করি নাই, আমি এটার সাথে একমত নই, আমি এটা মানবো না। যদি সরকার মনে করে, অবশ্যই করতে পারে। সেটা করুক, যদি সেটা মনে করে যে এটা দেশের জন্য ক্ষতি হবে। কিন্তু আমি মনে করি যে সেটা একা করাটা সমীচীন হবে না বর্তমান প্রেক্ষাপটে। হয়তো পাঁচ বছর পরে আমরা সবাই এখান থেকে বের হয়ে যাব। ট্রাম্প সরকার চলে গেলে এখান থেকে আমরা বের হয়ে আসবো। এটা হবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনি তো অর্থনীতিবিদ। বাংলাদেশের অর্থনীতিটাকে গভীরভাবে অনেকদিন থেকেই দেখছেন। এখন কী অবস্থা আমাদের অর্থনীতির?
রাশেদ আহমেদ: কেন?
আহসান এইচ মনসুর: এটার কারণ কতগুলো তো আছেই। সেগুলো হচ্ছে যে আর্থিক খাত নিয়ে যে সিগনালিংটা সরকার দিয়েছিল প্রথম থেকেই, দ্যাট ওয়াজ নট এ গুড সিগন্যাল। আমি আর কথা বাড়ানোর কথা বলছি না। এটার পরেও ব্যাংকিং খাত নিয়ে কিছু ঘোষণা ছিল। পাঁচটা ব্যাংক আবার একীভূত থেকে পূর্বের মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তারপরে ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের মধ্যে নতুন একটা ধারা সংযোজন করে পুরোনো মালিকদের স্বল্পমূল্যে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে, এজ ইফ তারা কিছুই করে নাই। তারপরে ধরেন চাঁদাবাজি সেটা আরও প্রকট হয়ে গেছে। সবকিছু মিলিয়ে, আর বিশ্ববাজারের পরিস্থিতিও খারাপ, সেটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ তো চলছেই, বাট সাথে ইরান... মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধটাও ব্যাপকভাবে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
রাশেদ আহমেদ: প্রসঙ্গত বলি, যে পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে যেটি আমি প্রশ্নটায় আসতাম, তা বলি, আপনি থাকা অবস্থায় ব্যাংকগুলোর নাম প্রকাশ করে দিলেন, যে এগুলো দুর্বল ব্যাংক। অনেকে বলে থাকেন এই নাম প্রকাশের কারণে ব্যাংকগুলো আরও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
আহসান এইচ মনসুর: ঠিক আছে। ব্যাংকগুলো কি আগেই কাস্টমারদের টাকা দিতে পারতো? কোন ব্যাংক টাকা দিচ্ছিল? কেউ দিতে পারছিল না। ব্যাংকগুলোর যদি লোনের পরিমাণ থাকে ৯৭ শতাংশ নন-পারফর্মিং, তারা কীভাবে ডিপোজিটরের টাকা দিবে? তার আছে ৩ টাকা, দায় আছে ১০০ টাকা, কীভাবে দিবে? বলুন, ওই ক্রিটিককে আমার কাছে এসে যে এইভাবে অংক কষে হিসাব করিয়ে দিক, কীভাবে দিবে। আমি ঘোষণা দিয়ে যেটা করেছি সেটা হলো মানুষ যেন নতুন করে ঠকবাজের পাল্লায় না পড়ে। নতুন করে ঐসব জায়গায় ডিপোজিট না দিয়ে তারা আটকে পড়ে না যায়। আমি কি জেনে শুনে মানুষের ক্ষতি করতে যাব? নাকি আমি মানুষকে বলব যে এই পাঁচটা ব্যাংক ইনসলভেন্ট, সেখানে আপনারা... এদের আমরা উদ্ধার করব, সে দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের। এখানে ডিপোজিট করতে গিয়ে আপনি মারা পড়বেন না। কোনটা করবেন, বলুন আপনি? সমালোচনা করা সহজ। আমাকে তো একটা নৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমি তো ওই ব্যাংকারদের পক্ষে দাঁড়াবো না। যারা অলরেডি লুট করে নিয়ে গেছে, যারা অলরেডি আত্মসাৎ করে বড়লোক হয়েছে। তাদের পক্ষে তো আমি দাঁড়াবো না।
রাশেদ আহমেদ: কিন্তু সলভ করে যেতে পারলেন না তো।
আহসান এইচ মনসুর: সেটা তো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সলভ করতে গেলে যেমন পাঁচটা ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স করা হয়েছে, ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স প্রটেকশন অর্ডিন্যান্স করা হয়েছে। এই দুটো দিয়েই কিন্তু আমরা এটাকে অ্যাপ্রোচ করছিলাম যে, তাকে ক্ষতিপূরণও দেবো, আবার রেজল্যুশন অর্থাৎ পূর্বের মালিকদের আমরা কিক আউট করে দেবো পুরোপুরি। এবং আমরা... সরকার এটাকে টেম্পোরারিলি অ্যাকোয়ার করবে, তারপরে এটাকে একটু ব্যবস্থাপনা উন্নতি করে ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দিবে, দেশি বা বিদেশি যেকোনো উদ্যোক্তার কাছে। এটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। তো সেই লক্ষ্যে প্রথমে পাঁচটা ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করা হলো। কাজ এগোচ্ছিল। মাঝখানে এই ধারা যোগ করার পরে, ১৮ এর ক, এই ধারা যোগ করার পরে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়ে গেল। দেখা গেল আগের মালিকরা আবার আসতেছে। আবার এস আলম আসবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। এই প্রত্যাশার কিন্তু সেটব্যাক হয়ে গেল। এই পাঁচটা ব্যাংকই আবার পূর্বের মালিকদের কাছে ফেরত যাবে কি যাবে না করে নতুন স্ট্র্যাটেজি করা শুরু হয়ে গেল বিভিন্ন জায়গায়। মন্ত্রণালয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংকে। করে টরে তারা দেখল যে, এটাতে কোনো লাভ হবে না এবং বিশালভাবে প্রতিরোধও এলো এটার বিরুদ্ধে, যে পূর্বের মালিকদের কাছে কীভাবে ফেরত দেওয়া যায়। এটা তো নৈতিকভাবে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কাজেই সঙ্গত কারণেই সরকার পিছিয়ে গেছে। সরকারকে দেরিতে হলেও সাধুবাদ দেব যে সেখান থেকে সরে এসেছে। সরকার এটাও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, পাঁচটা ব্যাংক একই থাকবে। সেটাও সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমরা কয়েক মাস হারালাম এবং অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হলো।
রাশেদ আহমেদ: গ্রাহকরা তো এখনো টাকা পাচ্ছে না।
আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ, আমি একটু অবাক হয়েছিলাম। টাকা তো পাওয়ার কথা না। আমরা যে রেজল্যুশন প্ল্যান দিয়েছিলাম তাতে তো ধীরে ধীরে টাকা পাওয়ার কথাই ছিল। হঠাৎ করে সরকার কেন ঘোষণা দিল যে টাকা দিয়ে দিবে? কোথা থেকে টাকা পাবে? আমি তো জানি না। দায়ভার তো হচ্ছে ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকা। কোথা থেকে দিবে? আমি জানি না, সরকার কীভাবে ম্যানেজ করবে। বাট ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ঘোষণা অনুযায়ী তো সবাই টাকা পাচ্ছে না। সেটা তো আমাদের প্ল্যান ছিল না। আমাদের প্ল্যান ছিল যেটুকু দিতে পারবো সেটুকুই ঘোষণা দেব। আস্তে আস্তে দেবো, পুরোটাই দেব, সময়ের সাথে।
রাশেদ আহমেদ: আমাদের ছোট্ট একটা দেশ, এই দেশে এত বেসরকারি ব্যাংক দেয়া হয়েছে, তারপরও তো নানারকম কাহিনি হচ্ছে। আদৌ এগুলো ব্যাংক দরকার ছিল?
আহসান এইচ মনসুর: কোনো দরকার ছিল না। আমাদের এখানে ১০টা, ১২টা ব্যাংক হলেই যথেষ্ট। কিন্তু ছিল ৬১টা ব্যাংক। আমি পাঁচটা কমিয়ে একটা করেছি বলে এখন চারটা কমে গেছে আরকি, ৫৭টা ব্যাংক আছে। আমার প্ল্যান ছিল এটাকে ধীরে ধীরে কমিয়ে ফেলা এবং এই যে লাস্টের প্রজন্মের যে ব্যাংকগুলো আছে এগুলোকে সবগুলোকে বিলীন করে দেওয়া। সর্বশেষ যেগুলো দিয়েছে সবই রাজনৈতিক কারণে। এটা আইনমন্ত্রীকে একটা দিয়েছে, অমুক মন্ত্রীকে একটা দিয়েছে, তমুক মন্ত্রীকে একটা দিয়েছে, এই ধরনের ব্যাংকবাণিজ্য রাজনৈতিকভাবে করাটা কোনো দেশের জন্যই কোনো সময় ভালো ইঙ্গিত বহন করে না।
রাশেদ আহমেদ: ব্যাংকে যারা বিনিয়োগ করেন, মানে যারা পরিচালক হন, মানে তারা আবার লোন নিয়ে ব্যাংকগুলোকে দুর্বল করেন।
আহসান এইচ মনসুর: এটা যেটা হয়, সেটা তারা সরাসরি যে ব্যাংক থেকে লোন বিশালভাবে নিতে পারেন তা নয়। সেখানে রেস্ট্রিকশন আছে। কিন্তু তারা অন্য ব্যাংক থেকে নেয়। একজন আরেকজনের পিঠ চুলকে দেয়।
রাশেদ আহমেদ: এস আলম যেটা করল...
রাশেদ আহমেদ: আপনার সময়ে সম্ভবত ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছিলেন।
আহসান এইচ মনসুর: আমি সরকারকে একটা টাকাও ছাপিয়ে দিইনি। একটা পয়সাও না। আমি যেটা দিয়েছি, সেটা ব্যাংকগুলোকে দিয়েছি লিকুইডিটি সাপোর্ট হিসেবে। এটা হচ্ছে আমাদের ব্যাংকিং কার্যক্রমের একটা পার্ট। যদি না দিতাম তাহলে কী হতো? তাহলে পুরো ব্যাংকিং খাত ধসে যেত। পুরো ব্যাংকিং খাত ধসে যেত এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা ওই শ্রীলংকার মতো মাইনাস টেন টুয়েন্টি পারসেন্ট নেগেটিভ গ্রোথে চলে যেত। সেটা কি আমরা চাই? একটা টাকাও বাংলাদেশ সরকারকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ছাপিয়ে দেওয়া হয় নাই। অন রেকর্ড। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে আমরা সাপোর্ট দিয়েছি। কার জন্য? আপনাদের জন্য, ডিপোজিটরদের জন্য, যাতে তারা কিছুটা হলেও টাকা পায়। নাহলে তো ঐ ব্যাংকগুলো সব বসে যেত। নাম বলছি না, কিন্তু অ্যাটলিস্ট ১০টা ব্যাংকে তো সাপোর্ট দিতে হয়েছে। তার মধ্যে ইসলামী ব্যাংককেও সাপোর্ট দিতে হয়েছিল পনেরো হাজার কোটি টাকা। পরে তারা সেই টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছে। দে টার্ন এরাউন্ড। তো ব্যাংক একবার ঘুরে দাঁড়ালে পরে টাকা ফেরত দেওয়াটা কঠিন কিছু নয়। কিন্তু ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ানোটাই একটা চ্যালেঞ্জ।
রাশেদ আহমেদ: ইসলামী ব্যাংক নিয়ে এত কথা কেন? এত... কেন, আপনি কী দেখেছেন? এটা সহজ করে বলুন।
আহসান এইচ মনসুর: ইসলামী ব্যাংক তো আমি বলবো যে আমাদের সময়ে, দ্য মোস্ট সাকসেসফুল স্টোরি ওয়াজ দা ইসলামী ব্যাংক স্টোরি। কেন? ইসলামী ব্যাংক ওয়াজ ব্রোক। এস আলম এখান থেকে প্রায় ৮০ হাজার, ৯০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে একা। ইসলামী ব্যাংকের ৫৫ পারসেন্ট অ্যাসেট এখনো নন-পারফর্মিং। কিন্তু আমরা যখন বোর্ড চেঞ্জ করে দিলাম, জুবায়েদুর রহমান এবং অন্যান্য লোকদের দিয়ে আমরা বোর্ড করে দিলাম, ভালো বোর্ড, প্রয়োজন মোতাবেক আমরা... আমি প্রত্যেকদিন তাদের সিচুয়েশন অবজার্ভ করতাম প্রথম দিকে। দে টার্নড এরাউন্ড। এন্ড দা ডিপোজিটরস রেসপন্ডেড ভেরি ভেরি স্ট্রংলি। ইসলামী ব্যাংকের ডিপোজিট গ্রোথ হয়ে গেল রাতারাতি প্রতি মাসে আড়াই... দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা। প্রতি মাসে। প্রথম বছরেই ওরা প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা কালেক্ট করে ফেলল। তার পরবর্তীতে আমার ১৫ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিয়ে দিল। দ্যাটস দা সাকসেস। ডেসপাইট বিগ নন-পারফর্মিং লোন, তাদের লিকুইডিটি প্রবলেমটা চলে গেল এবং তারা সলভেন্ট... যেটাকে আমরা সলভেন্সি টেস্ট বলি, সেটা তারা পাস করে ফেলল। পরবর্তীতে যেটা হলো হঠাৎ করে বোর্ড চেঞ্জ করতে হলো, কেন জানি না। ভালো কাজ করছিল, ভালো ফাংশনিং ব্যাংক। আবার করতে হলে তো এবার এস আলমের একটা প্রতিনিধিকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা হলো। যেটার কারণে ডিপোজিটররা শঙ্কাগ্রস্ত হয়ে গেল এবং কিছুটা আন্দোলনও হলো। এসব কারণেই সরকার আল্টিমেটলি কিছুটা পিছিয়ে যেয়ে ঐ বোর্ডটাকে আবার ভেঙ্গে নতুন একটা... টেম্পোরারি একটা অ্যারেঞ্জমেন্টে গেছে। ইট ইজ নট এ সলিউশন। পার্মানেন্ট সলিউশন করতে হবে। বোর্ড ইজ বোর্ড। বোর্ডকে তো দিতে হবে। একজন লোক, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা মধ্য পর্যায়ের একটা কর্মকর্তা সে তো চেয়ারম্যান, সে বোর্ড, সে সবকিছুরই... এই ধরনের ক্ষমতা ধরার ব্যক্তি তো হওয়ার তার কথা নয়। কিন্তু যাই হোক এটা... এটা ৭ দিন ১০ দিন এক মাস থাকতে পারে, মাসের পর মাস চলতে পারে না। তো যাই হোক, ইসলামী ব্যাংকে একটা ভালো বোর্ড দিতে হবে, যেটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। প্রফেশনাল বোর্ড, যারা ডিপোজিটরের স্বার্থে, ব্যাংকের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে কাজ করবে। ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনি যখন গভর্নর ছিলেন টাকা পাচার নিয়ে অনেকবার কথা বলেছেন, অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। এই পাচার হওয়া টাকা কি ফেরত আনা সম্ভব?
আহসান এইচ মনসুর: এটা সম্ভব। আমরা মনে করি এটা সম্ভব। এবং উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। উদ্যোগ এখনো চলমান আছে বলে আমি মনে করি। উদ্যোগটাকে আরও চালু রাখতে হবে, জোরদার করতে হবে, সময়ের সাথে।
রাশেদ আহমেদ: আপনি পারলেন না কেন?
আহসান এইচ মনসুর: আমাদের তো শিখতেই সময় লেগেছে ছয় মাস নয় মাস। তারপরে তো টিম গঠন করা, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ইত্যাদি করতে করতেই তো বছর ঘুরে শেষ হয়ে গেল।
রাশেদ আহমেদ: কত টাকা পাচার হয়েছে?
রাশেদ আহমেদ: কারা কারা? কোন কোন প্রতিষ্ঠান?
আহসান এইচ মনসুর: এর মধ্যে এস আলম গ্রুপেরই তো হচ্ছে ৬০% এর মতো। বেক্সিমকো... এখানে প্রায় ৫৫-৬০ হাজার কোটি টাকা। শিকদার গ্রুপ... এগুলো সবই তো পরিচিত গ্রুপ। এগুলোতে নাথিং... নাথিং নিউ।
রাশেদ আহমেদ: কীভাবে আনা সম্ভব সেগুলো?
আহসান এইচ মনসুর: আনা সম্ভব। আমরা রোডম্যাপ রেখে এসেছি। আমরা ব্যাংকগুলোর সাথে... বিভিন্ন ল ফার্মের চুক্তি করার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়ে আসছিলাম। সেই চুক্তিগুলো ফাইনালাইজ করতে হবে। নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে তাদের আলোচনা চলছিল। সেগুলোকে ফাইনালাইজ করতে হবে। সরকারের যে প্রক্রিয়াটা, আমরা টাস্কফোর্স করেছিলাম। সেই টাস্কফোর্সের কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। দুদককে এই মামলাগুলোকে নিয়ে বিদেশে এমএলএ-তে পাঠানো হচ্ছে, মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাপোর্টের জন্য। এই... এই প্রক্রিয়া লম্বা। এই সরকারের আমলেও শেষ হবে কি না আমি জানি না, বাট চালিয়ে গেলে পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে একটা রেজাল্ট আসবে।
রাশেদ আহমেদ: মানে সেটি আসবে, কিন্তু কেন তারা টাকা ফেরত দেবে?
রাশেদ আহমেদ: বিষয়টার সাথে লেগে থাকতে হবে।
আহসান এইচ মনসুর: অবশ্যই। জোর দিয়ে লেগে থাকতে হবে। আমাদের পক্ষ হচ্ছে সত্য, তাদের পক্ষ হচ্ছে জালিয়াতি, জুয়াচুরি, জোচ্চুরি। আমরা কেন জিতব না? সত্যের জয় হবে, যদি আমরা লেগে থাকি... নিষ্ঠার সাথে।
রাশেদ আহমেদ: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নির্বাচনে গণভোট হলো, গণভোটে ক্যাম্পেইনিং এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা দেয়া হয়েছে। যেটি নিয়ে অভিযোগের আঙ্গুল আপনার দিকেই দেওয়া হয়।
আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, ইট ওয়াজ এ গভমেন্ট ডিসিশন। কেয়ারটেকার গভমেন্টের একটা মূল উদ্দেশ্য ছিল সংস্কার। সংস্কার করার জন্যই তো গণভোটটা ছিল। নাকি অন্য কিছু ছিল? অন্য কিছু তো ছিল না। সংস্কারই তো এর মূল লক্ষ্য। সরকারটা এসেছে বিপ্লবের মাধ্যমে সংস্কার করার জন্য, রাজনৈতিক সংস্কার। এবং হ্যাঁ, ভোটটা ছিল সেই উদ্দেশ্যে। তো সে ভোটটাকে সাকসেসফুল করা কি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল না? আমি তো মনে করি আমার নৈতিক দায়িত্ব ছিল। সরকার থেকে আমাদের বলা হয়েছে এটাকে সাপোর্ট করার জন্য, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা সেটা করেছি। আমার কোনো অনুশোচনা নাই সেটা নিয়ে। এখন রায় হয়েছে, রায় বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। জনগণের রায়, ফেলে দেওয়া যাবে না তো। এই আইনে অনেক রকম বাধা, সংবিধানের বাধা এগুলো বলা হয়। সেগুলো আইন বিশেষজ্ঞরা দেখুক, কিন্তু জনগণের রায় সংবিধানের ঊর্ধ্বে। মানে গণভোট... হুইচ ইজ সভারেন? সংবিধান না জনগণ? জনগণ। জনগণ রায় দিয়েছে, এখানে সংবিধানের প্রশ্ন আসবে না। ব্রিটেনে যখন গণভোটে হয়ে বিচ্ছেদ হয়ে গেল, ব্রেক্সিট, তখন কি ব্রিটিশ সংবিধানের কথা বলা হয়েছিল? আইনের কথা বলা হয়েছিল? কিচ্ছু না। জনগণ রায় দিয়েছে, এক পার্সেন্ট ভোটে সেপারেট হয়ে গেল। কোনো সরকার কি প্রশ্ন তুলেছিল? লেবার গভমেন্ট যেটা ছিল তারাই তো তখন মেনে নিল। তারা কি বলেছিল যে আমরা মানব না? কোনো অজুহাত দেখিয়েছিল? না। যাই হোক, কাজেই রায় হয়ে গেছে, রায় বাস্তবায়নে করতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনাদের সময়ে মব কালচারটা খুব বড় ধরনের ক্ষতি করছিল। যেটি... মানে আপনারও তো আঁচ লেগেছে।
আহসান এইচ মনসুর: এই যে আমি এটা নিয়ে বলতে পারব না কারণ আমি তো ওইটা নিয়ে ডিল করি না। ইটস নট মাই এরিয়া। আই অ্যাম নট ডিফেন্ডিং মাই ওন গভমেন্ট অর এনিথিং। আই ওয়াজ অনলি পার্ট অফ ওয়ান ইন্সটিটিউশন। এন্ড আই এম অনলি ডিফেন্ডিং মাই ওয়ার্ক।
রাশেদ আহমেদ: এখন দেশ যেভাবে চলছে, দেশের অর্থনীতি...জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, অনেক কিছু কন্ট্রোলের মধ্যে নাই। চাঁদাবাজির ইস্যুটা সবচেয়ে বড় হয়ে সামনে এসেছে। ভবিষ্যৎটা কী দেখছেন অর্থনীতিবিদ হিসেবে?
আহসান এইচ মনসুর: প্রথমত আমি মনে করি, যে ধরনের সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল, সেটার সেই অনুযায়ী কার্যক্রম দেখছি না আমরা। যে পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছিল, সেই পরিকল্পনাটা আমরা এখন দেখছি না। দৃশ্যমান নয়। বিদ্যুৎ সংকট হঠাৎ করে কেন হলো? আচ্ছা হলো, বুঝলাম। কিন্তু কেন দুই বছর লাগবে? কেন? দুই বছর কেন? কেন দুই মাস নয়? কেন ছয় মাস নয়? দুই বছর কেন? আচ্ছা দুই বছর যদি লাগে, সেটা দুই বছরের মধ্যে কীভাবে উত্তরণ হবে সেটার রোডম্যাপটা কই? এগুলো কি মানে আনরিজনেবল এক্সপেক্টেশন? এগুলো নাই। সেই কারণেই একটা আনসার্টেনিটি ক্রিয়েট হয়। কেন বিনিয়োগ করবে কেউ বাংলাদেশে, যদি জানি যে আমি দুই বছর বিদ্যুৎ পাব না? বা বিদ্যুৎ সংকট, গ্যাসের সংকট দুই বছর চলবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনি বললেন দুই বছর লাগবে কেন, ছয় মাসের মধ্যে কেন সম্ভব না। সম্ভব ছয় মাসের মধ্যে?
আহসান এইচ মনসুর: এটা তো আমি বলবো না। এটা সরকারকে বলতে হবে। সরকার বলেছে দুই বছর।
রাশেদ আহমেদ: আপনি তো গভর্নর ছিলেন?
রাশেদ আহমেদ: সেটি তো একটি বললেন, আপনি যেটি বলছিলেন, গণঅভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা...
আহসান এইচ মনসুর: প্রত্যাশা তো অনেক জায়গাতেই আমাদের শর্টফল আছে, সবারই, সব ক্ষেত্রেই আছে, এটা প্রত্যাশা সব পূরণ করা কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়, সেটা... মানে আমরা প্রত্যাশাও করি না। কিন্তু এই যে ভোটের রায়টা বাস্তবায়ন করা, এটা তো একটা জেনুইন প্রত্যাশা। এটা একটা পার্লামেন্টে বসে সব পক্ষ মিলে করে ফেললেই হয়ে যায়। তারপরে... অনেকগুলো সংস্কার কমিশন করা হয়েছে, বিভিন্ন... বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালীতে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। সেগুলোকে দূর করতে হবে না? গতিশীলতা আনতে হবে না? ঘুষ-বাণিজ্য কি কমাতে হবে না? তো বেড়েছে আরও। আপনি পারসেপশন সার্ভে করেন, দেখতে পারবেন। সো আমি মনে করি যে সরকার সাকসেসফুল হোক সেটা তো আমরা চাই। আমরাই তো ভোট দিয়ে সরকারকে এনেছি, তাই না? কাজেই সরকার সার্থক হোক এটা আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু যখন দেখছি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না, তখন তো হতাশা হই।
রাশেদ আহমেদ: আপনাকে রিমুভ করা হলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। আপনি চলে আসলেন। বললেন আমি কিছুই জানি না, মানে কী... আদৌ কি কিছু জানতেন?
আহসান এইচ মনসুর: না, আদৌ কিছু জানতাম না। আমি টেলিভিশনে দেখলাম যে নতুন গভর্নর নিয়োগ করা হয়েছে। তখনই জানলাম।
রাশেদ আহমেদ: কারো কাছে জানতেও চান নাই তখন?
আহসান এইচ মনসুর: আমি জানতে চাইব কেন? আমাকে তো জানাতে হবে যে ঠিক আছে আমরা কাউকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করছি ইত্যাদি। আমি কেন জানতে চাইবো, তাই না? আমি তো অর্থমন্ত্রীর সাথে দুই ঘণ্টা আড়াই ঘণ্টা মিটিং করলাম ওয়ান টু ওয়ান।
রাশেদ আহমেদ: কবে মিটিংটা করেছিলেন?
আহসান এইচ মনসুর: দুই দিন আগে। তার একদিন আগে।
রাশেদ আহমেদ: মানে এই ধরনের কোনো বিষয় আঁচই করতে পারেন নাই?
আহসান এইচ মনসুর: না। যাই হোক সেটা নিয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
রাশেদ আহমেদ: প্রত্যেকটা জিনিসের তো একটা নিয়ম কানুন থাকে, সেটি বলছিলাম।
আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ, সেটাই। আর সরকারের এই চাকরি আমার জন্য এমন কিছু না যে এটার জন্য আমার চলবে না বা কিছু না। এটা... বলে দিলেই তো হয়ে যেত, তাই না? যাই হোক, সেটা ইস্যু না।
রাশেদ আহমেদ: আপনাকে নিয়োগ করা হয়েছিল কীভাবে? মানে আপনাকে নেয়া হলো যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে, সেটি মানে কার ইচ্ছায়, কেমন করে?
রাশেদ আহমেদ: মানে বিষয়টা কি এরকম, নতুন সরকার মনে করেছে যে তাদের মতো করে আপনি চলবেন না, অথবা আপনার নিজস্ব কিছু প্ল্যান আছে এরকম কিছু কি?
আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, অবশ্যই আই হ্যাভ মাই ওয়ে অফ ডুয়িং থিংস। আমি এমন কোনোভাবে চলবো না যেটা আমার নীতির সাথে যায় না। সেটা তো আমি পরিষ্কারভাবে তখনও বলেছি এখনো বলি, সবসময় বলি। এই যে ১৮ এর ক ধারা যেটা দেওয়া হয়েছিল, যে পুরনো মালিকদের ফেরত... এই ধারাটা যখন যোগ করা হতো আমি যদি থাকতামও চাকরিতে আমি ওইদিন পদত্যাগ করতাম।
রাশেদ আহমেদ: আচ্ছা।
আহসান এইচ মনসুর: অবশ্যই। ঐ ধারা দিয়ে গভর্নর হিসেবে আমি চাকরি করতে পারতাম না।
রাশেদ আহমেদ: কেন করতে পারতেন না সেটার...
আহসান এইচ মনসুর: আমার সামনে দিয়ে ওই আইন বলবৎ হবে এস আলম এন্ড কোম্পানি এসে আবার ব্যাংকের মালিক হবে এটা অ্যাজ এ গভর্নর হাউ ক্যান আই একসেপ্ট ইট? বলুন? এটা সম্ভব না। এটা হাইপোথেটিক্যাল। এটা সম্ভব ছিল না। আমার পক্ষে এটা গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। আমি রেজিগনেশন লেটার দিয়ে দিতাম থাকলে। তো সেই জন্য সেসব কারণেই হয়তো আমাকে রাখা হয়নি। সংগত কারণেই রাখা হয়নি।
রাশেদ আহমেদ: আপনার কথা হচ্ছে বললে ভালো হতো, আপনি এমনিই ছেড়ে আসতেন বিষয়টা এরকম।
আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ অবশ্যই, অবশ্যই।
রাশেদ আহমেদ: এখন আপনি কী... কী নিয়ে কাজ করছেন?
আহসান এইচ মনসুর: আমি আমার অর্থনীতি বিষয়ক জিনিস নিয়েই কাজ করছি।
রাশেদ আহমেদ: বাংলাদেশের?
আহসান এইচ মনসুর: বাংলাদেশকে নিয়েই কাজ করছি। শুনেন আমি আমেরিকা থেকে চলে এসেছি বত্রিশ বছর পরে। বাংলাদেশে... কাজ করার জন্য। ২০০৮ সালে এসছিলাম।
রাশেদ আহমেদ: হ্যাঁ ২০০৮ সালে এসেছিলেন।
আহসান এইচ মনসুর: আমি ৭৬ সালে দেশ ছাড়ি। ২০০৮ এ ফিরি, ৩২ বছর। তো... আমি দেশ থেকে চলে যাওয়ার জন্য আসি নাই, দেশ থেকে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আসি নাই, আমি দেশে থাকার জন্যই এসছি, এখানেই মরার জন্যই এসছি। তো এখানেই থাকবো, এখানেই... কাজ করে যাবো যতদিন পারি। শরীর স্বাস্থ্যে কুলাবে ততদিন।
রাশেদ আহমেদ: ৭৬ সালে আপনি দেশ ছাড়লেন, চলে গেলেন। তখন বাংলাদেশ একটি, ২০০৮ সালে এসে বাংলাদেশের আরেক রকম দেখলেন।
আহসান এইচ মনসুর: আমি প্রত্যেক বছর দেশে আসতাম।
রাশেদ আহমেদ: ৭৬ এর পরে আসতেন প্রতি বছর?
আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ প্রত্যেক বছর।
রাশেদ আহমেদ: দীর্ঘ সময় আপনি আইএমএফ-এ ছিলেন।
আহসান এইচ মনসুর: আইএমএফে থাকাকালে আমি প্রতি বছরই আসতাম, একবার না একবার। আমার সবসময় প্ল্যান ছিল যে আমি দেশে চলে যাব। এস সুন এজ আই অ্যাম ফাইনান্সিয়ালি সলভেন্ট। দেশে যেয়ে যেন আমাকে চাকরির জন্য বা অন্য কোনো ধান্দায় ঘুরতে না হয়। আমি যেন স্বাধীনভাবে চলতে পারি। তো আমার আইএমএফ-এর পেনশন আছে, ইনশাআল্লাহ আই অ্যাম ফাইন। আমার কোনো দরকার নেই কারো কাছে হাত পাতার।
রাশেদ আহমেদ : আপনি অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশের সবাই বলে যে ভবিষ্যৎ ভালো দেখছি না, সামনে একটা বড় সংকট হতে পারে, মানে কি, আপনার কাছে কী মনে হয়?
আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, আমার প্রত্যাশা হচ্ছে এখন যে সরকার এখনো সময় আছে সরকার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সরকারকে... কঠোরভাবে দুর্নীতিকে দমন করতে হবে। দুর্নীতি বেড়ে গেছে। এটা সরকারকে মানতে হবে। এই সময়টাতে বেড়েছে। ইন্টারিম গভমেন্টের সময়ও চাঁদাবাজি বেড়ে গিয়েছিল। সেটা তো কেয়ারটেকার গভমেন্টের লোকেরা তারা চাঁদাবাজি করে নাই। কিন্তু আপনারাও জানেন আমরাও জানি, কারা করেছে? দলীয় লোকেরা। এবং সেটা আরও বেড়েছে। কাজেই এটা এই জায়গাটায় কিন্তু সরকারের জন্য সবচেয়ে বড়... এখানে কাজ করতে হবে। এটাকে জাস্ট উইশফুল থিংকিং করে যে আওয়ামী লীগও করছে আমরাও করতে পারি এটা বললে তো হবে না। দ্যাটস নট একসেপ্টেবল, তাই না?
রাশেদ আহমেদ: জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে কী হতে পারে?
আহসান এইচ মনসুর: আমি তো বলতে পারব না। এখন এটা তো এগেইন জনগণ কীভাবে দেখবে, বিরোধী দল কীভাবে দেখবে, বিরোধী দল কীভাবে জনমত সংগঠন করবে প্রতিবাদ হিসেবে, সেটার ওপর ডিপেন্ড করবে আউটকাম। আমি আশা করব যে সরকার অনুধাবন করবে, যেটা রায় হয়ে গেছে, রায় বাস্তবায়ন করবে। তাহলে তার কোনো আন্দোলনের দরকার হয় না। তাহলে তো আমরা মানে অ্যাটলিস্ট সংস্কারের যে একটা লক্ষ্য ছিল সেটা বাস্তবায়ন হয়। এটা তো দরকার, এটা তো বললে হবে না যে ভোটের জন্য আমরা বলেছিলাম, হ্যাঁ এখন বলছি না। এটা তো কোনো এক্সেপ্টেবল এক্সপ্লেনেশন হতে পারে না। হতে পারে?
রাশেদ আহমেদ: দেশে স্থিতিশীলতা না আসলে তো বিনিয়োগও আসবে না।
রাশেদ আহমেদ: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, আমাদের সময় দেয়ার জন্য।
আহসান এইচ মনসুর: ধন্যবাদ।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডক্টর আহসান এইচ মনসুর। একজন অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর। দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং খাত ও গভর্নরের দায়িত্ব থেকে অপসারণ নিয়ে তার সঙ্গে আলাপ করেছেন সংবাদ-এর বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদ। আলাপচারিতাটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
রাশেদ আহমেদ: আপনি তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সারাদেশ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। মানুষ একটি নতুন সরকারকে বাছাই করবে। সেই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার একটি বাণিজ্য চুক্তি করল, যে চুক্তি নিয়ে নানা কথা। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ট্রাম্পের সেই ক্ষমতা খারিজ করে দিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে বিএনপি সরকার এসে, সেটি বহাল রেখেছে এবং সেখানে বিলিয়ন ডলার খরচ করছে কেনাবেচা নিয়ে। এটি বর্তমান সরকারের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করা কিনা?
আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, বর্তমানে যেটা, মানে ট্রাম্প গভর্নমেন্টের সময়ে যে জিনিসটা হয়েছে যে, বাণিজ্যনীতিতে বিশাল পরিবর্তন এনেছে মার্কিন সরকার। এবং সেটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। আপনি পৃথিবীর যেকোনো দেশেই তাকান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মতো একটা বড় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যেখানে একুশটা দেশ একসাথে আছে, তাদেরও কিন্তু চুক্তি করতে হয়েছে। সে চুক্তি কিন্তু এখনো বলবৎ আছে। ওই যে কোর্ট যেটি করেছে, শুধু ট্যারিফটাকে নালিফাইড করে দিয়েছে, কিন্তু বাণিজ্য চুক্তি ইজ... ইজ বাইল্যাটারাল। এখানে কোর্টের কোনো... বিধিনিষেধ নেই, কোনো মামলাও হয় নাই এবং সেটা নিয়ে কোনো রায়ও হওয়ার কথা নয়। তো সেটা বলবৎ আছে সবার সাথেই। এখন জিনিসটা হচ্ছে যে, দুটো জিনিস, সরকারের পক্ষে... যে জিনিসটা হয়েছিল যে, আমরা ডিলটা কীরকম পেয়েছিলাম? আপেক্ষিক, সবই আপেক্ষিক। আমরা কোনো সময়ই চাই নাই এই ধরনের কোনো ডিলে যেতে। কিন্তু এই ডিলটা না করে কোনো উপায় ছিল? ভারতের কোনো উপায় ছিল? ভারতও তো ডিল করেছে। ভারত আরও খারাপ ডিল করেছে আমাদের চাইতে। অন্যান্য দেশের কথাই ধরি, বেশিরভাগ দেশেই কিন্তু আপেক্ষিকভাবে আমরা ভালো ট্যারিফ রিডাকশন পেয়েছিলাম এবং বেশ কিছু বাণিজ্য সুবিধাও পেয়েছিলাম সেখানে। যেমন মার্কিন তুলো আমদানি করলে পরে, সেই তুলো দিয়ে যদি কাপড় তৈরি করে পোশাক পাঠানো হয় সেটার ওপর শুল্ক থাকবে না। তো একটা বড় সুবিধা আমাদের জন্য। সেটার ভিত্তিতে এখন ওয়্যারহাউস হচ্ছে, সেখানে মার্কিন তুলো এনে ওয়্যারহাউসে রাখা হবে, যাতে সময় কম লাগে, খুব তাড়াতাড়ি মার্কিন তুলো আমরা পেয়ে যেতে পারি, ভারতীয় তুলোর ওপর আমাদের ডিপেন্ডেন্সি কমে যাবে তখন। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, হয়তো অনেকেই ক্রিটিসাইজ করেন যে, বোয়িং বিমান কেনা হচ্ছে। আমরা ১৬টা, ১৪টা বোয়িং বিমানের কথা দিয়েছিলাম। ভালো কথা। চীন কতগুলো দিয়েছে? ২০০টা। কোরিয়া... কোরিয়া কী দিয়েছে? কোরিয়া বলেছে তারা ৪০০ গুডস কিনবে ৫০০ বিলিয়ন ডলার দিয়ে। জাপান দিয়েছে ট্রিলিয়ন ডলারে, সৌদি আরব দিয়েছে ট্রিলিয়ন ডলারে। তাহলে আমরা কে? আমরা তো ছোট দেশ।
রাশেদ আহমেদ: মালয়েশিয়া বেরিয়ে গেছে, এই চুক্তি থেকে।
আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, চুক্তি থেকে আমরা এখনো বেরিয়ে যেতে পারি।
রাশেদ আহমেদ: সম্ভব?
আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ, সম্ভব। সরকার যদি চায় সম্ভব। কিন্তু কথা হলো যে ‘দেয়ার উইল বি কস্ট’। সরকারকে বুঝতে হবে যে চুক্তি থেকে বের হয়ে গেলে মার্কিন সরকার কী করবে সেটা বুঝেই তো করতে হবে। আমার ক্ষতি বেশি হবে, না আমার ক্ষতি কম হবে চুক্তি থেকে বের হয়ে গেলে? চুক্তি যেকোনো সময় যেকোনো পক্ষ বের হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বিফোর ইউ ডু ইট, আমাকে অবশ্যই চিন্তা করতে হবে যে এই... বের হয়ে গেলে আপেক্ষিকভাবে আমি কি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবো, নাকি কম... আমার লাভ... আমি লাভবান হবো? এটা যার যার ক্ষেত্রে, ক্ষেত্রবিশেষে এটা প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তার লাভ-ক্ষতির পরিমাণ ভিন্ন। সে বিভিন্ন সরকার বিভিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তার মানে একটা সরকার বের হয়ে গেছে বলে আর সবাইকে বের হয়ে যেতে হবে তা তো নয়। চীন তো কোনো চুক্তি ওভাবে করে নাই, কিন্তু চীন কিন্তু সেপারেট একটা চুক্তি করেছে। চুক্তি করেছে, আলাদাভাবেও করেছে। এবং নিজস্ব শক্তি দিয়ে তারা মোকাবেলা করে তারা ভালো একটা টার্মসে আসছে। তাদের সেই সক্ষমতা আছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তো পারে নাই। কানাডার তো অবস্থা দেখছেন। তো আমরা কি কানাডার মতো ফাইট করতে যাবো? সেটা কি আমাদের উচিত হবে? এগুলো ভাবতে হবে। তবে যাই হোক এটা আমি মনে করি যে, পুরো জিনিসটাই নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয় মার্কিন সরকারের, কিন্তু তারা ছোট দেশ বা অন্য সব... সকল দেশের উপরে এটা এককভাবেই চাপিয়ে দিয়েছে বলতে হবে। এটা দুঃখজনক হলেও এটা বাস্তবতা।
রাশেদ আহমেদ: আমাদের সুদূরপ্রসারী অনেক ক্ষতি হবে এটি অনেকেই বলছেন। বর্তমানে যারা সমালোচনা করছেন, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের যারা উপদেষ্টা ছিলেন তাদেরও কেউ কেউ বলছেন, যেমন ফরিদা আক্তার।
আহসান এইচ মনসুর: বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন মত থাকতেই পারে। সরকারের মধ্যেও মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু সরকার একটা ইউনিফাইড ডিসিশনই নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সিদ্ধান্তটার দুটো ডাইমেনশন ছিল। একটা হলো যে, আমরা যদি তাড়াতাড়ি তখন ডিলটা করতাম, আমরা হয়তো একটা ভালো ডিল পেয়েছিলাম। নইলে আরও খারাপ কিছু পেতে পারতাম, হয়তো ডাবল করে দিতো। তাহলে কী হতো আমাদের? আমাদের ট্যারিফ যদি ১৯ এর জায়গায় ৩৮ হয়ে যেত বা ৪০ হয়ে যেত, কী হতো? তো সেটা ভাবতে হবে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে যে, একটা নতুন সরকার আসার আগেই কিছু প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেওয়াটাই ভালো অনেক ক্ষেত্রে। সরকারের কিন্তু অধিকার আছে বলার যে, আমি তো এটা সাইন করি নাই, আমি এটার সাথে একমত নই, আমি এটা মানবো না। যদি সরকার মনে করে, অবশ্যই করতে পারে। সেটা করুক, যদি সেটা মনে করে যে এটা দেশের জন্য ক্ষতি হবে। কিন্তু আমি মনে করি যে সেটা একা করাটা সমীচীন হবে না বর্তমান প্রেক্ষাপটে। হয়তো পাঁচ বছর পরে আমরা সবাই এখান থেকে বের হয়ে যাব। ট্রাম্প সরকার চলে গেলে এখান থেকে আমরা বের হয়ে আসবো। এটা হবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনি তো অর্থনীতিবিদ। বাংলাদেশের অর্থনীতিটাকে গভীরভাবে অনেকদিন থেকেই দেখছেন। এখন কী অবস্থা আমাদের অর্থনীতির?
রাশেদ আহমেদ: কেন?
আহসান এইচ মনসুর: এটার কারণ কতগুলো তো আছেই। সেগুলো হচ্ছে যে আর্থিক খাত নিয়ে যে সিগনালিংটা সরকার দিয়েছিল প্রথম থেকেই, দ্যাট ওয়াজ নট এ গুড সিগন্যাল। আমি আর কথা বাড়ানোর কথা বলছি না। এটার পরেও ব্যাংকিং খাত নিয়ে কিছু ঘোষণা ছিল। পাঁচটা ব্যাংক আবার একীভূত থেকে পূর্বের মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তারপরে ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের মধ্যে নতুন একটা ধারা সংযোজন করে পুরোনো মালিকদের স্বল্পমূল্যে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে, এজ ইফ তারা কিছুই করে নাই। তারপরে ধরেন চাঁদাবাজি সেটা আরও প্রকট হয়ে গেছে। সবকিছু মিলিয়ে, আর বিশ্ববাজারের পরিস্থিতিও খারাপ, সেটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ তো চলছেই, বাট সাথে ইরান... মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধটাও ব্যাপকভাবে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
রাশেদ আহমেদ: প্রসঙ্গত বলি, যে পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে যেটি আমি প্রশ্নটায় আসতাম, তা বলি, আপনি থাকা অবস্থায় ব্যাংকগুলোর নাম প্রকাশ করে দিলেন, যে এগুলো দুর্বল ব্যাংক। অনেকে বলে থাকেন এই নাম প্রকাশের কারণে ব্যাংকগুলো আরও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
আহসান এইচ মনসুর: ঠিক আছে। ব্যাংকগুলো কি আগেই কাস্টমারদের টাকা দিতে পারতো? কোন ব্যাংক টাকা দিচ্ছিল? কেউ দিতে পারছিল না। ব্যাংকগুলোর যদি লোনের পরিমাণ থাকে ৯৭ শতাংশ নন-পারফর্মিং, তারা কীভাবে ডিপোজিটরের টাকা দিবে? তার আছে ৩ টাকা, দায় আছে ১০০ টাকা, কীভাবে দিবে? বলুন, ওই ক্রিটিককে আমার কাছে এসে যে এইভাবে অংক কষে হিসাব করিয়ে দিক, কীভাবে দিবে। আমি ঘোষণা দিয়ে যেটা করেছি সেটা হলো মানুষ যেন নতুন করে ঠকবাজের পাল্লায় না পড়ে। নতুন করে ঐসব জায়গায় ডিপোজিট না দিয়ে তারা আটকে পড়ে না যায়। আমি কি জেনে শুনে মানুষের ক্ষতি করতে যাব? নাকি আমি মানুষকে বলব যে এই পাঁচটা ব্যাংক ইনসলভেন্ট, সেখানে আপনারা... এদের আমরা উদ্ধার করব, সে দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের। এখানে ডিপোজিট করতে গিয়ে আপনি মারা পড়বেন না। কোনটা করবেন, বলুন আপনি? সমালোচনা করা সহজ। আমাকে তো একটা নৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমি তো ওই ব্যাংকারদের পক্ষে দাঁড়াবো না। যারা অলরেডি লুট করে নিয়ে গেছে, যারা অলরেডি আত্মসাৎ করে বড়লোক হয়েছে। তাদের পক্ষে তো আমি দাঁড়াবো না।
রাশেদ আহমেদ: কিন্তু সলভ করে যেতে পারলেন না তো।
আহসান এইচ মনসুর: সেটা তো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সলভ করতে গেলে যেমন পাঁচটা ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স করা হয়েছে, ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স প্রটেকশন অর্ডিন্যান্স করা হয়েছে। এই দুটো দিয়েই কিন্তু আমরা এটাকে অ্যাপ্রোচ করছিলাম যে, তাকে ক্ষতিপূরণও দেবো, আবার রেজল্যুশন অর্থাৎ পূর্বের মালিকদের আমরা কিক আউট করে দেবো পুরোপুরি। এবং আমরা... সরকার এটাকে টেম্পোরারিলি অ্যাকোয়ার করবে, তারপরে এটাকে একটু ব্যবস্থাপনা উন্নতি করে ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দিবে, দেশি বা বিদেশি যেকোনো উদ্যোক্তার কাছে। এটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। তো সেই লক্ষ্যে প্রথমে পাঁচটা ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করা হলো। কাজ এগোচ্ছিল। মাঝখানে এই ধারা যোগ করার পরে, ১৮ এর ক, এই ধারা যোগ করার পরে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়ে গেল। দেখা গেল আগের মালিকরা আবার আসতেছে। আবার এস আলম আসবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। এই প্রত্যাশার কিন্তু সেটব্যাক হয়ে গেল। এই পাঁচটা ব্যাংকই আবার পূর্বের মালিকদের কাছে ফেরত যাবে কি যাবে না করে নতুন স্ট্র্যাটেজি করা শুরু হয়ে গেল বিভিন্ন জায়গায়। মন্ত্রণালয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংকে। করে টরে তারা দেখল যে, এটাতে কোনো লাভ হবে না এবং বিশালভাবে প্রতিরোধও এলো এটার বিরুদ্ধে, যে পূর্বের মালিকদের কাছে কীভাবে ফেরত দেওয়া যায়। এটা তো নৈতিকভাবে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কাজেই সঙ্গত কারণেই সরকার পিছিয়ে গেছে। সরকারকে দেরিতে হলেও সাধুবাদ দেব যে সেখান থেকে সরে এসেছে। সরকার এটাও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, পাঁচটা ব্যাংক একই থাকবে। সেটাও সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমরা কয়েক মাস হারালাম এবং অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হলো।
রাশেদ আহমেদ: গ্রাহকরা তো এখনো টাকা পাচ্ছে না।
আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ, আমি একটু অবাক হয়েছিলাম। টাকা তো পাওয়ার কথা না। আমরা যে রেজল্যুশন প্ল্যান দিয়েছিলাম তাতে তো ধীরে ধীরে টাকা পাওয়ার কথাই ছিল। হঠাৎ করে সরকার কেন ঘোষণা দিল যে টাকা দিয়ে দিবে? কোথা থেকে টাকা পাবে? আমি তো জানি না। দায়ভার তো হচ্ছে ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকা। কোথা থেকে দিবে? আমি জানি না, সরকার কীভাবে ম্যানেজ করবে। বাট ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ঘোষণা অনুযায়ী তো সবাই টাকা পাচ্ছে না। সেটা তো আমাদের প্ল্যান ছিল না। আমাদের প্ল্যান ছিল যেটুকু দিতে পারবো সেটুকুই ঘোষণা দেব। আস্তে আস্তে দেবো, পুরোটাই দেব, সময়ের সাথে।
রাশেদ আহমেদ: আমাদের ছোট্ট একটা দেশ, এই দেশে এত বেসরকারি ব্যাংক দেয়া হয়েছে, তারপরও তো নানারকম কাহিনি হচ্ছে। আদৌ এগুলো ব্যাংক দরকার ছিল?
আহসান এইচ মনসুর: কোনো দরকার ছিল না। আমাদের এখানে ১০টা, ১২টা ব্যাংক হলেই যথেষ্ট। কিন্তু ছিল ৬১টা ব্যাংক। আমি পাঁচটা কমিয়ে একটা করেছি বলে এখন চারটা কমে গেছে আরকি, ৫৭টা ব্যাংক আছে। আমার প্ল্যান ছিল এটাকে ধীরে ধীরে কমিয়ে ফেলা এবং এই যে লাস্টের প্রজন্মের যে ব্যাংকগুলো আছে এগুলোকে সবগুলোকে বিলীন করে দেওয়া। সর্বশেষ যেগুলো দিয়েছে সবই রাজনৈতিক কারণে। এটা আইনমন্ত্রীকে একটা দিয়েছে, অমুক মন্ত্রীকে একটা দিয়েছে, তমুক মন্ত্রীকে একটা দিয়েছে, এই ধরনের ব্যাংকবাণিজ্য রাজনৈতিকভাবে করাটা কোনো দেশের জন্যই কোনো সময় ভালো ইঙ্গিত বহন করে না।
রাশেদ আহমেদ: ব্যাংকে যারা বিনিয়োগ করেন, মানে যারা পরিচালক হন, মানে তারা আবার লোন নিয়ে ব্যাংকগুলোকে দুর্বল করেন।
আহসান এইচ মনসুর: এটা যেটা হয়, সেটা তারা সরাসরি যে ব্যাংক থেকে লোন বিশালভাবে নিতে পারেন তা নয়। সেখানে রেস্ট্রিকশন আছে। কিন্তু তারা অন্য ব্যাংক থেকে নেয়। একজন আরেকজনের পিঠ চুলকে দেয়।
রাশেদ আহমেদ: এস আলম যেটা করল...
রাশেদ আহমেদ: আপনার সময়ে সম্ভবত ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছিলেন।
আহসান এইচ মনসুর: আমি সরকারকে একটা টাকাও ছাপিয়ে দিইনি। একটা পয়সাও না। আমি যেটা দিয়েছি, সেটা ব্যাংকগুলোকে দিয়েছি লিকুইডিটি সাপোর্ট হিসেবে। এটা হচ্ছে আমাদের ব্যাংকিং কার্যক্রমের একটা পার্ট। যদি না দিতাম তাহলে কী হতো? তাহলে পুরো ব্যাংকিং খাত ধসে যেত। পুরো ব্যাংকিং খাত ধসে যেত এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা ওই শ্রীলংকার মতো মাইনাস টেন টুয়েন্টি পারসেন্ট নেগেটিভ গ্রোথে চলে যেত। সেটা কি আমরা চাই? একটা টাকাও বাংলাদেশ সরকারকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ছাপিয়ে দেওয়া হয় নাই। অন রেকর্ড। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে আমরা সাপোর্ট দিয়েছি। কার জন্য? আপনাদের জন্য, ডিপোজিটরদের জন্য, যাতে তারা কিছুটা হলেও টাকা পায়। নাহলে তো ঐ ব্যাংকগুলো সব বসে যেত। নাম বলছি না, কিন্তু অ্যাটলিস্ট ১০টা ব্যাংকে তো সাপোর্ট দিতে হয়েছে। তার মধ্যে ইসলামী ব্যাংককেও সাপোর্ট দিতে হয়েছিল পনেরো হাজার কোটি টাকা। পরে তারা সেই টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছে। দে টার্ন এরাউন্ড। তো ব্যাংক একবার ঘুরে দাঁড়ালে পরে টাকা ফেরত দেওয়াটা কঠিন কিছু নয়। কিন্তু ব্যাংক ঘুরে দাঁড়ানোটাই একটা চ্যালেঞ্জ।
রাশেদ আহমেদ: ইসলামী ব্যাংক নিয়ে এত কথা কেন? এত... কেন, আপনি কী দেখেছেন? এটা সহজ করে বলুন।
আহসান এইচ মনসুর: ইসলামী ব্যাংক তো আমি বলবো যে আমাদের সময়ে, দ্য মোস্ট সাকসেসফুল স্টোরি ওয়াজ দা ইসলামী ব্যাংক স্টোরি। কেন? ইসলামী ব্যাংক ওয়াজ ব্রোক। এস আলম এখান থেকে প্রায় ৮০ হাজার, ৯০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে একা। ইসলামী ব্যাংকের ৫৫ পারসেন্ট অ্যাসেট এখনো নন-পারফর্মিং। কিন্তু আমরা যখন বোর্ড চেঞ্জ করে দিলাম, জুবায়েদুর রহমান এবং অন্যান্য লোকদের দিয়ে আমরা বোর্ড করে দিলাম, ভালো বোর্ড, প্রয়োজন মোতাবেক আমরা... আমি প্রত্যেকদিন তাদের সিচুয়েশন অবজার্ভ করতাম প্রথম দিকে। দে টার্নড এরাউন্ড। এন্ড দা ডিপোজিটরস রেসপন্ডেড ভেরি ভেরি স্ট্রংলি। ইসলামী ব্যাংকের ডিপোজিট গ্রোথ হয়ে গেল রাতারাতি প্রতি মাসে আড়াই... দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা। প্রতি মাসে। প্রথম বছরেই ওরা প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা কালেক্ট করে ফেলল। তার পরবর্তীতে আমার ১৫ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিয়ে দিল। দ্যাটস দা সাকসেস। ডেসপাইট বিগ নন-পারফর্মিং লোন, তাদের লিকুইডিটি প্রবলেমটা চলে গেল এবং তারা সলভেন্ট... যেটাকে আমরা সলভেন্সি টেস্ট বলি, সেটা তারা পাস করে ফেলল। পরবর্তীতে যেটা হলো হঠাৎ করে বোর্ড চেঞ্জ করতে হলো, কেন জানি না। ভালো কাজ করছিল, ভালো ফাংশনিং ব্যাংক। আবার করতে হলে তো এবার এস আলমের একটা প্রতিনিধিকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা হলো। যেটার কারণে ডিপোজিটররা শঙ্কাগ্রস্ত হয়ে গেল এবং কিছুটা আন্দোলনও হলো। এসব কারণেই সরকার আল্টিমেটলি কিছুটা পিছিয়ে যেয়ে ঐ বোর্ডটাকে আবার ভেঙ্গে নতুন একটা... টেম্পোরারি একটা অ্যারেঞ্জমেন্টে গেছে। ইট ইজ নট এ সলিউশন। পার্মানেন্ট সলিউশন করতে হবে। বোর্ড ইজ বোর্ড। বোর্ডকে তো দিতে হবে। একজন লোক, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা মধ্য পর্যায়ের একটা কর্মকর্তা সে তো চেয়ারম্যান, সে বোর্ড, সে সবকিছুরই... এই ধরনের ক্ষমতা ধরার ব্যক্তি তো হওয়ার তার কথা নয়। কিন্তু যাই হোক এটা... এটা ৭ দিন ১০ দিন এক মাস থাকতে পারে, মাসের পর মাস চলতে পারে না। তো যাই হোক, ইসলামী ব্যাংকে একটা ভালো বোর্ড দিতে হবে, যেটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। প্রফেশনাল বোর্ড, যারা ডিপোজিটরের স্বার্থে, ব্যাংকের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে কাজ করবে। ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনি যখন গভর্নর ছিলেন টাকা পাচার নিয়ে অনেকবার কথা বলেছেন, অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। এই পাচার হওয়া টাকা কি ফেরত আনা সম্ভব?
আহসান এইচ মনসুর: এটা সম্ভব। আমরা মনে করি এটা সম্ভব। এবং উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। উদ্যোগ এখনো চলমান আছে বলে আমি মনে করি। উদ্যোগটাকে আরও চালু রাখতে হবে, জোরদার করতে হবে, সময়ের সাথে।
রাশেদ আহমেদ: আপনি পারলেন না কেন?
আহসান এইচ মনসুর: আমাদের তো শিখতেই সময় লেগেছে ছয় মাস নয় মাস। তারপরে তো টিম গঠন করা, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ইত্যাদি করতে করতেই তো বছর ঘুরে শেষ হয়ে গেল।
রাশেদ আহমেদ: কত টাকা পাচার হয়েছে?
রাশেদ আহমেদ: কারা কারা? কোন কোন প্রতিষ্ঠান?
আহসান এইচ মনসুর: এর মধ্যে এস আলম গ্রুপেরই তো হচ্ছে ৬০% এর মতো। বেক্সিমকো... এখানে প্রায় ৫৫-৬০ হাজার কোটি টাকা। শিকদার গ্রুপ... এগুলো সবই তো পরিচিত গ্রুপ। এগুলোতে নাথিং... নাথিং নিউ।
রাশেদ আহমেদ: কীভাবে আনা সম্ভব সেগুলো?
আহসান এইচ মনসুর: আনা সম্ভব। আমরা রোডম্যাপ রেখে এসেছি। আমরা ব্যাংকগুলোর সাথে... বিভিন্ন ল ফার্মের চুক্তি করার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়ে আসছিলাম। সেই চুক্তিগুলো ফাইনালাইজ করতে হবে। নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে তাদের আলোচনা চলছিল। সেগুলোকে ফাইনালাইজ করতে হবে। সরকারের যে প্রক্রিয়াটা, আমরা টাস্কফোর্স করেছিলাম। সেই টাস্কফোর্সের কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। দুদককে এই মামলাগুলোকে নিয়ে বিদেশে এমএলএ-তে পাঠানো হচ্ছে, মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাপোর্টের জন্য। এই... এই প্রক্রিয়া লম্বা। এই সরকারের আমলেও শেষ হবে কি না আমি জানি না, বাট চালিয়ে গেলে পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে একটা রেজাল্ট আসবে।
রাশেদ আহমেদ: মানে সেটি আসবে, কিন্তু কেন তারা টাকা ফেরত দেবে?
রাশেদ আহমেদ: বিষয়টার সাথে লেগে থাকতে হবে।
আহসান এইচ মনসুর: অবশ্যই। জোর দিয়ে লেগে থাকতে হবে। আমাদের পক্ষ হচ্ছে সত্য, তাদের পক্ষ হচ্ছে জালিয়াতি, জুয়াচুরি, জোচ্চুরি। আমরা কেন জিতব না? সত্যের জয় হবে, যদি আমরা লেগে থাকি... নিষ্ঠার সাথে।
রাশেদ আহমেদ: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নির্বাচনে গণভোট হলো, গণভোটে ক্যাম্পেইনিং এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা দেয়া হয়েছে। যেটি নিয়ে অভিযোগের আঙ্গুল আপনার দিকেই দেওয়া হয়।
আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, ইট ওয়াজ এ গভমেন্ট ডিসিশন। কেয়ারটেকার গভমেন্টের একটা মূল উদ্দেশ্য ছিল সংস্কার। সংস্কার করার জন্যই তো গণভোটটা ছিল। নাকি অন্য কিছু ছিল? অন্য কিছু তো ছিল না। সংস্কারই তো এর মূল লক্ষ্য। সরকারটা এসেছে বিপ্লবের মাধ্যমে সংস্কার করার জন্য, রাজনৈতিক সংস্কার। এবং হ্যাঁ, ভোটটা ছিল সেই উদ্দেশ্যে। তো সে ভোটটাকে সাকসেসফুল করা কি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল না? আমি তো মনে করি আমার নৈতিক দায়িত্ব ছিল। সরকার থেকে আমাদের বলা হয়েছে এটাকে সাপোর্ট করার জন্য, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা সেটা করেছি। আমার কোনো অনুশোচনা নাই সেটা নিয়ে। এখন রায় হয়েছে, রায় বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। জনগণের রায়, ফেলে দেওয়া যাবে না তো। এই আইনে অনেক রকম বাধা, সংবিধানের বাধা এগুলো বলা হয়। সেগুলো আইন বিশেষজ্ঞরা দেখুক, কিন্তু জনগণের রায় সংবিধানের ঊর্ধ্বে। মানে গণভোট... হুইচ ইজ সভারেন? সংবিধান না জনগণ? জনগণ। জনগণ রায় দিয়েছে, এখানে সংবিধানের প্রশ্ন আসবে না। ব্রিটেনে যখন গণভোটে হয়ে বিচ্ছেদ হয়ে গেল, ব্রেক্সিট, তখন কি ব্রিটিশ সংবিধানের কথা বলা হয়েছিল? আইনের কথা বলা হয়েছিল? কিচ্ছু না। জনগণ রায় দিয়েছে, এক পার্সেন্ট ভোটে সেপারেট হয়ে গেল। কোনো সরকার কি প্রশ্ন তুলেছিল? লেবার গভমেন্ট যেটা ছিল তারাই তো তখন মেনে নিল। তারা কি বলেছিল যে আমরা মানব না? কোনো অজুহাত দেখিয়েছিল? না। যাই হোক, কাজেই রায় হয়ে গেছে, রায় বাস্তবায়নে করতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনাদের সময়ে মব কালচারটা খুব বড় ধরনের ক্ষতি করছিল। যেটি... মানে আপনারও তো আঁচ লেগেছে।
আহসান এইচ মনসুর: এই যে আমি এটা নিয়ে বলতে পারব না কারণ আমি তো ওইটা নিয়ে ডিল করি না। ইটস নট মাই এরিয়া। আই অ্যাম নট ডিফেন্ডিং মাই ওন গভমেন্ট অর এনিথিং। আই ওয়াজ অনলি পার্ট অফ ওয়ান ইন্সটিটিউশন। এন্ড আই এম অনলি ডিফেন্ডিং মাই ওয়ার্ক।
রাশেদ আহমেদ: এখন দেশ যেভাবে চলছে, দেশের অর্থনীতি...জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, অনেক কিছু কন্ট্রোলের মধ্যে নাই। চাঁদাবাজির ইস্যুটা সবচেয়ে বড় হয়ে সামনে এসেছে। ভবিষ্যৎটা কী দেখছেন অর্থনীতিবিদ হিসেবে?
আহসান এইচ মনসুর: প্রথমত আমি মনে করি, যে ধরনের সংস্কারের প্রত্যাশা ছিল, সেটার সেই অনুযায়ী কার্যক্রম দেখছি না আমরা। যে পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছিল, সেই পরিকল্পনাটা আমরা এখন দেখছি না। দৃশ্যমান নয়। বিদ্যুৎ সংকট হঠাৎ করে কেন হলো? আচ্ছা হলো, বুঝলাম। কিন্তু কেন দুই বছর লাগবে? কেন? দুই বছর কেন? কেন দুই মাস নয়? কেন ছয় মাস নয়? দুই বছর কেন? আচ্ছা দুই বছর যদি লাগে, সেটা দুই বছরের মধ্যে কীভাবে উত্তরণ হবে সেটার রোডম্যাপটা কই? এগুলো কি মানে আনরিজনেবল এক্সপেক্টেশন? এগুলো নাই। সেই কারণেই একটা আনসার্টেনিটি ক্রিয়েট হয়। কেন বিনিয়োগ করবে কেউ বাংলাদেশে, যদি জানি যে আমি দুই বছর বিদ্যুৎ পাব না? বা বিদ্যুৎ সংকট, গ্যাসের সংকট দুই বছর চলবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনি বললেন দুই বছর লাগবে কেন, ছয় মাসের মধ্যে কেন সম্ভব না। সম্ভব ছয় মাসের মধ্যে?
আহসান এইচ মনসুর: এটা তো আমি বলবো না। এটা সরকারকে বলতে হবে। সরকার বলেছে দুই বছর।
রাশেদ আহমেদ: আপনি তো গভর্নর ছিলেন?
রাশেদ আহমেদ: সেটি তো একটি বললেন, আপনি যেটি বলছিলেন, গণঅভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা...
আহসান এইচ মনসুর: প্রত্যাশা তো অনেক জায়গাতেই আমাদের শর্টফল আছে, সবারই, সব ক্ষেত্রেই আছে, এটা প্রত্যাশা সব পূরণ করা কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়, সেটা... মানে আমরা প্রত্যাশাও করি না। কিন্তু এই যে ভোটের রায়টা বাস্তবায়ন করা, এটা তো একটা জেনুইন প্রত্যাশা। এটা একটা পার্লামেন্টে বসে সব পক্ষ মিলে করে ফেললেই হয়ে যায়। তারপরে... অনেকগুলো সংস্কার কমিশন করা হয়েছে, বিভিন্ন... বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালীতে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। সেগুলোকে দূর করতে হবে না? গতিশীলতা আনতে হবে না? ঘুষ-বাণিজ্য কি কমাতে হবে না? তো বেড়েছে আরও। আপনি পারসেপশন সার্ভে করেন, দেখতে পারবেন। সো আমি মনে করি যে সরকার সাকসেসফুল হোক সেটা তো আমরা চাই। আমরাই তো ভোট দিয়ে সরকারকে এনেছি, তাই না? কাজেই সরকার সার্থক হোক এটা আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু যখন দেখছি প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না, তখন তো হতাশা হই।
রাশেদ আহমেদ: আপনাকে রিমুভ করা হলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। আপনি চলে আসলেন। বললেন আমি কিছুই জানি না, মানে কী... আদৌ কি কিছু জানতেন?
আহসান এইচ মনসুর: না, আদৌ কিছু জানতাম না। আমি টেলিভিশনে দেখলাম যে নতুন গভর্নর নিয়োগ করা হয়েছে। তখনই জানলাম।
রাশেদ আহমেদ: কারো কাছে জানতেও চান নাই তখন?
আহসান এইচ মনসুর: আমি জানতে চাইব কেন? আমাকে তো জানাতে হবে যে ঠিক আছে আমরা কাউকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করছি ইত্যাদি। আমি কেন জানতে চাইবো, তাই না? আমি তো অর্থমন্ত্রীর সাথে দুই ঘণ্টা আড়াই ঘণ্টা মিটিং করলাম ওয়ান টু ওয়ান।
রাশেদ আহমেদ: কবে মিটিংটা করেছিলেন?
আহসান এইচ মনসুর: দুই দিন আগে। তার একদিন আগে।
রাশেদ আহমেদ: মানে এই ধরনের কোনো বিষয় আঁচই করতে পারেন নাই?
আহসান এইচ মনসুর: না। যাই হোক সেটা নিয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
রাশেদ আহমেদ: প্রত্যেকটা জিনিসের তো একটা নিয়ম কানুন থাকে, সেটি বলছিলাম।
আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ, সেটাই। আর সরকারের এই চাকরি আমার জন্য এমন কিছু না যে এটার জন্য আমার চলবে না বা কিছু না। এটা... বলে দিলেই তো হয়ে যেত, তাই না? যাই হোক, সেটা ইস্যু না।
রাশেদ আহমেদ: আপনাকে নিয়োগ করা হয়েছিল কীভাবে? মানে আপনাকে নেয়া হলো যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে, সেটি মানে কার ইচ্ছায়, কেমন করে?
রাশেদ আহমেদ: মানে বিষয়টা কি এরকম, নতুন সরকার মনে করেছে যে তাদের মতো করে আপনি চলবেন না, অথবা আপনার নিজস্ব কিছু প্ল্যান আছে এরকম কিছু কি?
আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, অবশ্যই আই হ্যাভ মাই ওয়ে অফ ডুয়িং থিংস। আমি এমন কোনোভাবে চলবো না যেটা আমার নীতির সাথে যায় না। সেটা তো আমি পরিষ্কারভাবে তখনও বলেছি এখনো বলি, সবসময় বলি। এই যে ১৮ এর ক ধারা যেটা দেওয়া হয়েছিল, যে পুরনো মালিকদের ফেরত... এই ধারাটা যখন যোগ করা হতো আমি যদি থাকতামও চাকরিতে আমি ওইদিন পদত্যাগ করতাম।
রাশেদ আহমেদ: আচ্ছা।
আহসান এইচ মনসুর: অবশ্যই। ঐ ধারা দিয়ে গভর্নর হিসেবে আমি চাকরি করতে পারতাম না।
রাশেদ আহমেদ: কেন করতে পারতেন না সেটার...
আহসান এইচ মনসুর: আমার সামনে দিয়ে ওই আইন বলবৎ হবে এস আলম এন্ড কোম্পানি এসে আবার ব্যাংকের মালিক হবে এটা অ্যাজ এ গভর্নর হাউ ক্যান আই একসেপ্ট ইট? বলুন? এটা সম্ভব না। এটা হাইপোথেটিক্যাল। এটা সম্ভব ছিল না। আমার পক্ষে এটা গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। আমি রেজিগনেশন লেটার দিয়ে দিতাম থাকলে। তো সেই জন্য সেসব কারণেই হয়তো আমাকে রাখা হয়নি। সংগত কারণেই রাখা হয়নি।
রাশেদ আহমেদ: আপনার কথা হচ্ছে বললে ভালো হতো, আপনি এমনিই ছেড়ে আসতেন বিষয়টা এরকম।
আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ অবশ্যই, অবশ্যই।
রাশেদ আহমেদ: এখন আপনি কী... কী নিয়ে কাজ করছেন?
আহসান এইচ মনসুর: আমি আমার অর্থনীতি বিষয়ক জিনিস নিয়েই কাজ করছি।
রাশেদ আহমেদ: বাংলাদেশের?
আহসান এইচ মনসুর: বাংলাদেশকে নিয়েই কাজ করছি। শুনেন আমি আমেরিকা থেকে চলে এসেছি বত্রিশ বছর পরে। বাংলাদেশে... কাজ করার জন্য। ২০০৮ সালে এসছিলাম।
রাশেদ আহমেদ: হ্যাঁ ২০০৮ সালে এসেছিলেন।
আহসান এইচ মনসুর: আমি ৭৬ সালে দেশ ছাড়ি। ২০০৮ এ ফিরি, ৩২ বছর। তো... আমি দেশ থেকে চলে যাওয়ার জন্য আসি নাই, দেশ থেকে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আসি নাই, আমি দেশে থাকার জন্যই এসছি, এখানেই মরার জন্যই এসছি। তো এখানেই থাকবো, এখানেই... কাজ করে যাবো যতদিন পারি। শরীর স্বাস্থ্যে কুলাবে ততদিন।
রাশেদ আহমেদ: ৭৬ সালে আপনি দেশ ছাড়লেন, চলে গেলেন। তখন বাংলাদেশ একটি, ২০০৮ সালে এসে বাংলাদেশের আরেক রকম দেখলেন।
আহসান এইচ মনসুর: আমি প্রত্যেক বছর দেশে আসতাম।
রাশেদ আহমেদ: ৭৬ এর পরে আসতেন প্রতি বছর?
আহসান এইচ মনসুর: হ্যাঁ প্রত্যেক বছর।
রাশেদ আহমেদ: দীর্ঘ সময় আপনি আইএমএফ-এ ছিলেন।
আহসান এইচ মনসুর: আইএমএফে থাকাকালে আমি প্রতি বছরই আসতাম, একবার না একবার। আমার সবসময় প্ল্যান ছিল যে আমি দেশে চলে যাব। এস সুন এজ আই অ্যাম ফাইনান্সিয়ালি সলভেন্ট। দেশে যেয়ে যেন আমাকে চাকরির জন্য বা অন্য কোনো ধান্দায় ঘুরতে না হয়। আমি যেন স্বাধীনভাবে চলতে পারি। তো আমার আইএমএফ-এর পেনশন আছে, ইনশাআল্লাহ আই অ্যাম ফাইন। আমার কোনো দরকার নেই কারো কাছে হাত পাতার।
রাশেদ আহমেদ : আপনি অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশের সবাই বলে যে ভবিষ্যৎ ভালো দেখছি না, সামনে একটা বড় সংকট হতে পারে, মানে কি, আপনার কাছে কী মনে হয়?
আহসান এইচ মনসুর: দেখুন, আমার প্রত্যাশা হচ্ছে এখন যে সরকার এখনো সময় আছে সরকার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সরকারকে... কঠোরভাবে দুর্নীতিকে দমন করতে হবে। দুর্নীতি বেড়ে গেছে। এটা সরকারকে মানতে হবে। এই সময়টাতে বেড়েছে। ইন্টারিম গভমেন্টের সময়ও চাঁদাবাজি বেড়ে গিয়েছিল। সেটা তো কেয়ারটেকার গভমেন্টের লোকেরা তারা চাঁদাবাজি করে নাই। কিন্তু আপনারাও জানেন আমরাও জানি, কারা করেছে? দলীয় লোকেরা। এবং সেটা আরও বেড়েছে। কাজেই এটা এই জায়গাটায় কিন্তু সরকারের জন্য সবচেয়ে বড়... এখানে কাজ করতে হবে। এটাকে জাস্ট উইশফুল থিংকিং করে যে আওয়ামী লীগও করছে আমরাও করতে পারি এটা বললে তো হবে না। দ্যাটস নট একসেপ্টেবল, তাই না?
রাশেদ আহমেদ: জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে কী হতে পারে?
আহসান এইচ মনসুর: আমি তো বলতে পারব না। এখন এটা তো এগেইন জনগণ কীভাবে দেখবে, বিরোধী দল কীভাবে দেখবে, বিরোধী দল কীভাবে জনমত সংগঠন করবে প্রতিবাদ হিসেবে, সেটার ওপর ডিপেন্ড করবে আউটকাম। আমি আশা করব যে সরকার অনুধাবন করবে, যেটা রায় হয়ে গেছে, রায় বাস্তবায়ন করবে। তাহলে তার কোনো আন্দোলনের দরকার হয় না। তাহলে তো আমরা মানে অ্যাটলিস্ট সংস্কারের যে একটা লক্ষ্য ছিল সেটা বাস্তবায়ন হয়। এটা তো দরকার, এটা তো বললে হবে না যে ভোটের জন্য আমরা বলেছিলাম, হ্যাঁ এখন বলছি না। এটা তো কোনো এক্সেপ্টেবল এক্সপ্লেনেশন হতে পারে না। হতে পারে?
রাশেদ আহমেদ: দেশে স্থিতিশীলতা না আসলে তো বিনিয়োগও আসবে না।
রাশেদ আহমেদ: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, আমাদের সময় দেয়ার জন্য।
আহসান এইচ মনসুর: ধন্যবাদ।

আপনার মতামত লিখুন