সংবাদ

সাতক্ষীরায় টর্নেডোর তাণ্ডব, ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

সাতক্ষীরায় টর্নেডোর তাণ্ডব, ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড
ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলায় আকস্মিক টর্নেডো ও মিনি ঘূর্ণিবায়ুর তাণ্ডবে চরম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বাতাসের তোড়ে বেশ কয়েকটি কাঁচা বসতঘর ভেঙে পড়েছে এবং একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের চাল উড়ে গেছে। আকস্মিক এ দুর্যোগে সবকিছু হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

এলাকাবাসী জানায়, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নে হঠাৎ তীব্র ঘূর্ণিবায়ু বয়ে যায়। ঝড়ে ধুলিহরের যুগিপোতা এলাকায় তিনটি বসতবাড়ির চাল উড়ে যায়। একই সময়ে পাশের শুকদেবপুর এলাকার একটি প্রাচীন মন্দিরের চালও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ‘হঠাৎ করেই চারদিক অন্ধকার হয়ে ঘূর্ণিবায়ু শুরু হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের তাণ্ডবে বাড়িঘর ও মন্দিরের চাল উড়ে যায়। গাছপালা ভেঙে পড়ে রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল।’

এদিকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) একই সময়ে আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের উত্তর বাইনতলা গ্রামে হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে বাতাসের সঙ্গে আকস্মিক টর্নেডো আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে টর্নেডোর তাণ্ডবে গ্রামের মৃত রহিম মোল্যার ছেলে দাউদ মোল্যা, আইয়ুব আলী মোল্যা, সাহেব আলী মোল্যা এবং তার ছেলে নয়ন মোল্যার মোট চারটি কাঁচা বসতঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় ঘরের অ্যাসবেস্টসের ছাউনি ও বেড়া বহু দূরে উড়ে যায় এবং আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্ত দাউদ মোল্যা আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘রাতের বেলা হঠাৎ বিকট শব্দে বাতাস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে ঘরের চাল উড়ে যায়। ঘরের সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

পরে আশাশুনির উত্তর বাইনতলা গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বড়দল ইউনিয়ন যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ ও ইউনিয়নের জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গফুর সানা। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

সহযোগিতা শেষে যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা ব্যক্তিগতভাবে তাৎক্ষণিক কিছু সহায়তা করেছি এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকব।

এদিকে সদর উপজেলার ধুলিহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে শনিবার সকালে এলাকা পরিদর্শন করেন ধুলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. তাকদীর আহসান রুবেল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বলেন, ‘এই বিপদের দিনে আমি এলাকার মানুষের পাশে আছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করা হবে।’

টর্নেডোয় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু জানান, ঘটনাস্থলের সঠিক পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে ইতিমধ্যে লোক পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

ঘূর্ণিবায়ু ও টর্নেডোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। তারা দ্রুত ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাতক্ষীরায় টর্নেডোর তাণ্ডব, ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলায় আকস্মিক টর্নেডো ও মিনি ঘূর্ণিবায়ুর তাণ্ডবে চরম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বাতাসের তোড়ে বেশ কয়েকটি কাঁচা বসতঘর ভেঙে পড়েছে এবং একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের চাল উড়ে গেছে। আকস্মিক এ দুর্যোগে সবকিছু হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

এলাকাবাসী জানায়, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নে হঠাৎ তীব্র ঘূর্ণিবায়ু বয়ে যায়। ঝড়ে ধুলিহরের যুগিপোতা এলাকায় তিনটি বসতবাড়ির চাল উড়ে যায়। একই সময়ে পাশের শুকদেবপুর এলাকার একটি প্রাচীন মন্দিরের চালও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ‘হঠাৎ করেই চারদিক অন্ধকার হয়ে ঘূর্ণিবায়ু শুরু হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের তাণ্ডবে বাড়িঘর ও মন্দিরের চাল উড়ে যায়। গাছপালা ভেঙে পড়ে রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল।’

এদিকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) একই সময়ে আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের উত্তর বাইনতলা গ্রামে হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে বাতাসের সঙ্গে আকস্মিক টর্নেডো আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে টর্নেডোর তাণ্ডবে গ্রামের মৃত রহিম মোল্যার ছেলে দাউদ মোল্যা, আইয়ুব আলী মোল্যা, সাহেব আলী মোল্যা এবং তার ছেলে নয়ন মোল্যার মোট চারটি কাঁচা বসতঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় ঘরের অ্যাসবেস্টসের ছাউনি ও বেড়া বহু দূরে উড়ে যায় এবং আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্ত দাউদ মোল্যা আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘রাতের বেলা হঠাৎ বিকট শব্দে বাতাস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে ঘরের চাল উড়ে যায়। ঘরের সব আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

পরে আশাশুনির উত্তর বাইনতলা গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বড়দল ইউনিয়ন যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ ও ইউনিয়নের জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গফুর সানা। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

সহযোগিতা শেষে যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমরা ব্যক্তিগতভাবে তাৎক্ষণিক কিছু সহায়তা করেছি এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকব।

এদিকে সদর উপজেলার ধুলিহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে শনিবার সকালে এলাকা পরিদর্শন করেন ধুলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. তাকদীর আহসান রুবেল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বলেন, ‘এই বিপদের দিনে আমি এলাকার মানুষের পাশে আছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করা হবে।’

টর্নেডোয় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু জানান, ঘটনাস্থলের সঠিক পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে ইতিমধ্যে লোক পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

ঘূর্ণিবায়ু ও টর্নেডোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। তারা দ্রুত ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত