সংবাদ

দৌলতপুরের চরাঞ্চলে শিক্ষক সংকট, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা


প্রতিনিধি, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ)
প্রতিনিধি, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ এএম

দৌলতপুরের চরাঞ্চলে শিক্ষক সংকট, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা
ছবি : সংবাদ

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অনেক কম থাকায় নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গম যমুনা নদীবেষ্টিত এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে এই সংকট সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুরে মোট ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই, যা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ৭৭টি পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে এক-দুজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটে জর্জরিত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ২৯ নম্বর চরভারেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে ৭ জন শিক্ষকের জায়গায় আছেন মাত্র ৩ জন। এ ছাড়া ৩০ নম্বর যদুদুর্গাপুর ও ৫ নম্বর বাঘুটিয়া বিদ্যালয়ে ৫টি করে, ৬১ নম্বর দক্ষিণ চরভারেঙ্গা, ৩১ নম্বর যমুনা চরকাটারী ও ৩৩ নম্বর চরকাটারী বিদ্যালয়ে ৪টি করে এবং ৫৪ নম্বর চরকালিকাপুর বিদ্যালয়ে ৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।

শুধু বিদ্যালয়েই নয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়েও রয়েছে তীব্র জনবল ঘাটতি। অনুমোদিত ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৪টি পদের ২টিই শূন্য। এ ছাড়া সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ও হিসাবরক্ষকের পদ খালি থাকায় বিদ্যালয় পরিদর্শন, তদারকি ও দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি দুর্গম চরাঞ্চলের যাতায়াত দুর্ভোগ, নদীভাঙন, আবাসন সমস্যা ও দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিক্ষকদের, যা বর্ষা ও বন্যার সময় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। চরকাটারী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রহিম ও অন্যান্য শিক্ষকরা নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চরাঞ্চলে পদায়ন এবং ‘চরভাতা’ চালুর দাবি জানিয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর ফিরোজ জানান, অবসর, বদলি ও মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় পদগুলো শূন্য হয়েছে। শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং চরাঞ্চলে নতুন শিক্ষক পদায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, যাতায়াত ও আবাসন সুবিধার উন্নয়ন ছাড়া এ সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দৌলতপুরের চরাঞ্চলে শিক্ষক সংকট, ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অনেক কম থাকায় নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গম যমুনা নদীবেষ্টিত এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে এই সংকট সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুরে মোট ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই, যা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ৭৭টি পদ শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে এক-দুজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটে জর্জরিত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ২৯ নম্বর চরভারেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে ৭ জন শিক্ষকের জায়গায় আছেন মাত্র ৩ জন। এ ছাড়া ৩০ নম্বর যদুদুর্গাপুর ও ৫ নম্বর বাঘুটিয়া বিদ্যালয়ে ৫টি করে, ৬১ নম্বর দক্ষিণ চরভারেঙ্গা, ৩১ নম্বর যমুনা চরকাটারী ও ৩৩ নম্বর চরকাটারী বিদ্যালয়ে ৪টি করে এবং ৫৪ নম্বর চরকালিকাপুর বিদ্যালয়ে ৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে।

শুধু বিদ্যালয়েই নয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়েও রয়েছে তীব্র জনবল ঘাটতি। অনুমোদিত ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৪টি পদের ২টিই শূন্য। এ ছাড়া সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর ও হিসাবরক্ষকের পদ খালি থাকায় বিদ্যালয় পরিদর্শন, তদারকি ও দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি দুর্গম চরাঞ্চলের যাতায়াত দুর্ভোগ, নদীভাঙন, আবাসন সমস্যা ও দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় শিক্ষকদের, যা বর্ষা ও বন্যার সময় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। চরকাটারী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রহিম ও অন্যান্য শিক্ষকরা নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চরাঞ্চলে পদায়ন এবং ‘চরভাতা’ চালুর দাবি জানিয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর ফিরোজ জানান, অবসর, বদলি ও মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় পদগুলো শূন্য হয়েছে। শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং চরাঞ্চলে নতুন শিক্ষক পদায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, যাতায়াত ও আবাসন সুবিধার উন্নয়ন ছাড়া এ সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত