সংবাদ

বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যে ভারতের নতুন শর্ত : বাড়বে খরচ ও সময়


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যে ভারতের নতুন শর্ত : বাড়বে খরচ ও সময়
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানিতে আবারও নতুন শর্ত আরোপ করেছে ভারত। দেশটির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট পাটজাত পণ্য এখন আর আগের মতো স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না। এসব পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রের নাভা শেভা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএফটি) জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে, যা আগে সরাসরি সীমান্তবর্তী স্থলপথ দিয়ে পরিবহন করা যেত।

রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশি পণ্যের পরিবহন খরচ এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় দুটোই মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে। এতদিন বেনাপোল বা আখাউড়ার মতো স্থলবন্দর দিয়ে যে পণ্য দ্রুত ভারতের বাজারে পৌঁছে যেত, এখন তা দীর্ঘ সমুদ্রপথ ঘুরিয়ে পাঠাতে হবে।

এদিকে ভারতের এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব কেবল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ওপরই নয়, বরং ভারতের নিজস্ব পাটশিল্পের ওপরও পড়বে বলে মনে করছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।

ফেডারেশন অব স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ অব ইন্ডিয়ার (ফসি) চেয়ারম্যান চিরঞ্জীব ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের পাটজাত পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হবে। বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান ভারতের পাটের চেয়ে আলাদা। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পাটের যে মূল্যসুবিধা রয়েছে, ভারতের পাটের পক্ষে সেটার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘দুই দেশের সাধারণ ব্যবসায়ী ও মানুষ ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান। কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সেই বাণিজ্যে বাধা তৈরি হচ্ছে। মানবেতর দূরত্বের চেয়ে সরকারি পর্যায় দূরত্ব বাড়ছে।’

অনুরূপ সুর শোনা গেছে বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ও পাট ব্যবসায়ী প্রলয় ব্রহ্মচারীর কণ্ঠেও। তিনি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহু পাটকল এখনো বাংলাদেশি উন্নতমানের পাটের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের আবহাওয়ায় সব অঞ্চলে ওই মানের পাট উৎপাদন সম্ভব নয়। ফলে এই মুহূর্তে বাংলাদেশি পাটের বিকল্প তৈরি করা সহজ হবে না।

যদিও ভারত সরকার বলছে, দেশীয় কৃষক ও অভ্যন্তরীণ শিল্প রক্ষায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; তবে ভারতীয় শিল্পমালিকদের একটি বড় অংশ সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের আমদানিসংক্রান্ত কড়াকড়িতে আখেরে ভারতের নিজস্ব রপ্তানিবাজারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যে ভারতের নতুন শর্ত : বাড়বে খরচ ও সময়

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানিতে আবারও নতুন শর্ত আরোপ করেছে ভারত। দেশটির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট পাটজাত পণ্য এখন আর আগের মতো স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না। এসব পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রের নাভা শেভা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএফটি) জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে, যা আগে সরাসরি সীমান্তবর্তী স্থলপথ দিয়ে পরিবহন করা যেত।

রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশি পণ্যের পরিবহন খরচ এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় দুটোই মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে। এতদিন বেনাপোল বা আখাউড়ার মতো স্থলবন্দর দিয়ে যে পণ্য দ্রুত ভারতের বাজারে পৌঁছে যেত, এখন তা দীর্ঘ সমুদ্রপথ ঘুরিয়ে পাঠাতে হবে।

এদিকে ভারতের এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব কেবল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ওপরই নয়, বরং ভারতের নিজস্ব পাটশিল্পের ওপরও পড়বে বলে মনে করছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।

ফেডারেশন অব স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ অব ইন্ডিয়ার (ফসি) চেয়ারম্যান চিরঞ্জীব ঘোষ বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের পাটজাত পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হবে। বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান ভারতের পাটের চেয়ে আলাদা। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পাটের যে মূল্যসুবিধা রয়েছে, ভারতের পাটের পক্ষে সেটার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘দুই দেশের সাধারণ ব্যবসায়ী ও মানুষ ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান। কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সেই বাণিজ্যে বাধা তৈরি হচ্ছে। মানবেতর দূরত্বের চেয়ে সরকারি পর্যায় দূরত্ব বাড়ছে।’

অনুরূপ সুর শোনা গেছে বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের সদস্য ও পাট ব্যবসায়ী প্রলয় ব্রহ্মচারীর কণ্ঠেও। তিনি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহু পাটকল এখনো বাংলাদেশি উন্নতমানের পাটের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের আবহাওয়ায় সব অঞ্চলে ওই মানের পাট উৎপাদন সম্ভব নয়। ফলে এই মুহূর্তে বাংলাদেশি পাটের বিকল্প তৈরি করা সহজ হবে না।

যদিও ভারত সরকার বলছে, দেশীয় কৃষক ও অভ্যন্তরীণ শিল্প রক্ষায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; তবে ভারতীয় শিল্পমালিকদের একটি বড় অংশ সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের আমদানিসংক্রান্ত কড়াকড়িতে আখেরে ভারতের নিজস্ব রপ্তানিবাজারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত