জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন কোস্টারিকার অর্থনীতিবিদ ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক রেবেকা গ্রিনস্প্যান। বিশ্বসংস্থার শীর্ষ এই পদের জন্য আয়োজিত বাছাই প্রক্রিয়ার চতুর্থ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটেও সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক সমর্থন পেয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নসংক্রান্ত সংস্থা ‘আঙ্কটাড’ (UNCTAD)-এর বর্তমান প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চার দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটের তিনটিতেই পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তবে দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সমর্থন এবং পঞ্চশক্তির ভিটো (ভিটো পাওয়ার) এড়িয়ে যাওয়ার ওপর তার এই অগ্রযাত্রা নির্ভর করছে।
নিরাপত্তা পরিষদের এক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত চতুর্থ দফার ভোটাভুটিতে রেবেকা গ্রিনস্প্যান ১০টি দেশের ইতিবাচক ভোট বা সমর্থন পেয়েছেন। বিপরীতে তিনটি দেশ তার প্রার্থিতার বিরোধিতা বা ‘নিরুৎসাহিত’ করেছে এবং দুটি সদস্য রাষ্ট্র নিরপেক্ষ থেকে মতামত দেওয়া থেকে বিরত ছিল।
বিশ্বসংস্থার বর্তমান মহাসচিব পর্তুগালের দ্যোতিমান কূটনীতিক আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গুতেরেসের উত্তরসূরি হতে মূলত সাতজন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন, যার মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটে আটটি ইতিবাচক ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বর্তমান মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি রয়েছেন তালিকার তৃতীয় স্থানে। এই দৌড়ে থাকা অন্য প্রার্থীরা হলেন সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাকি সাল, ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকি ও মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোসা এবং উগান্ডার কূটনীতিক ওলারাহ ওতুনু।
ঐতিহ্যগতভাবে জাতিসংঘের শীর্ষ পদটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বা রোটেশন ভিত্তিতে বণ্টন করার একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে। সেই ভূরাজনৈতিক হিসেব অনুসারেই এবার মহাসচিবের পদটি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ঝুলিতে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আর সেই অঞ্চলের প্রার্থীদের মধ্যেই আপাতত শীর্ষত্ব ধরে রেখেছেন রেবেকা।
তবে মহাসচিব পদে বসার মূল চাবিকাঠি নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই। ১৫ সদস্যের মধ্যে নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৯টি ইতিবাচক ভোট পেতে হয়। তবে পাঁচ পরাশক্তির কোনো একটি দেশ যদি আপত্তি বা ‘ভিটো’ প্রয়োগ করে, তবে সেই প্রার্থীর দৌড় সেখানেই থেমে যায়।
নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী প্রতিনিধি জেরোম বোনাফঁ মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ সম্পন্নের কথা নিশ্চিত করলেও পঞ্চম দফার ভোটাভুটির দিনক্ষণ জানাননি। নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটিতে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম পরবর্তীতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন কোস্টারিকার অর্থনীতিবিদ ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক রেবেকা গ্রিনস্প্যান। বিশ্বসংস্থার শীর্ষ এই পদের জন্য আয়োজিত বাছাই প্রক্রিয়ার চতুর্থ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটেও সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক সমর্থন পেয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নসংক্রান্ত সংস্থা ‘আঙ্কটাড’ (UNCTAD)-এর বর্তমান প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চার দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটের তিনটিতেই পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তবে দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সমর্থন এবং পঞ্চশক্তির ভিটো (ভিটো পাওয়ার) এড়িয়ে যাওয়ার ওপর তার এই অগ্রযাত্রা নির্ভর করছে।
নিরাপত্তা পরিষদের এক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত চতুর্থ দফার ভোটাভুটিতে রেবেকা গ্রিনস্প্যান ১০টি দেশের ইতিবাচক ভোট বা সমর্থন পেয়েছেন। বিপরীতে তিনটি দেশ তার প্রার্থিতার বিরোধিতা বা ‘নিরুৎসাহিত’ করেছে এবং দুটি সদস্য রাষ্ট্র নিরপেক্ষ থেকে মতামত দেওয়া থেকে বিরত ছিল।
বিশ্বসংস্থার বর্তমান মহাসচিব পর্তুগালের দ্যোতিমান কূটনীতিক আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গুতেরেসের উত্তরসূরি হতে মূলত সাতজন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন, যার মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটে আটটি ইতিবাচক ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বর্তমান মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি রয়েছেন তালিকার তৃতীয় স্থানে। এই দৌড়ে থাকা অন্য প্রার্থীরা হলেন সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাকি সাল, ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকি ও মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোসা এবং উগান্ডার কূটনীতিক ওলারাহ ওতুনু।
ঐতিহ্যগতভাবে জাতিসংঘের শীর্ষ পদটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বা রোটেশন ভিত্তিতে বণ্টন করার একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে। সেই ভূরাজনৈতিক হিসেব অনুসারেই এবার মহাসচিবের পদটি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ঝুলিতে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আর সেই অঞ্চলের প্রার্থীদের মধ্যেই আপাতত শীর্ষত্ব ধরে রেখেছেন রেবেকা।
তবে মহাসচিব পদে বসার মূল চাবিকাঠি নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই। ১৫ সদস্যের মধ্যে নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৯টি ইতিবাচক ভোট পেতে হয়। তবে পাঁচ পরাশক্তির কোনো একটি দেশ যদি আপত্তি বা ‘ভিটো’ প্রয়োগ করে, তবে সেই প্রার্থীর দৌড় সেখানেই থেমে যায়।
নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী প্রতিনিধি জেরোম বোনাফঁ মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ সম্পন্নের কথা নিশ্চিত করলেও পঞ্চম দফার ভোটাভুটির দিনক্ষণ জানাননি। নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটিতে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম পরবর্তীতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন