সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় একসময় লবণাক্ততার কারণে চিংড়িঘেরের ভেড়ি অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সেই ভেড়িতেই অসময়ের তরমুজ চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের সহায়তায় মাচা পদ্ধতিতে সুপ্রিম হানি, ব্ল্যাক বেবি ও তৃপ্তিসহ বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড তরমুজ চাষ করে বাড়তি আয় করছেন শতাধিক কৃষক।
দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছের ঘেরের ভেড়িতে ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের তরমুজ। আগে যেখানে কোনো ফসল হতো না, এখন একই ভেড়িতে তরমুজের পাশাপাশি উচ্ছে, ঢেঁড়স, শিম, কুমড়া, বরবটি ও শসার সমন্বিত চাষ হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর এ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। একসময় অনাবাদি মনে হওয়া জমিই এখন তাদের আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।
কৃষি বিভাগের এসএসসিপি প্রকল্পের আওতায় পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ, জৈব সার, ভার্মিকম্পোস্ট ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নগদ আয়ও বাড়ছে।
নারীরাও এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। স্বামীর সঙ্গে মাছ চাষের পাশাপাশি তরমুজ ও সবজি উৎপাদন করে তারা পারিবারিক আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
দেবহাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৭ হেক্টর জমিতে অসময়ের তরমুজের আবাদ হয়েছে। কুলিয়া ইউনিয়নের এ এলাকায় শতাধিক কৃষক একই ভেড়িতে দুই থেকে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ বলেন, কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ, সার ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মাছের ঘেরের ভেড়ি ও পতিত জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনায় একই জমি থেকে বাড়তি আয় নিশ্চিত হচ্ছে।
কুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার মণ্ডল বলেন, এ উদ্যোগ উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
উপকূলের লবণাক্ত জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ এখন শুধু বাড়তি আয়ের সুযোগই নয়, অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনার একটি সফল দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় একসময় লবণাক্ততার কারণে চিংড়িঘেরের ভেড়ি অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সেই ভেড়িতেই অসময়ের তরমুজ চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের সহায়তায় মাচা পদ্ধতিতে সুপ্রিম হানি, ব্ল্যাক বেবি ও তৃপ্তিসহ বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড তরমুজ চাষ করে বাড়তি আয় করছেন শতাধিক কৃষক।
দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাছের ঘেরের ভেড়িতে ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের তরমুজ। আগে যেখানে কোনো ফসল হতো না, এখন একই ভেড়িতে তরমুজের পাশাপাশি উচ্ছে, ঢেঁড়স, শিম, কুমড়া, বরবটি ও শসার সমন্বিত চাষ হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর এ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। একসময় অনাবাদি মনে হওয়া জমিই এখন তাদের আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।
কৃষি বিভাগের এসএসসিপি প্রকল্পের আওতায় পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ, জৈব সার, ভার্মিকম্পোস্ট ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নগদ আয়ও বাড়ছে।
নারীরাও এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। স্বামীর সঙ্গে মাছ চাষের পাশাপাশি তরমুজ ও সবজি উৎপাদন করে তারা পারিবারিক আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
দেবহাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৭ হেক্টর জমিতে অসময়ের তরমুজের আবাদ হয়েছে। কুলিয়া ইউনিয়নের এ এলাকায় শতাধিক কৃষক একই ভেড়িতে দুই থেকে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ বলেন, কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ, সার ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মাছের ঘেরের ভেড়ি ও পতিত জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনায় একই জমি থেকে বাড়তি আয় নিশ্চিত হচ্ছে।
কুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার মণ্ডল বলেন, এ উদ্যোগ উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
উপকূলের লবণাক্ত জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ এখন শুধু বাড়তি আয়ের সুযোগই নয়, অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনার একটি সফল দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন