দেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের বড় অংশই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা পেতে চান, কিন্তু অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ এই সুযোগ পাচ্ছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই উদ্বেগের কথা জানান।
বিশ্বব্যাপী সেপ্টেম্বর মাসকে ‘রিকভারি মাস’ হিসেবে পালনের অংশ হিসেবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রফেশনালস (আইসাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ জানান, দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো মাদক ব্যবহার করছেন, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, এদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর এবং ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেন। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাদের কাছে মাদক অত্যন্ত সহজলভ্য।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা বা পুনর্বাসন চান এবং ৬২ শতাংশ কাউন্সেলিং সেবা চান। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ এই সুবিধা পাচ্ছেন, যা বিজ্ঞানভিত্তিক মাদক চিকিৎসার বিশাল ঘাটতিকে স্পষ্ট করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এম. এ. মোহিত কামাল বলেন, ‘মাদকাসক্তি থেকে সেরে ওঠা মানে শুধু মাদক গ্রহণ বন্ধ করা নয়; এটি একটি চলমান পরিবর্তন প্রক্রিয়া। মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তিকে ‘নেশাখোর’ বা অপরাধী না ভেবে 'অসুস্থ' হিসেবে দেখতে হবে।’
তিনি টেকসই রিকভারির জন্য পারিবারিক সহযোগিতা, আফটারকেয়ার, পিয়ার সাপোর্ট এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিক ও বিভিন্ন বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকেরা অংশ নেন। বক্তারা মাদক সমস্যাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট ও কাউন্সেলিং সেবা যুক্ত করার জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের বড় অংশই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা পেতে চান, কিন্তু অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ এই সুযোগ পাচ্ছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই উদ্বেগের কথা জানান।
বিশ্বব্যাপী সেপ্টেম্বর মাসকে ‘রিকভারি মাস’ হিসেবে পালনের অংশ হিসেবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রফেশনালস (আইসাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ জানান, দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো মাদক ব্যবহার করছেন, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, এদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর এবং ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেন। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাদের কাছে মাদক অত্যন্ত সহজলভ্য।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা বা পুনর্বাসন চান এবং ৬২ শতাংশ কাউন্সেলিং সেবা চান। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ এই সুবিধা পাচ্ছেন, যা বিজ্ঞানভিত্তিক মাদক চিকিৎসার বিশাল ঘাটতিকে স্পষ্ট করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এম. এ. মোহিত কামাল বলেন, ‘মাদকাসক্তি থেকে সেরে ওঠা মানে শুধু মাদক গ্রহণ বন্ধ করা নয়; এটি একটি চলমান পরিবর্তন প্রক্রিয়া। মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তিকে ‘নেশাখোর’ বা অপরাধী না ভেবে 'অসুস্থ' হিসেবে দেখতে হবে।’
তিনি টেকসই রিকভারির জন্য পারিবারিক সহযোগিতা, আফটারকেয়ার, পিয়ার সাপোর্ট এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিক ও বিভিন্ন বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকেরা অংশ নেন। বক্তারা মাদক সমস্যাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট ও কাউন্সেলিং সেবা যুক্ত করার জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন