সংবাদ

নিয়ন্ত্রণে ১৫ দফা দাবি

বায়ুদূষণে বছরে প্রাণ হারান ১ লাখ মানুষ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

বায়ুদূষণে বছরে প্রাণ হারান ১ লাখ মানুষ

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিবীক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে যুব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ব্রিদ কোলিশন’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা।

‘ব্রিদিং ইন দ্য গ্রে: ফ্রম পলিসি গ্যাপস টু পাবলিক অ্যাকশন ফর ক্লিন এয়ার’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পরিষ্কার বায়ু কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার। বায়ুদূষণ বর্তমানে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য এক ভয়াবহ সংকটে পরিণত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস)-এর পরিচালক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার।

তিনি বলেন, বায়ুদূষণ একটি অদৃশ্য ঘাতক। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর কমে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে প্রতি বছর বায়ুদূষণজনিত রোগে ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মজুমদার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বায়ু গবেষণা সেল’ গঠনের সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, ‘বায়ু ছাড়া আমরা এক মিনিটও বাঁচতে পারি না, অথচ এটি নিয়ে গবেষণা খুব কম। তথ্যভিত্তিক গবেষণা ছাড়া সঠিক নীতিনির্ধারণ সম্ভব নয়।’

দূষণ নিয়ন্ত্রণে যুবসমাজকে সক্রিয় অংশীদার করারও আহ্বান জানান তিনি।

একশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার মো. মাসুদ পারভেজ অভি বলেন, শিশু, প্রবীণ ও শ্রমজীবী মানুষ বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় ১৫ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১৫ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২২’-এর দ্রুত বাস্তবায়ন; পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন; এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ‘পলিউটার পেইজ প্রিন্সিপল’ অনুযায়ী কঠোর জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিল করা।

অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, বায়ুদূষণের অভিযোগ জানাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা হটলাইন চালু করা। ঢাকা ও সব বিভাগীয় শহরে পর্যাপ্ত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে নিয়মিত বায়ুমান (অছও) প্রদর্শন। নির্মাণ এলাকায় ধুলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো ও নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা। ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গতকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। খোলা জায়গায় বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধে নজরদারি বাড়ানো। তীব্র দূষণের সময় জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি এবং ট্রাফিক পুলিশ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উন্নত মাস্ক সরবরাহ। সরকারি তদারকি কমিটিতে যুব প্রতিনিধিদের স্বাধীন পর্যবেক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটির পরিচালক রায়হান নোমান নূরনবীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

অনুষ্ঠানে স্মার্ট এয়ার বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা পরিষ্কার বায়ু নিশ্চিত করতে সরকারকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বায়ুদূষণে বছরে প্রাণ হারান ১ লাখ মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিবীক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে যুব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ব্রিদ কোলিশন’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা।

‘ব্রিদিং ইন দ্য গ্রে: ফ্রম পলিসি গ্যাপস টু পাবলিক অ্যাকশন ফর ক্লিন এয়ার’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পরিষ্কার বায়ু কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার। বায়ুদূষণ বর্তমানে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য এক ভয়াবহ সংকটে পরিণত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস)-এর পরিচালক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার।

তিনি বলেন, বায়ুদূষণ একটি অদৃশ্য ঘাতক। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর কমে যাচ্ছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে প্রতি বছর বায়ুদূষণজনিত রোগে ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মজুমদার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বায়ু গবেষণা সেল’ গঠনের সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, ‘বায়ু ছাড়া আমরা এক মিনিটও বাঁচতে পারি না, অথচ এটি নিয়ে গবেষণা খুব কম। তথ্যভিত্তিক গবেষণা ছাড়া সঠিক নীতিনির্ধারণ সম্ভব নয়।’

দূষণ নিয়ন্ত্রণে যুবসমাজকে সক্রিয় অংশীদার করারও আহ্বান জানান তিনি।

একশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার মো. মাসুদ পারভেজ অভি বলেন, শিশু, প্রবীণ ও শ্রমজীবী মানুষ বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় ১৫ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১৫ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২২’-এর দ্রুত বাস্তবায়ন; পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন; এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ‘পলিউটার পেইজ প্রিন্সিপল’ অনুযায়ী কঠোর জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিল করা।

অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, বায়ুদূষণের অভিযোগ জানাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা হটলাইন চালু করা। ঢাকা ও সব বিভাগীয় শহরে পর্যাপ্ত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে নিয়মিত বায়ুমান (অছও) প্রদর্শন। নির্মাণ এলাকায় ধুলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো ও নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা। ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গতকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। খোলা জায়গায় বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধে নজরদারি বাড়ানো। তীব্র দূষণের সময় জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি এবং ট্রাফিক পুলিশ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উন্নত মাস্ক সরবরাহ। সরকারি তদারকি কমিটিতে যুব প্রতিনিধিদের স্বাধীন পর্যবেক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটির পরিচালক রায়হান নোমান নূরনবীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

অনুষ্ঠানে স্মার্ট এয়ার বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা পরিষ্কার বায়ু নিশ্চিত করতে সরকারকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত