সংবাদ

পদ্মার গ্রাসে সুরেশ্বর মাছ ঘাট, ঝুঁকিতে আড়ত-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান


কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

পদ্মার গ্রাসে সুরেশ্বর মাছ ঘাট, ঝুঁকিতে আড়ত-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
পদ্মার ভাঙনে সুরেশ্বর মাছ ঘাট বিপন্ন, ১৮ আড়ত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বরে পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধের ৪৮ মিটার অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সুরেশ্বর মাছ ঘাট। ভাঙন আতঙ্কে ঘাটের ১৮টি মাছের আড়ত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা।

এ ঘটনায় সুরেশ্বর বাজারের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দার মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙন মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো জানায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে হঠাৎ পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধের সুরেশ্বর মাছ ঘাটসংলগ্ন প্রায় ৪৮ মিটার অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙনের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট ও আড়তের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন। অনেকেই নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোরের আলো ফোটার আগেই আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে সুরেশ্বর মাছ ঘাটে। খোলা আকাশের নিচে শুরু হয় মাছের কেনাবেচা। একদিকে চলছে মাছের দরদাম, অন্যদিকে ভাঙন আতঙ্কে আড়তঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ব্যস্ততা। অনিশ্চয়তার মধ্যেই জীবিকার তাগিদে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ঘাটের ব্যবসায়ীরা।

তাদেরই একজন শফিকুল ইসলাম। ভাঙন আতঙ্কে নিজের দোকানঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে ব্যস্ত তিনি। দীর্ঘদিনের ব্যবসা ও আয়ের শেষ সম্বল হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা এই ব্যবসায়ী। কোথায় যাবেন, কীভাবে জীবিকা চালাবেন—এমন দুশ্চিন্তায় কাটছে তার সময়।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জীবনে অনেকবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাতে হয়েছে। বাঁধ দেওয়ার পর স্বস্তি পেয়েছিলাম, ভেবেছিলাম আর বুঝি ভাঙবে না। আজ সেই বাঁধেই ভেঙে গেছে। হুমকিতে রয়েছে পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও। মালামাল নিয়ে কোথায় যাব, কী করব, তা ভেবে পাচ্ছি না।’

শুধু শফিকুল ইসলাম নন, সুরেশ্বর বাজারের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী এখন ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অনেকেই জীবনে একাধিকবার নদীভাঙনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। পদ্মার ভাঙনে হারিয়েছেন বসতভিটা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকার অবলম্বন। ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর নদীতীরবর্তী এই বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু নতুন করে বাঁধ ধসে পড়ায় সেই স্বস্তি আবারও অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে।

সুরেশ্বর এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘বাজারের সঙ্গেই আমাদের ঘরবাড়ি। বাজার ভেঙে গেলে আমরাও বাড়িতে থাকতে পারব না। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ দিয়েছে, কিন্তু তারা বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো করছে না বলেই আজ এই পরিণতি। আমরা বাঁধ রক্ষার জন্য জোরালো দাবি করছি।’

এদিকে, ভাঙন মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন জানিয়েছেন, সুরেশ্বর এলাকায় বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে এক হাজার ৪০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে নতুন করে বাঁধ ধসে পড়ায় সুরেশ্বর মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নদীভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


পদ্মার গ্রাসে সুরেশ্বর মাছ ঘাট, ঝুঁকিতে আড়ত-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বরে পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধের ৪৮ মিটার অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সুরেশ্বর মাছ ঘাট। ভাঙন আতঙ্কে ঘাটের ১৮টি মাছের আড়ত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা।

এ ঘটনায় সুরেশ্বর বাজারের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দার মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙন মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো জানায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে হঠাৎ পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাঁধের সুরেশ্বর মাছ ঘাটসংলগ্ন প্রায় ৪৮ মিটার অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙনের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট ও আড়তের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন। অনেকেই নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোরের আলো ফোটার আগেই আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে সুরেশ্বর মাছ ঘাটে। খোলা আকাশের নিচে শুরু হয় মাছের কেনাবেচা। একদিকে চলছে মাছের দরদাম, অন্যদিকে ভাঙন আতঙ্কে আড়তঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ব্যস্ততা। অনিশ্চয়তার মধ্যেই জীবিকার তাগিদে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ঘাটের ব্যবসায়ীরা।

তাদেরই একজন শফিকুল ইসলাম। ভাঙন আতঙ্কে নিজের দোকানঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে ব্যস্ত তিনি। দীর্ঘদিনের ব্যবসা ও আয়ের শেষ সম্বল হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা এই ব্যবসায়ী। কোথায় যাবেন, কীভাবে জীবিকা চালাবেন—এমন দুশ্চিন্তায় কাটছে তার সময়।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জীবনে অনেকবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরাতে হয়েছে। বাঁধ দেওয়ার পর স্বস্তি পেয়েছিলাম, ভেবেছিলাম আর বুঝি ভাঙবে না। আজ সেই বাঁধেই ভেঙে গেছে। হুমকিতে রয়েছে পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও। মালামাল নিয়ে কোথায় যাব, কী করব, তা ভেবে পাচ্ছি না।’

শুধু শফিকুল ইসলাম নন, সুরেশ্বর বাজারের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী এখন ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অনেকেই জীবনে একাধিকবার নদীভাঙনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। পদ্মার ভাঙনে হারিয়েছেন বসতভিটা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকার অবলম্বন। ডানতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর নদীতীরবর্তী এই বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু নতুন করে বাঁধ ধসে পড়ায় সেই স্বস্তি আবারও অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে।

সুরেশ্বর এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘বাজারের সঙ্গেই আমাদের ঘরবাড়ি। বাজার ভেঙে গেলে আমরাও বাড়িতে থাকতে পারব না। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ দিয়েছে, কিন্তু তারা বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো করছে না বলেই আজ এই পরিণতি। আমরা বাঁধ রক্ষার জন্য জোরালো দাবি করছি।’

এদিকে, ভাঙন মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন জানিয়েছেন, সুরেশ্বর এলাকায় বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে এক হাজার ৪০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে নতুন করে বাঁধ ধসে পড়ায় সুরেশ্বর মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নদীভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত