খেলতে খেলতে বাড়ির উঠোনের বালতিতেই নিভে গেল ফুটফুটে তাসকিয়ার ছোট্ট প্রাণ। ৩ বছরের নিষ্পাপ এই শিশুটির অকাল বিদায়ের হৃদয়বিদারক ঘটনাটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের রবিউল্লা বেপারী পাড়ায় ঘটেছে। সে ওই এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী ইলিয়াস শেখের ছোট মেয়ে।
আগের দিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে তাসকিয়ার বড় বোন মাসিফা বাড়ির পাশের বিল থেকে ভালোবেসে কিছু শাপলা ফুল তুলে এনেছিল। ফুলগুলো সতেজ রাখার জন্য বাড়ির টিউবওয়েলের পাশে জলভর্তি একটি বড় বালতিতে ভিজিয়ে রাখে সে।
সকালের মিষ্টি রোদে ৩ বছরের তাসকিয়ার নজর কাড়ে সেই রঙিন শাপলা ফুল। পরিবারের সবার অগোচরে খেলতে খেলতে সে এগিয়ে যায় সেই মৃত্যুরূপী বালতিটির দিকে।
টলটলে পানির ওপর ভাসতে থাকা শাপলা ফুলটি হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চেয়েছিল অবুঝ শিশুটি। কিন্তু ছোট্ট হাতের নাগাল না পেয়ে আরও একটু ঝুঁকতে গিয়েই ভারসাম্য হারিয়ে উপুড় হয়ে পড়ে যায় বালতির ভেতরে। কেউ জানল না, কেউ দেখল না—নীরবেই পানির নিচে ছটফট করতে করতে শেষ হয়ে গেল তাসকিয়ার পৃথিবী।
কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতরে তাসকিয়াকে না পেয়ে মা ও স্বজনদের বুক কেঁপে ওঠে। শুরু হয় চারদিকে তীব্র খোঁজাখুঁজি। এক পর্যায়ে টিউবওয়েলের পাড়ে গিয়ে বালতির ভেতরে তাসকিয়ার নিথর দেহটি ভাসতে দেখে আর্তনাদ করে ওঠেন মা।
প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক অত্যন্ত ভারী গলায় জানিয়ে দেন, সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তাসকিয়া আর নেই, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সে না-ফেরার দেশে চলে গেছে।
তাসকিয়ার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা ও গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে রবিউল্লা বেপারী পাড়ার বাতাস।

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
খেলতে খেলতে বাড়ির উঠোনের বালতিতেই নিভে গেল ফুটফুটে তাসকিয়ার ছোট্ট প্রাণ। ৩ বছরের নিষ্পাপ এই শিশুটির অকাল বিদায়ের হৃদয়বিদারক ঘটনাটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের রবিউল্লা বেপারী পাড়ায় ঘটেছে। সে ওই এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী ইলিয়াস শেখের ছোট মেয়ে।
আগের দিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে তাসকিয়ার বড় বোন মাসিফা বাড়ির পাশের বিল থেকে ভালোবেসে কিছু শাপলা ফুল তুলে এনেছিল। ফুলগুলো সতেজ রাখার জন্য বাড়ির টিউবওয়েলের পাশে জলভর্তি একটি বড় বালতিতে ভিজিয়ে রাখে সে।
সকালের মিষ্টি রোদে ৩ বছরের তাসকিয়ার নজর কাড়ে সেই রঙিন শাপলা ফুল। পরিবারের সবার অগোচরে খেলতে খেলতে সে এগিয়ে যায় সেই মৃত্যুরূপী বালতিটির দিকে।
টলটলে পানির ওপর ভাসতে থাকা শাপলা ফুলটি হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চেয়েছিল অবুঝ শিশুটি। কিন্তু ছোট্ট হাতের নাগাল না পেয়ে আরও একটু ঝুঁকতে গিয়েই ভারসাম্য হারিয়ে উপুড় হয়ে পড়ে যায় বালতির ভেতরে। কেউ জানল না, কেউ দেখল না—নীরবেই পানির নিচে ছটফট করতে করতে শেষ হয়ে গেল তাসকিয়ার পৃথিবী।
কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতরে তাসকিয়াকে না পেয়ে মা ও স্বজনদের বুক কেঁপে ওঠে। শুরু হয় চারদিকে তীব্র খোঁজাখুঁজি। এক পর্যায়ে টিউবওয়েলের পাড়ে গিয়ে বালতির ভেতরে তাসকিয়ার নিথর দেহটি ভাসতে দেখে আর্তনাদ করে ওঠেন মা।
প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক অত্যন্ত ভারী গলায় জানিয়ে দেন, সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তাসকিয়া আর নেই, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সে না-ফেরার দেশে চলে গেছে।
তাসকিয়ার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা ও গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে রবিউল্লা বেপারী পাড়ার বাতাস।

আপনার মতামত লিখুন