দেশের সাধারণ মানুষকে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও আইন সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
দেশের ৪৯টি জেলার প্রশাসকদের অনুকূলে প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাবদ মোট ২ কোটি ৩৩ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৪ টাকা ছাড় করা হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও অডিট অধিশাখা থেকে এই অর্থ মঞ্জুরির সরকারি আদেশ জারি করা হয়।
প্রকাশিত আদেশ অনুযায়ী, বরাদ্দ অর্থের মধ্যে একক জেলা হিসেবে সর্বোচ্চ ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার ১১০ টাকা পেয়েছে নেত্রকোনা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফেনী জেলায় ১৪ লাখ ৬০ হাজার ১৭ টাকা এবং টাঙ্গাইল জেলায় ১০ লাখ ৮২ হাজার ৩১৫ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া রংপুর জেলায় ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৯৭৬ টাকা, রাজবাড়ীতে ৯ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮০ টাকা এবং নওগাঁ জেলায় ৮ লাখ ৭২ হাজার ৬৭৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেশের রাজধানী জেলা ঢাকার জন্য ৯৬ হাজার ৮২০ টাকা বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলার মধ্যে মুন্সিগঞ্জে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৭ টাকা, মানিকগঞ্জে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৫২ টাকা, নরসিংদীতে ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫৮ টাকা, ফরিদপুরে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৪৫ টাকা এবং গাজীপুর জেলায় ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।
বিভাগটির শরীয়তপুরে ৮৬ হাজার ৮৪৮ টাকা, গোপালগঞ্জে ৭৬ হাজার ৮৪ টাকা এবং মাদারীপুর জেলায় ৪৬ হাজার ৪৬০ টাকা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে নোয়াখালী ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২ টাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৪ লাখ ৪৫ দশমিক ৬৪৭ টাকা, চট্টগ্রাম ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪০ টাকা, লক্ষ্মীপুর ২ লাখ ৪০ হাজার ৮১০ টাকা, চাঁদপুর ২ লাখ ২২ হাজার ৮৯৬ টাকা এবং কক্সবাজার ২ লাখ ২০ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।
পাশাপাশি পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী জেলা বান্দরবানে ১ লাখ ৬৬ লাখ ৭৭৭ টাকা, খাগড়াছড়িতে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭০ টাকা এবং রাঙ্গামাটিতে ৫৮ হাজার ৬৪০ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে পাবনায় ৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৪ টাকা, দিনাজপুরে ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৬৫ টাকা, গাইবান্ধায় ৭ লাখ ৩ হাজার ২২ টাকা, সিরাজগঞ্জে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৮৯২ টাকা এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ৬ লাখ ৭ হাজার ৫৫১ টাকা পৌঁছাবে।
এই অঞ্চলে পঞ্চগড় ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৩ টাকা, বগুড়া ৩ লাখ ৫৪ দশমিক ৭৬৮ টাকা, কুড়িগ্রাম ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮৫ টাকা, নাটোর ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৪৮ টাকা, লালমনিরহাট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪০ টাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৭৯ টাকা এবং জয়পুরহাট ২৬ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ লাভ করেছে।
খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার তালিকায় খুলনায় ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৬৩৬ টাকা, কুষ্টিয়ায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬০৪ টাকা, সাতক্ষীরায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯২০ টাকা এবং বাগেরহাটে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪৬৩ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া যশোরে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৩২২ টাকা, মাগুরায় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৩৬ টাকা, নড়াইলে ২ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা, মেহেরপুরে ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০০ টাকা এবং চুয়াডাঙ্গায় ৯৩ হাজার ৪৯৫ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক আদেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, "এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫-সহ দেশের প্রচলিত সব ধরণের আর্থিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসসমূহের বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বকেয়া পড়া প্রচার ও বিজ্ঞাপন বিলগুলোও এই বরাদ্দ থেকে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।"
সরকারি দিকনির্দেশনায় ভবিষ্যতের বিষয়ে সতর্ক করে বলা হয়েছে, "যেহেতু বকেয়া মেটানোর জন্য এই বরাদ্দ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তাই পরবর্তীতে এই সংক্রান্ত আর কোনো বকেয়া বিলের দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যেকোনো প্রকার অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়নকারী কর্মকর্তা সরাসরি দায়ী থাকবেন। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অব্যবহৃত ও উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠাতে হবে।"

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
দেশের সাধারণ মানুষকে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও আইন সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
দেশের ৪৯টি জেলার প্রশাসকদের অনুকূলে প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাবদ মোট ২ কোটি ৩৩ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৪ টাকা ছাড় করা হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও অডিট অধিশাখা থেকে এই অর্থ মঞ্জুরির সরকারি আদেশ জারি করা হয়।
প্রকাশিত আদেশ অনুযায়ী, বরাদ্দ অর্থের মধ্যে একক জেলা হিসেবে সর্বোচ্চ ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার ১১০ টাকা পেয়েছে নেত্রকোনা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফেনী জেলায় ১৪ লাখ ৬০ হাজার ১৭ টাকা এবং টাঙ্গাইল জেলায় ১০ লাখ ৮২ হাজার ৩১৫ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া রংপুর জেলায় ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৯৭৬ টাকা, রাজবাড়ীতে ৯ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮০ টাকা এবং নওগাঁ জেলায় ৮ লাখ ৭২ হাজার ৬৭৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেশের রাজধানী জেলা ঢাকার জন্য ৯৬ হাজার ৮২০ টাকা বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলার মধ্যে মুন্সিগঞ্জে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৭ টাকা, মানিকগঞ্জে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৫২ টাকা, নরসিংদীতে ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫৮ টাকা, ফরিদপুরে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৪৫ টাকা এবং গাজীপুর জেলায় ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।
বিভাগটির শরীয়তপুরে ৮৬ হাজার ৮৪৮ টাকা, গোপালগঞ্জে ৭৬ হাজার ৮৪ টাকা এবং মাদারীপুর জেলায় ৪৬ হাজার ৪৬০ টাকা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে নোয়াখালী ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫১২ টাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৪ লাখ ৪৫ দশমিক ৬৪৭ টাকা, চট্টগ্রাম ২ লাখ ৮৭ হাজার ৪০ টাকা, লক্ষ্মীপুর ২ লাখ ৪০ হাজার ৮১০ টাকা, চাঁদপুর ২ লাখ ২২ হাজার ৮৯৬ টাকা এবং কক্সবাজার ২ লাখ ২০ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।
পাশাপাশি পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী জেলা বান্দরবানে ১ লাখ ৬৬ লাখ ৭৭৭ টাকা, খাগড়াছড়িতে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৭০ টাকা এবং রাঙ্গামাটিতে ৫৮ হাজার ৬৪০ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে পাবনায় ৭ লাখ ৯৮ হাজার ১৪ টাকা, দিনাজপুরে ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৬৫ টাকা, গাইবান্ধায় ৭ লাখ ৩ হাজার ২২ টাকা, সিরাজগঞ্জে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৮৯২ টাকা এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ৬ লাখ ৭ হাজার ৫৫১ টাকা পৌঁছাবে।
এই অঞ্চলে পঞ্চগড় ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৩ টাকা, বগুড়া ৩ লাখ ৫৪ দশমিক ৭৬৮ টাকা, কুড়িগ্রাম ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮৫ টাকা, নাটোর ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৪৮ টাকা, লালমনিরহাট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪০ টাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৭৯ টাকা এবং জয়পুরহাট ২৬ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ লাভ করেছে।
খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার তালিকায় খুলনায় ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৬৩৬ টাকা, কুষ্টিয়ায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬০৪ টাকা, সাতক্ষীরায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯২০ টাকা এবং বাগেরহাটে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪৬৩ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া যশোরে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৩২২ টাকা, মাগুরায় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৩৬ টাকা, নড়াইলে ২ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা, মেহেরপুরে ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০০ টাকা এবং চুয়াডাঙ্গায় ৯৩ হাজার ৪৯৫ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক আদেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, "এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫-সহ দেশের প্রচলিত সব ধরণের আর্থিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসসমূহের বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বকেয়া পড়া প্রচার ও বিজ্ঞাপন বিলগুলোও এই বরাদ্দ থেকে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।"
সরকারি দিকনির্দেশনায় ভবিষ্যতের বিষয়ে সতর্ক করে বলা হয়েছে, "যেহেতু বকেয়া মেটানোর জন্য এই বরাদ্দ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তাই পরবর্তীতে এই সংক্রান্ত আর কোনো বকেয়া বিলের দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যেকোনো প্রকার অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়নকারী কর্মকর্তা সরাসরি দায়ী থাকবেন। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অব্যবহৃত ও উদ্বৃত্ত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠাতে হবে।"

আপনার মতামত লিখুন