সংবাদ

পর্যটকদের টানছে নেছারাবাদের কাশফুল


প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রতিনিধি, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

পর্যটকদের টানছে নেছারাবাদের কাশফুল
নেছারাবাদে সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে দৃষ্টি কাড়ছে শরতের কাশফুল

শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর দিগন্তজোড়া কাশফুলের শুভ্রতায় অপরূপ সাজে সেজেছে পিরোজপুর এর নেছারাবাদ উপজেলা। বিশেষ করে সন্ধ্যা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল মাগুরা, ছারছিনা দরবার এর সামনে, কোর্ড বিল্ডিং এলাকা, ফায়ার সার্ভিস এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকায় ফুটে থাকা কাশফুলের সৌন্দর্য টানছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। প্রতিদিনই পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের নিয়ে সেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের প্রায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সারি সারি কাশফুল বাতাসে দুলছে। দক্ষিণা বাতাসে সাদা শীষের দোল যেন তৈরি করেছে ঢেউয়ের মতো দৃশ্য। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর সবুজের মাঝে কাশফুলের শুভ্রতা পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে মনোমুগ্ধকর।

কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল থেকেই সেখানে মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে ছুটে আসছেন। কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, সেলফি তোলা আর প্রকৃতির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতেই ব্যস্ত দর্শনার্থীরা।

স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশবনের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে বিকেলের দিকে এই ভিড় তুলনামূলক বেশি হয়। সূর্যের নরম আলো কাশফুলের ওপর পড়লে পুরো প্রান্তর যেন নতুন রূপ পায়।

তবে দর্শনার্থীদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে তাদের। অনেকে কাশফুল ছিঁড়ে নষ্ট করেন, আবার কেউ কেউ কাশবনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নোংরা করেন। কাশবনের সৌন্দর্য ধরে রাখতে দর্শনার্থীদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

শুধু সৌন্দর্য নয়, গ্রামীণ জীবনেও কাশের রয়েছে ব্যবহারিক গুরুত্ব। স্থানীয়ভাবে ঘরের চালা, পানের বরজ ও সবজি বাগানের বেড়া তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে কাশ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি মাটিক্ষয় রোধেও কাশগাছ ভূমিকা রাখে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের দাবি, কাশবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে ফুল না ছেঁড়া, গাছের ক্ষতি না করা এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে দর্শনার্থীদের সচেতন করতে হবে। এতে প্রতিবছর শরৎকালে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ অক্ষুণ্ন থাকবে।

প্রকৃতির নিয়মে শরৎ আসে, সঙ্গে নিয়ে আসে কাশফুলের শুভ্রতা। নেছারাবাদে সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলও এখন সেই শরতেরই এক মনোমুগ্ধকর প্রতিচ্ছবি। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই তাই ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


পর্যটকদের টানছে নেছারাবাদের কাশফুল

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর দিগন্তজোড়া কাশফুলের শুভ্রতায় অপরূপ সাজে সেজেছে পিরোজপুর এর নেছারাবাদ উপজেলা। বিশেষ করে সন্ধ্যা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল মাগুরা, ছারছিনা দরবার এর সামনে, কোর্ড বিল্ডিং এলাকা, ফায়ার সার্ভিস এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকায় ফুটে থাকা কাশফুলের সৌন্দর্য টানছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। প্রতিদিনই পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের নিয়ে সেখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের প্রায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সারি সারি কাশফুল বাতাসে দুলছে। দক্ষিণা বাতাসে সাদা শীষের দোল যেন তৈরি করেছে ঢেউয়ের মতো দৃশ্য। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর সবুজের মাঝে কাশফুলের শুভ্রতা পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে মনোমুগ্ধকর।

কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল থেকেই সেখানে মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে ছুটে আসছেন। কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, সেলফি তোলা আর প্রকৃতির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতেই ব্যস্ত দর্শনার্থীরা।

স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশবনের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে বিকেলের দিকে এই ভিড় তুলনামূলক বেশি হয়। সূর্যের নরম আলো কাশফুলের ওপর পড়লে পুরো প্রান্তর যেন নতুন রূপ পায়।

তবে দর্শনার্থীদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে তাদের। অনেকে কাশফুল ছিঁড়ে নষ্ট করেন, আবার কেউ কেউ কাশবনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নোংরা করেন। কাশবনের সৌন্দর্য ধরে রাখতে দর্শনার্থীদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

শুধু সৌন্দর্য নয়, গ্রামীণ জীবনেও কাশের রয়েছে ব্যবহারিক গুরুত্ব। স্থানীয়ভাবে ঘরের চালা, পানের বরজ ও সবজি বাগানের বেড়া তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে কাশ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি মাটিক্ষয় রোধেও কাশগাছ ভূমিকা রাখে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের দাবি, কাশবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে ফুল না ছেঁড়া, গাছের ক্ষতি না করা এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে দর্শনার্থীদের সচেতন করতে হবে। এতে প্রতিবছর শরৎকালে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ অক্ষুণ্ন থাকবে।

প্রকৃতির নিয়মে শরৎ আসে, সঙ্গে নিয়ে আসে কাশফুলের শুভ্রতা। নেছারাবাদে সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলও এখন সেই শরতেরই এক মনোমুগ্ধকর প্রতিচ্ছবি। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই তাই ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত