রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি প্রদান এবং একজন নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, "তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা রয়েছে। সেজন্য আমরা তাকে গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবো। থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে।"
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।
এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পরিবারসহ ঢাকায় অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে নামার পর অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রলি পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের কর্মচারীদের সঙ্গে কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের অনুরোধে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরিবেশ শান্ত করার উদ্যোগ নেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত হলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অশালীন আচরণ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন এবং হুমকিসূচক বক্তব্য দেন। পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য সংসদ সদস্য নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। তবে এর পরও তিনি বিমানবন্দরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উদ্দেশ্য করে হুমকিমূলক কথা বলতে থাকেন। পাশাপাশি তার সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারী ব্যক্তিরা কেপিআই-ভুক্ত এই স্পর্শকাতর এলাকার ভিডিও চিত্র ধারণ করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে এজাহারে আরও বলা হয়, উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কেপিআই এলাকায় নিয়ম ভেঙে ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেন নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তখন আখতারুজ্জামান তার ওপর চড়াও হন, কটু মন্তব্য করেন এবং একপর্যায়ে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। পরবর্তীতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি উপস্থিত হলে তার সঙ্গেও তিনি চরম উত্তেজিত আচরণ করেন এবং ট্রলিতে রাখা অন্য যাত্রীদের জমজমের পানির পাত্র ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটান।
মামলার বাদী তার অভিযোগে তুলে ধরেন, এসব উসকানিমূলক আচরণের ফলে বিমানবন্দরের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং সেখানে দায়িত্বরত কর্মীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি ও শারীরিক আঘাতের দায়ে করা এই মামলাটি আদালত ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছেন এবং আগামী ১০ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন।

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি প্রদান এবং একজন নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, "তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা রয়েছে। সেজন্য আমরা তাকে গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবো। থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে।"
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।
এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পরিবারসহ ঢাকায় অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে নামার পর অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ট্রলি পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের কর্মচারীদের সঙ্গে কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের অনুরোধে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরিবেশ শান্ত করার উদ্যোগ নেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত হলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অশালীন আচরণ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন এবং হুমকিসূচক বক্তব্য দেন। পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য সংসদ সদস্য নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। তবে এর পরও তিনি বিমানবন্দরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উদ্দেশ্য করে হুমকিমূলক কথা বলতে থাকেন। পাশাপাশি তার সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারী ব্যক্তিরা কেপিআই-ভুক্ত এই স্পর্শকাতর এলাকার ভিডিও চিত্র ধারণ করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে এজাহারে আরও বলা হয়, উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কেপিআই এলাকায় নিয়ম ভেঙে ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেন নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তখন আখতারুজ্জামান তার ওপর চড়াও হন, কটু মন্তব্য করেন এবং একপর্যায়ে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। পরবর্তীতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি উপস্থিত হলে তার সঙ্গেও তিনি চরম উত্তেজিত আচরণ করেন এবং ট্রলিতে রাখা অন্য যাত্রীদের জমজমের পানির পাত্র ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটান।
মামলার বাদী তার অভিযোগে তুলে ধরেন, এসব উসকানিমূলক আচরণের ফলে বিমানবন্দরের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং সেখানে দায়িত্বরত কর্মীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি ও শারীরিক আঘাতের দায়ে করা এই মামলাটি আদালত ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছেন এবং আগামী ১০ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন