সংবাদ

তৈরি পোশাকে ভর করে বাড়ল রপ্তানি আয়


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

তৈরি পোশাকে ভর করে বাড়ল রপ্তানি আয়
তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক পণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে

তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক পণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সদ্য বিদায়ী মাসে দেশ থেকে মোট ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। তবে চলতি বছরের আগস্টের তুলনায় একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে মোট রপ্তানি আয় কমেছে ১১.১১ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষে মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১,৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এর পরিমাণ ছিল ১,২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সে হিসাবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে সার্বিক পণ্য রপ্তানিতে ৬.৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

জাতীয় রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাত থেকে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছে ১,০৫৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৯৭ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার ডলার (প্রবৃদ্ধি ৬.১০ শতাংশ)। কেবল সেপ্টেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি ৮.৫৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারে।

পোশাক খাতের উপ-খাতগুলোর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে নিটওয়্যার পণ্য থেকে ৫৯৬ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার (প্রবৃদ্ধি ৬.৮৮%) এবং ওভেন পোশাক থেকে ৪৬১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার (প্রবৃদ্ধি ৫.১১%) অর্জিত হয়েছে।

তবে সেপ্টেম্বরের এই প্রবৃদ্ধিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধার হিসেবে দেখতে নারাজ তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান, গত বছরের (২০২৫) সেপ্টেম্বরে রপ্তানি অস্বাভাবিক কম হওয়ায় তুলনামূলক কম ভিত্তির (খড়ি ইধংব) ওপর দাঁড়িয়ে এবার এই প্রবৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়েছে। মূলত সেপ্টেম্বরে দেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ৩.০৮ বিলিয়ন ডলার, যা স্বাভাবিক মাসিক গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম। এতে পোশাক শিল্পের চলমান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও সংকটের চিত্রই ফুটে ওঠে।

অন্যদিকে পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণে কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১৪.৭৪ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৩১.৫৫ শতাংশ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৬.৫১ শতাংশ, হোম টেক্সটাইলে ১১.৯৪ শতাংশ এবং ফার্মাসিউটিক্যালসে (ওষুধ) সর্বাধিক ৪০.৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এককভাবে সেপ্টেম্বর মাসেও ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ৬৪.৩৩ শতাংশ। তবে বিপরীতে কৃষিপণ্য এবং হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানিতে মন্দা দেখা গেছে।

বাজারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম তিন মাসে পণ্য পাঠানো হয়েছে ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের (প্রবৃদ্ধি ১১.৩৪%) পণ্য। এছাড়া যুক্তরাজ্যে ১৩৭ কোটি ২ লাখ এবং জার্মানিতে ১২১ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। পাশাপাশি উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে রপ্তানি ১০০.১১ শতাংশ বেড়ে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ইপিবি জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যান বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখার একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


তৈরি পোশাকে ভর করে বাড়ল রপ্তানি আয়

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

তৈরি পোশাক খাতের ওপর ভর করে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক পণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সদ্য বিদায়ী মাসে দেশ থেকে মোট ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। তবে চলতি বছরের আগস্টের তুলনায় একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে মোট রপ্তানি আয় কমেছে ১১.১১ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষে মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১,৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এর পরিমাণ ছিল ১,২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সে হিসাবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে সার্বিক পণ্য রপ্তানিতে ৬.৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

জাতীয় রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাত থেকে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছে ১,০৫৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৯৭ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার ডলার (প্রবৃদ্ধি ৬.১০ শতাংশ)। কেবল সেপ্টেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি ৮.৫৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারে।

পোশাক খাতের উপ-খাতগুলোর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে নিটওয়্যার পণ্য থেকে ৫৯৬ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার (প্রবৃদ্ধি ৬.৮৮%) এবং ওভেন পোশাক থেকে ৪৬১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার (প্রবৃদ্ধি ৫.১১%) অর্জিত হয়েছে।

তবে সেপ্টেম্বরের এই প্রবৃদ্ধিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধার হিসেবে দেখতে নারাজ তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান, গত বছরের (২০২৫) সেপ্টেম্বরে রপ্তানি অস্বাভাবিক কম হওয়ায় তুলনামূলক কম ভিত্তির (খড়ি ইধংব) ওপর দাঁড়িয়ে এবার এই প্রবৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়েছে। মূলত সেপ্টেম্বরে দেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ৩.০৮ বিলিয়ন ডলার, যা স্বাভাবিক মাসিক গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম। এতে পোশাক শিল্পের চলমান কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও সংকটের চিত্রই ফুটে ওঠে।

অন্যদিকে পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণে কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১৪.৭৪ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ৩১.৫৫ শতাংশ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৬.৫১ শতাংশ, হোম টেক্সটাইলে ১১.৯৪ শতাংশ এবং ফার্মাসিউটিক্যালসে (ওষুধ) সর্বাধিক ৪০.৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এককভাবে সেপ্টেম্বর মাসেও ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ৬৪.৩৩ শতাংশ। তবে বিপরীতে কৃষিপণ্য এবং হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানিতে মন্দা দেখা গেছে।

বাজারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম তিন মাসে পণ্য পাঠানো হয়েছে ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের (প্রবৃদ্ধি ১১.৩৪%) পণ্য। এছাড়া যুক্তরাজ্যে ১৩৭ কোটি ২ লাখ এবং জার্মানিতে ১২১ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। পাশাপাশি উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে রপ্তানি ১০০.১১ শতাংশ বেড়ে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ইপিবি জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যান বৈশ্বিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখার একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত