সংবাদ

চট্টগ্রামে কেজিতে মাল্টার দাম বাড়ল ২০০ টাকা


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

চট্টগ্রামে কেজিতে মাল্টার দাম বাড়ল ২০০ টাকা
চট্টগ্রামে এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২০০ টাকা বাড়ল মাল্টার দাম।

চট্টগ্রামের বাজারে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে আমদানি করা বিদেশি ফলের দাম। বিশেষ করে ডেঙ্গুর এই ভরা মৌসুমে চাহিদা বাড়াকে কাজে লাগিয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাল্টা। এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামে মাল্টার দাম কেজিতে প্রায় দুই শত টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা আমদানি ও সরবরাহ সংকটের দোহাই দিলেও কাস্টমসের তথ্যে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ফলের দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে এখন এক কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং এক মাস আগে তা বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে।

ফল ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কনটেইনার মাল্টার চাহিদা রয়েছে। তবে গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে বাজারে দিনে মাত্র ৬ থেকে ৭ কনটেইনার মাল্টা পৌঁছাচ্ছে। সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসা এবং একই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রামের ফল আমদানিকারক মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, “জাহাজ সংকট এবং ফলের মৌসুম শেষ হয়ে আসার কারণে মাল্টা ও কমলার সরবরাহ কমেছে। তাছাড়া এক মাস আগে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে আমদানিকারকদের লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম খানিকটা চড়া।”

তবে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নতুন চালান এলে দ্রুতই মাল্টার দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ব্যবসায়ীরা বিদেশি ফলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য উচ্চ শুল্ক-কর, বাড়তি জ্বালানি খরচ এবং বন্দরের অতিরিক্ত চার্জকেও অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

তবে আন্তর্জাতিক বাজার বা শুল্কায়নের ক্ষেত্রে দাম বাড়ার এমন কোনো চিত্র মিলেনি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ফলের আমদানি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। বর্তমানে মাল্টার আমদানি মূল্য কেজিতে মাত্র ১ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ টাকায়। 

অন্যদিকে আঙ্গুরের আমদানি মূল্য কেজিতে ২ টাকা কমে ১০৫ টাকা হয়েছে এবং আপেল ও কমলার আমদানি মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বিদেশি ফল আমদানিতে সব মিলিয়ে প্রায় ১২২ শতাংশ শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়।

কাস্টমসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৫ সালে আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফল আমদানি হয়েছিল ৫৩ কোটি ৮৩ লাখ কেজি। অন্যদিকে চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত নয় মাসে ফল আমদানি হয়েছে ৪১ কোটি ২০ লাখ কেজি।

সাধারণ ক্রেতা ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতারা একে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলেই মনে করছেন। ক্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “ডেঙ্গুর কারণে বাজারে মাল্টার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।”

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানান, ফলের বাজারে অস্থিরতার বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ফলমন্ডিসহ বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। গত বুধবার নিয়ম না মানায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অসাধু কারসাজি বন্ধে বাজার মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রামে কেজিতে মাল্টার দাম বাড়ল ২০০ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের বাজারে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে আমদানি করা বিদেশি ফলের দাম। বিশেষ করে ডেঙ্গুর এই ভরা মৌসুমে চাহিদা বাড়াকে কাজে লাগিয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাল্টা। এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামে মাল্টার দাম কেজিতে প্রায় দুই শত টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা আমদানি ও সরবরাহ সংকটের দোহাই দিলেও কাস্টমসের তথ্যে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ফলের দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে এখন এক কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং এক মাস আগে তা বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে।

ফল ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কনটেইনার মাল্টার চাহিদা রয়েছে। তবে গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে বাজারে দিনে মাত্র ৬ থেকে ৭ কনটেইনার মাল্টা পৌঁছাচ্ছে। সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসা এবং একই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রামের ফল আমদানিকারক মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, “জাহাজ সংকট এবং ফলের মৌসুম শেষ হয়ে আসার কারণে মাল্টা ও কমলার সরবরাহ কমেছে। তাছাড়া এক মাস আগে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে আমদানিকারকদের লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম খানিকটা চড়া।”

তবে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নতুন চালান এলে দ্রুতই মাল্টার দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ব্যবসায়ীরা বিদেশি ফলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য উচ্চ শুল্ক-কর, বাড়তি জ্বালানি খরচ এবং বন্দরের অতিরিক্ত চার্জকেও অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

তবে আন্তর্জাতিক বাজার বা শুল্কায়নের ক্ষেত্রে দাম বাড়ার এমন কোনো চিত্র মিলেনি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ফলের আমদানি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। বর্তমানে মাল্টার আমদানি মূল্য কেজিতে মাত্র ১ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ টাকায়। 

অন্যদিকে আঙ্গুরের আমদানি মূল্য কেজিতে ২ টাকা কমে ১০৫ টাকা হয়েছে এবং আপেল ও কমলার আমদানি মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বিদেশি ফল আমদানিতে সব মিলিয়ে প্রায় ১২২ শতাংশ শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়।

কাস্টমসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৫ সালে আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফল আমদানি হয়েছিল ৫৩ কোটি ৮৩ লাখ কেজি। অন্যদিকে চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত নয় মাসে ফল আমদানি হয়েছে ৪১ কোটি ২০ লাখ কেজি।

সাধারণ ক্রেতা ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতারা একে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলেই মনে করছেন। ক্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “ডেঙ্গুর কারণে বাজারে মাল্টার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।”

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানান, ফলের বাজারে অস্থিরতার বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ফলমন্ডিসহ বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। গত বুধবার নিয়ম না মানায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অসাধু কারসাজি বন্ধে বাজার মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত