সংবাদ

ইয়েমেনে হুতিদের ওপর দফায় দফায় হামলা, ৭০০ বিদ্রোহী নিহতের দাবি


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ এএম

ইয়েমেনে হুতিদের ওপর দফায় দফায় হামলা, ৭০০ বিদ্রোহী নিহতের দাবি
ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যকার লড়াই আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানী সানাসহ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুই শতাধিক বিমান ও সামরিক হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুতি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে সেনাবাহিনী দাবি করেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সেনা মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, হুতিদের সামরিক আস্তানা, রণকৌশলগত অবস্থান ও যানবহর লক্ষ্য করে '২৫৭টি নিখুঁত হামলা' পরিচালনা করা হয়েছে। এতে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ভারী কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তিনি দাবি করেন, এ অভিযানে হুতিদের ১৭০টি ভারী সামরিক যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে, যা তাদের যুদ্ধ সক্ষমতাকে সরাসরি ধসিয়ে দিয়েছে। তবে সরকারি বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়েছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানা, মিদি, বাকিম, মারিব ও লাহিজসহ একাধিক ফ্রন্টে সেনা তৎপরতা চললেও সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে তাইজ শহরকে ঘিরে। সেখানে হুতিদের অস্বাভাবিক ভারী গোলাবর্ষণে এক শিশুর মৃত্যুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ইতিহাসজুড়ে দীর্ঘ স্থায়ী সামা পাহাড়ি এলাকা থেকে রেকর্ডসংখ্যক অধিবাসী নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

পরবর্তীতে সামা জেলার স্থানীয় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেনা দুর্গ পুনর্দখলে নিয়েছে সরকারি বাহিনী। এতে কয়েক ডজন হুতি সদস্য হতাহত হয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণ ও হুতিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তাইজের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘আল-হুবান’ সংযোগ সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে সড়কটি খুলে দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করলে শুরু হয় ইয়েমেন গৃহযুদ্ধ। ২০২২ সালের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি চলতি বছরের জুলাইয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে লড়াই নতুন করে চরম রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় ইতিমধ্যে দেশটিতে কয়েক লাখ মানুষ নতুন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


ইয়েমেনে হুতিদের ওপর দফায় দফায় হামলা, ৭০০ বিদ্রোহী নিহতের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যকার লড়াই আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানী সানাসহ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুই শতাধিক বিমান ও সামরিক হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুতি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে সেনাবাহিনী দাবি করেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সেনা মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, হুতিদের সামরিক আস্তানা, রণকৌশলগত অবস্থান ও যানবহর লক্ষ্য করে '২৫৭টি নিখুঁত হামলা' পরিচালনা করা হয়েছে। এতে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ভারী কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তিনি দাবি করেন, এ অভিযানে হুতিদের ১৭০টি ভারী সামরিক যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে, যা তাদের যুদ্ধ সক্ষমতাকে সরাসরি ধসিয়ে দিয়েছে। তবে সরকারি বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়েছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানা, মিদি, বাকিম, মারিব ও লাহিজসহ একাধিক ফ্রন্টে সেনা তৎপরতা চললেও সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে তাইজ শহরকে ঘিরে। সেখানে হুতিদের অস্বাভাবিক ভারী গোলাবর্ষণে এক শিশুর মৃত্যুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ইতিহাসজুড়ে দীর্ঘ স্থায়ী সামা পাহাড়ি এলাকা থেকে রেকর্ডসংখ্যক অধিবাসী নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

পরবর্তীতে সামা জেলার স্থানীয় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেনা দুর্গ পুনর্দখলে নিয়েছে সরকারি বাহিনী। এতে কয়েক ডজন হুতি সদস্য হতাহত হয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণ ও হুতিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তাইজের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘আল-হুবান’ সংযোগ সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে সড়কটি খুলে দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করলে শুরু হয় ইয়েমেন গৃহযুদ্ধ। ২০২২ সালের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি চলতি বছরের জুলাইয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে লড়াই নতুন করে চরম রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় ইতিমধ্যে দেশটিতে কয়েক লাখ মানুষ নতুন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত