দেশের সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সার্বিক উন্নয়ন, অধিকার ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মৃগেন হাগিদকের নেতৃত্বে ৫২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে রাষ্ট্রপতি এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা ও নানামুখী উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতির কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
তাদের কথা মনোযোগ সহকারে শুনে জবাবে রাষ্ট্রপতি জানান, পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে নিজেদের সুনির্দিষ্ট অধিকার ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকেও নিজেদের জায়গা থেকে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সহযোগিতা বহুগুণ বাড়াতে হবে।
এ সময় রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত আন্তরিকতার সুরে বলেন, ‘আপনারা এক পা এগিয়ে এলে আমিও দুই পা এগিয়ে যাবো।’ তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের প্রধান প্রধান সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নিজেদের আইনগত অধিকার রক্ষায় তাদের নিজেদেরও যথেষ্ট সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে এসব সমস্যাগুলো পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে তাদের আরও বেশি উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জির পানগাছ কেটে ফেলার ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর পেছনে জড়িতদের নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বস্ত করেন।
তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ ও মানোন্নয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে আরও ব্যাপক পরিসরে সামনে নিয়ে আসার তাগিদ দেন। আগামী পহেলা বৈশাখে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বরেণ্য প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বঙ্গভবনে একটি জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়েও তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
সৌজন্য সাক্ষাতের এই বিশেষ মুহূর্তে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিশির দিওসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব এবং প্রেস সচিবও সেখানে উপস্থিত থেকে পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
দেশের সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সার্বিক উন্নয়ন, অধিকার ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মৃগেন হাগিদকের নেতৃত্বে ৫২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে রাষ্ট্রপতি এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা ও নানামুখী উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতির কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
তাদের কথা মনোযোগ সহকারে শুনে জবাবে রাষ্ট্রপতি জানান, পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে নিজেদের সুনির্দিষ্ট অধিকার ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকেও নিজেদের জায়গা থেকে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সহযোগিতা বহুগুণ বাড়াতে হবে।
এ সময় রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত আন্তরিকতার সুরে বলেন, ‘আপনারা এক পা এগিয়ে এলে আমিও দুই পা এগিয়ে যাবো।’ তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের প্রধান প্রধান সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিশেষ করে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নিজেদের আইনগত অধিকার রক্ষায় তাদের নিজেদেরও যথেষ্ট সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে এসব সমস্যাগুলো পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে তাদের আরও বেশি উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জির পানগাছ কেটে ফেলার ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর পেছনে জড়িতদের নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বস্ত করেন।
তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ ও মানোন্নয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে আরও ব্যাপক পরিসরে সামনে নিয়ে আসার তাগিদ দেন। আগামী পহেলা বৈশাখে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বরেণ্য প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বঙ্গভবনে একটি জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়েও তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।
সৌজন্য সাক্ষাতের এই বিশেষ মুহূর্তে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিশির দিওসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব এবং প্রেস সচিবও সেখানে উপস্থিত থেকে পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন