চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ও অবকাঠামো দীর্ঘ মেয়াদের জন্য বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়ার প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন।
রাজধানীতে মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) এই কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচিটি পুরানা পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর কদম ফোয়ারা এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনর্নির্ধারিত স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. আবু সাঈদ এবং পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. আবু সাঈদ সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দরসহ জাতীয় কৌশলগত সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাম্রাজ্যবাদী ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী। চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকেরা বন্দর রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা তাদের লড়াইয়ে সংহতি জানাই। এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।"
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এক যৌথ সুর মিলিয়ে বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান কৌশলগত স্থাপনা। দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য এনসিটি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো বিদেশি অপারেটরের হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং দেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে দুর্বল করবে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জাতীয় সম্পদ বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার যে কোনো উদ্যোগ দেশবাসী মেনে নেবে না।"
একই সঙ্গে তারা পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি তোলেন এবং সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার ডাক দেন।
রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি ও আন্দোলন প্ল্যাটফর্মের সদস্য সচিব খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীল, গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (জি-স্কপ) যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত এবং বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমান।
এছাড়া পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতা অনন্ত ধামাই, ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কোষাধ্যক্ষ কাজী রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা রাজপথের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ও অবকাঠামো দীর্ঘ মেয়াদের জন্য বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়ার প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন।
রাজধানীতে মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) এই কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচিটি পুরানা পল্টন মোড় থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর কদম ফোয়ারা এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনর্নির্ধারিত স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. আবু সাঈদ এবং পুরো আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. আবু সাঈদ সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দরসহ জাতীয় কৌশলগত সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাম্রাজ্যবাদী ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী। চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকেরা বন্দর রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা তাদের লড়াইয়ে সংহতি জানাই। এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।"
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এক যৌথ সুর মিলিয়ে বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান কৌশলগত স্থাপনা। দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য এনসিটি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো বিদেশি অপারেটরের হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং দেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে দুর্বল করবে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জাতীয় সম্পদ বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার যে কোনো উদ্যোগ দেশবাসী মেনে নেবে না।"
একই সঙ্গে তারা পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি তোলেন এবং সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার ডাক দেন।
রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি ও আন্দোলন প্ল্যাটফর্মের সদস্য সচিব খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সভাপতি গৌতম চন্দ্র শীল, গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (জি-স্কপ) যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত এবং বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমান।
এছাড়া পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতা অনন্ত ধামাই, ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল কবির ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কোষাধ্যক্ষ কাজী রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা রাজপথের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন