সংবাদ

ঢাকা-বরিশাল নদীপথে যাত্রীসংকট


জেআই জুয়েল,বরিশাল
জেআই জুয়েল,বরিশাল
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

ঢাকা-বরিশাল নদীপথে যাত্রীসংকট
ছবি : সংবাদ

পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে তীব্র যাত্রীসংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন লোকসান হলেও এই রুটের সার্ভিস ও রুট পারমিট ধরে রাখতে নিয়মিত লঞ্চ চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মালিক ও কর্মচারীরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য তিন থেকে চারটি লঞ্চ ঘাটে নোঙর করে আছে। তবে ঘাট প্রাঙ্গণে আগের মতো যাত্রীদের গমগম ভাব বা ভিড় নেই। একসময় যা ছিল পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানীতে চলাচলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু, বর্তমানে সেই ঘাট প্রায় ফাঁকা।

সুন্দরবন লঞ্চের সুপারভাইজার সিরাজ বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল রুটে প্রতিদিন আমাদের নিয়মিত লঞ্চ চলে। যাত্রীর সংখ্যা এতই কম যে কখনো লোকসান হয়, আবার কখনো খরচে-খরচে সমান হয়। তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

ভাড়ার বিষয়ে তিনি জানান, ডেক ভাড়ার সরকারি হার ৪৬১ টাকা নির্ধারিত থাকলেও যাত্রী ধরে রাখতে তারা মাত্র সাড় ৩০০ টাকা করে নিচ্ছেন।

লঞ্চ কর্মচারীরা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগ সহজ ও দ্রুতগতির হওয়ায় নৌপথে যাত্রী কমে গেছে। পারাবত-১৮ লঞ্চের সুপারভাইজার মোকলেসুর রহমান বলেন, ‘সপ্তাহে কেবল বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে কেবিন ও ডেকে কিছু যাত্রী পাওয়া যায়। সপ্তাহের বাকি পাঁচ দিনই লোকসান হয়। অবশ্য ঈদের মতো বিশেষ দিনগুলোতে কিছু লাভের মুখ দেখা যায়।’

ঘাটে কথা হয় ঢাকাগামী এক পরীক্ষার্থী লামিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কাল সকালে ঢাকায় পরীক্ষা। বাসে রাতভর ভ্রমণ করলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। লঞ্চে রাতে ঘুমিয়ে আরামে যাওয়া যায় এবং সকালে ফ্রেশ হয়ে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব। তাই এই পথই আমার কাছে নিরাপদ ও আরামদায়ক মনে হয়।’

লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, তীব্র যাত্রীসংকটের পরও সাধারণ মানুষের সুবিধা ও রুট পারমিট টিকিয়ে রাখতে বরিশাল থেকে প্রতিদিন অন্তত তিনটি লঞ্চ ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। সরকার জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে না আনলে ঐতিহ্যবাহী এই নৌপথ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


ঢাকা-বরিশাল নদীপথে যাত্রীসংকট

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোতে তীব্র যাত্রীসংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন লোকসান হলেও এই রুটের সার্ভিস ও রুট পারমিট ধরে রাখতে নিয়মিত লঞ্চ চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মালিক ও কর্মচারীরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য তিন থেকে চারটি লঞ্চ ঘাটে নোঙর করে আছে। তবে ঘাট প্রাঙ্গণে আগের মতো যাত্রীদের গমগম ভাব বা ভিড় নেই। একসময় যা ছিল পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের রাজধানীতে চলাচলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু, বর্তমানে সেই ঘাট প্রায় ফাঁকা।

সুন্দরবন লঞ্চের সুপারভাইজার সিরাজ বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল রুটে প্রতিদিন আমাদের নিয়মিত লঞ্চ চলে। যাত্রীর সংখ্যা এতই কম যে কখনো লোকসান হয়, আবার কখনো খরচে-খরচে সমান হয়। তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

ভাড়ার বিষয়ে তিনি জানান, ডেক ভাড়ার সরকারি হার ৪৬১ টাকা নির্ধারিত থাকলেও যাত্রী ধরে রাখতে তারা মাত্র সাড় ৩০০ টাকা করে নিচ্ছেন।

লঞ্চ কর্মচারীরা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগ সহজ ও দ্রুতগতির হওয়ায় নৌপথে যাত্রী কমে গেছে। পারাবত-১৮ লঞ্চের সুপারভাইজার মোকলেসুর রহমান বলেন, ‘সপ্তাহে কেবল বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে কেবিন ও ডেকে কিছু যাত্রী পাওয়া যায়। সপ্তাহের বাকি পাঁচ দিনই লোকসান হয়। অবশ্য ঈদের মতো বিশেষ দিনগুলোতে কিছু লাভের মুখ দেখা যায়।’

ঘাটে কথা হয় ঢাকাগামী এক পরীক্ষার্থী লামিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কাল সকালে ঢাকায় পরীক্ষা। বাসে রাতভর ভ্রমণ করলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। লঞ্চে রাতে ঘুমিয়ে আরামে যাওয়া যায় এবং সকালে ফ্রেশ হয়ে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব। তাই এই পথই আমার কাছে নিরাপদ ও আরামদায়ক মনে হয়।’

লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, তীব্র যাত্রীসংকটের পরও সাধারণ মানুষের সুবিধা ও রুট পারমিট টিকিয়ে রাখতে বরিশাল থেকে প্রতিদিন অন্তত তিনটি লঞ্চ ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। সরকার জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে না আনলে ঐতিহ্যবাহী এই নৌপথ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত