সংবাদ

নড়িয়ায় ‘একের ভেতরে বহু’ প্রকল্পে বরাদ্দ লোপাট!


কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

নড়িয়ায় ‘একের ভেতরে বহু’ প্রকল্পে বরাদ্দ লোপাট!
নড়িয়া পৌরসভার ভবন।

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই লাখ লাখ টাকা বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই স্থানে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ বরাদ্দ ও উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজের দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের দাবি, কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পরই বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা ঠিকাদার জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস।

পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের বরাদ্দে কোটেশন পদ্ধতিতে ২২টি প্রকল্পে মোট ১ কোটি ১১ লাখ টাকার কাজ হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই অন্তত ২১ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একই দুই অর্থবছরে টিআর কর্মসূচির আওতায় ১৫টি প্রকল্পে ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পের প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে।

চৌকিদার বাজার-নড়িয়া ব্রিজ সড়কে দুই প্রকল্প

নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নড়িয়া ব্রিজ থেকে কালিকাপ্রসাদ চৌকিদার বাজার পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। সড়কটি সংস্কারের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুটি দরপত্র আহ্বান করে পৌরসভা। কার্যাদেশ অনুযায়ী, মেসার্স মুন্সি কনস্ট্রাকশনকে ৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং মেসার্স কান্তা ট্রেডার্সকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার কাজ দেওয়া হয়। দুটি প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ১২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।

নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে এ অর্থ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে সড়কটির বিভিন্ন অংশে অসংখ্য গর্ত, উঠে যাওয়া পিচ ও ভাঙা সড়কের কিনারা দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

তবে মেসার্স কান্তা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এম এ সালাম বলেন, কার্যাদেশ পাওয়ার পর কাজ করা হয়েছে। কোন কাজ কখন করেছেন, তা রেজিস্টার দেখে জানাতে পারবেন বলে জানান তিনি। সরেজমিনে কাজের চিহ্ন না থাকার বিষয়টি জানালে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কাজ করার কথা বলেন। পরে চৌকিদার বাজার এলাকার কাজ করার কথা জানান। একটি কাজ করেছেন দাবি করে বাকি বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

সড়ক সংস্কারের কাজ

পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লোনসিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক সংস্কারের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মেসার্স কান্তা ট্রেডার্সকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বেহাল দশা অপরিবর্তিত। কোথাও খানাখন্দ, কোথাও ভাঙাচোরা অংশ। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চলাচল করেন। সড়কের দুরবস্থায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

নড়িয়া পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২৩ সালে পদ্মা নদীর তীরে বাঁশতলা এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ জমি কেনা হয়। ২০২৪ সাল থেকে সেখানে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। পৌরবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যান্ত্রিক হাইড্রোলিক এক্সকাভেটর দিয়ে কাঠামোর ভিত্তির মাটি খননের কাজ দেখিয়ে গত বছর ৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৫২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই স্থানে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ—টিআর কর্মসূচির আওতায় মাটি খনন ও প্রাচীর নির্মাণের জন্য আরও ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুটি প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

সরেজমিনে বাঁশতলা এলাকার ডাম্পিং ইয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, জনবসতির মধ্যে একটি স্থানে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত বর্জ্য ফেলছেন। তবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কাঠামোর ভিত্তি স্থাপনের জন্য মাটি খননেরও স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়নি। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেছেন।

প্রকল্পটির ঠিকাদার অলিল বন্দুকছি বলেন, কাজটি সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা জেনে জানাবেন। পরে ফোন করে তিনি জানান, ডাম্পিং ইয়ার্ডের পানি অপসারণের জন্য খালের মতো করে মাটি খনন করা হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে কাজটি হওয়ায় বর্তমানে তা দৃশ্যমান নাও থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

নড়িয়া পৌরসভার দ্বিতল ভবনের ছাদে আধাপাকা গুদামঘর নির্মাণের জন্য গত বছরের জুলাইয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী গুদামঘর নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানটি ৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বিল তুলে নেয়।

ঠিকাদার ইমন ব্যাপারী বলেন, কার্যাদেশ পাওয়ার পর পৌরসভার খালি ছাদে তিনি গুদামঘর নির্মাণ করেছেন। সেখানে আগে কোনো অবকাঠামো বা স্থাপনা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।  তবে একই স্থানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টিআর কর্মসূচির আওতায় আরও ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া পৌরসভা ভবনের আঙিনার মেঝে পাকা করার জন্য ৮ লাখ ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই স্থানে পরবর্তী সময়ে টিআর কর্মসূচির আওতায় আরও ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। একই স্থানে একাধিক প্রকল্পের নামে বরাদ্দ ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রকৌশলীর দাবি, কাজ করেই বিল

কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদ বলেন, কোটেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সব প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেই বিল দেওয়া হয়েছে। কাজ না করে টাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

পৌরসভার প্রকল্পগুলোর অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার কথা জানান। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রকৌশলী বা ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


নড়িয়ায় ‘একের ভেতরে বহু’ প্রকল্পে বরাদ্দ লোপাট!

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই লাখ লাখ টাকা বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই স্থানে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ বরাদ্দ ও উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজের দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের দাবি, কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পরই বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা ঠিকাদার জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস।

পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের বরাদ্দে কোটেশন পদ্ধতিতে ২২টি প্রকল্পে মোট ১ কোটি ১১ লাখ টাকার কাজ হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই অন্তত ২১ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একই দুই অর্থবছরে টিআর কর্মসূচির আওতায় ১৫টি প্রকল্পে ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পের প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ রয়েছে।

চৌকিদার বাজার-নড়িয়া ব্রিজ সড়কে দুই প্রকল্প

নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নড়িয়া ব্রিজ থেকে কালিকাপ্রসাদ চৌকিদার বাজার পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। সড়কটি সংস্কারের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুটি দরপত্র আহ্বান করে পৌরসভা। কার্যাদেশ অনুযায়ী, মেসার্স মুন্সি কনস্ট্রাকশনকে ৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং মেসার্স কান্তা ট্রেডার্সকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার কাজ দেওয়া হয়। দুটি প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ১২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।

নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে এ অর্থ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে সড়কটির বিভিন্ন অংশে অসংখ্য গর্ত, উঠে যাওয়া পিচ ও ভাঙা সড়কের কিনারা দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

তবে মেসার্স কান্তা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এম এ সালাম বলেন, কার্যাদেশ পাওয়ার পর কাজ করা হয়েছে। কোন কাজ কখন করেছেন, তা রেজিস্টার দেখে জানাতে পারবেন বলে জানান তিনি। সরেজমিনে কাজের চিহ্ন না থাকার বিষয়টি জানালে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কাজ করার কথা বলেন। পরে চৌকিদার বাজার এলাকার কাজ করার কথা জানান। একটি কাজ করেছেন দাবি করে বাকি বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

সড়ক সংস্কারের কাজ

পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লোনসিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক সংস্কারের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মেসার্স কান্তা ট্রেডার্সকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

নথি অনুযায়ী, প্রকল্পের অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বেহাল দশা অপরিবর্তিত। কোথাও খানাখন্দ, কোথাও ভাঙাচোরা অংশ। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চলাচল করেন। সড়কের দুরবস্থায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

নড়িয়া পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২৩ সালে পদ্মা নদীর তীরে বাঁশতলা এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ জমি কেনা হয়। ২০২৪ সাল থেকে সেখানে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। পৌরবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যান্ত্রিক হাইড্রোলিক এক্সকাভেটর দিয়ে কাঠামোর ভিত্তির মাটি খননের কাজ দেখিয়ে গত বছর ৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৫২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই স্থানে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ—টিআর কর্মসূচির আওতায় মাটি খনন ও প্রাচীর নির্মাণের জন্য আরও ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুটি প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

সরেজমিনে বাঁশতলা এলাকার ডাম্পিং ইয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, জনবসতির মধ্যে একটি স্থানে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত বর্জ্য ফেলছেন। তবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কাঠামোর ভিত্তি স্থাপনের জন্য মাটি খননেরও স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়নি। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করেছেন।

প্রকল্পটির ঠিকাদার অলিল বন্দুকছি বলেন, কাজটি সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা জেনে জানাবেন। পরে ফোন করে তিনি জানান, ডাম্পিং ইয়ার্ডের পানি অপসারণের জন্য খালের মতো করে মাটি খনন করা হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে কাজটি হওয়ায় বর্তমানে তা দৃশ্যমান নাও থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

নড়িয়া পৌরসভার দ্বিতল ভবনের ছাদে আধাপাকা গুদামঘর নির্মাণের জন্য গত বছরের জুলাইয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী গুদামঘর নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানটি ৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বিল তুলে নেয়।

ঠিকাদার ইমন ব্যাপারী বলেন, কার্যাদেশ পাওয়ার পর পৌরসভার খালি ছাদে তিনি গুদামঘর নির্মাণ করেছেন। সেখানে আগে কোনো অবকাঠামো বা স্থাপনা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।  তবে একই স্থানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টিআর কর্মসূচির আওতায় আরও ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া পৌরসভা ভবনের আঙিনার মেঝে পাকা করার জন্য ৮ লাখ ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই স্থানে পরবর্তী সময়ে টিআর কর্মসূচির আওতায় আরও ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। একই স্থানে একাধিক প্রকল্পের নামে বরাদ্দ ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রকৌশলীর দাবি, কাজ করেই বিল

কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার ফিরোজ আহমেদ বলেন, কোটেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সব প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেই বিল দেওয়া হয়েছে। কাজ না করে টাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

পৌরসভার প্রকল্পগুলোর অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার কথা জানান। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রকৌশলী বা ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত