সংবাদ

ফরিদপুরে স্ত্রীকে ‘গুল’ খাইয়ে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন


প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

ফরিদপুরে স্ত্রীকে ‘গুল’ খাইয়ে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি : সংগৃহীত

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও বিষজাতীয় তামাকজাত পদার্থ ‘গুল’ খাইয়ে হত্যার দায়ে মো. জিল্লুর মোল্যা নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি জিল্লুর মোল্যা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্যার ছেলে জিল্লুরের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন জিল্লুর। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ স্বজনেরা খবর পান যে আলফাডাঙ্গায় স্বামীর বাড়িতে ওই নারী ‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে উঠানের চৌকির ওপর তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

এ ঘটনায় আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা হলে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনাটি আত্মহত্যা ছিল না; বরং জোরপূর্বক বিষাক্ত উপাদান খাইয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাত্রাতিরিক্ত নিকোটিনের তীব্র বিষক্রিয়ায় শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় ওই নারীর মৃত্যু হয়।

তদন্ত শেষে আলফাডাঙ্গা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন আসামি জিল্লুর মোল্যাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হলো।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুকের কারণে গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় এই রায় সমাজে একটি স্পষ্ট ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


ফরিদপুরে স্ত্রীকে ‘গুল’ খাইয়ে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন ও বিষজাতীয় তামাকজাত পদার্থ ‘গুল’ খাইয়ে হত্যার দায়ে মো. জিল্লুর মোল্যা নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি জিল্লুর মোল্যা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের আছাদ মোল্যার ছেলে জিল্লুরের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন জিল্লুর। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ স্বজনেরা খবর পান যে আলফাডাঙ্গায় স্বামীর বাড়িতে ওই নারী ‘গুল’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে উঠানের চৌকির ওপর তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

এ ঘটনায় আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা হলে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনাটি আত্মহত্যা ছিল না; বরং জোরপূর্বক বিষাক্ত উপাদান খাইয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাত্রাতিরিক্ত নিকোটিনের তীব্র বিষক্রিয়ায় শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় ওই নারীর মৃত্যু হয়।

তদন্ত শেষে আলফাডাঙ্গা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিমুদ্দিন আসামি জিল্লুর মোল্যাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হলো।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুকের কারণে গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় এই রায় সমাজে একটি স্পষ্ট ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত