সংবাদ

পদ্মা-যমুনায় দিনে ১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি


প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

পদ্মা-যমুনায় দিনে ১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি
ছবি : সংবাদ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া সংলগ্ন পদ্মা ও যমুনা নদীতে 'চ্যানেল চার্জ'-এর নামে নৌযান (বাল্কহেড) থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। নদীতে চলাচলকারী প্রতিটি বাল্কহেড থেকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে দিনে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সরেজমিনে নদী এলাকা ঘুরে এবং নৌযানের সুকানি ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই নদীতে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টি বাল্কহেড চলাচল করে। চাঁদাবাজির কাজে গতিশীল স্পিডবোট ব্যবহার করা হচ্ছে। চাঁদা আদায়ের পরপরই চক্রের সদস্যরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

নৌযানের চালক ও শ্রমিকেরা জানান, বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত একটি রশিদের মাধ্যমে এই অর্থ আদায় করা হলেও রশিদে কোনো মূল্য উল্লেখ থাকে না। এমনকি আদায়কারী বা ইজারাদারের কোনো স্বাক্ষরও নেই। রশিদে কেবল 'গোয়ালন্দ হইতে পাকশী এবং হরিরামপুর হইতে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নৌযান থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়ের রশিদ' লেখা থাকে। নির্ধারিত ফি না লিখে ইচ্ছামতো ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে মিলছে হুমকি ও মারধর।

ভুক্তভোগী বাল্কহেডের সুকানি বিল্লাল, মুস্তাকিন ও চালক কামাল জানান, আগে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা চ্যানেল চার্জ দিতে হতো। এখন বহুগুণ বেশি টাকা দাবি করা হচ্ছে। অন্যায়ভাবে টাকা না দিতে চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. লাল চাঁদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ শেখ বলেন, ‘যমুনা ও পদ্মায় আমাদের শ্রমিকদের কাছ থেকে জলদস্যুদের স্টাইলে জোরপূর্বক ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট লুৎফর মৃধার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ইজারাদার মো. নাসির উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, নদীতে বাল্কহেড থেকে অনিয়ম বা চাঁদাবাজির সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


পদ্মা-যমুনায় দিনে ১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া সংলগ্ন পদ্মা ও যমুনা নদীতে 'চ্যানেল চার্জ'-এর নামে নৌযান (বাল্কহেড) থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। নদীতে চলাচলকারী প্রতিটি বাল্কহেড থেকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে দিনে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সরেজমিনে নদী এলাকা ঘুরে এবং নৌযানের সুকানি ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই নদীতে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০টি বাল্কহেড চলাচল করে। চাঁদাবাজির কাজে গতিশীল স্পিডবোট ব্যবহার করা হচ্ছে। চাঁদা আদায়ের পরপরই চক্রের সদস্যরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

নৌযানের চালক ও শ্রমিকেরা জানান, বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত একটি রশিদের মাধ্যমে এই অর্থ আদায় করা হলেও রশিদে কোনো মূল্য উল্লেখ থাকে না। এমনকি আদায়কারী বা ইজারাদারের কোনো স্বাক্ষরও নেই। রশিদে কেবল 'গোয়ালন্দ হইতে পাকশী এবং হরিরামপুর হইতে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নৌযান থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়ের রশিদ' লেখা থাকে। নির্ধারিত ফি না লিখে ইচ্ছামতো ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে মিলছে হুমকি ও মারধর।

ভুক্তভোগী বাল্কহেডের সুকানি বিল্লাল, মুস্তাকিন ও চালক কামাল জানান, আগে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা চ্যানেল চার্জ দিতে হতো। এখন বহুগুণ বেশি টাকা দাবি করা হচ্ছে। অন্যায়ভাবে টাকা না দিতে চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. লাল চাঁদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ শেখ বলেন, ‘যমুনা ও পদ্মায় আমাদের শ্রমিকদের কাছ থেকে জলদস্যুদের স্টাইলে জোরপূর্বক ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট লুৎফর মৃধার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ইজারাদার মো. নাসির উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, নদীতে বাল্কহেড থেকে অনিয়ম বা চাঁদাবাজির সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত