সংবাদ

চাঁদপুরে ২৩২ মণ্ডপে পূজা, নিরাপত্তায় কড়াকড়ি


প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

চাঁদপুরে ২৩২ মণ্ডপে পূজা, নিরাপত্তায় কড়াকড়ি
ছবি : সংগৃহীত

শরতের কাশফুল আর আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘের ভেলা জানিয়ে দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে শুরু হয়ে গেছে ব্যস্ততা। পাড়ায় পাড়ায় এখন মণ্ডপ সজ্জা আর প্রতিমায় তুলির স্পর্শ দিতে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন কারিগরেরা। চাঁদপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী মহাতীর্থস্থান শ্রী শ্রী মেহারকালীবাড়ী কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপসহ প্রতিটি মণ্ডপেই চলছে শেষ মুহূর্তের নিপুণ প্রস্তুতি।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, এবার চাঁদপুরের ৮টি উপজেলায় মোট ২৩২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে ৪১টি, ফরিদগঞ্জে ২৩টি, হাইমচরে ৬টি, হাজীগঞ্জে ২৯টি, মতলব দক্ষিণে ৩৯টি, মতলব উত্তরে ৩৬টি, কচুয়ায় ৩৯টি এবং শাহরাস্তি উপজেলায় ১৯টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেহারকালীবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গণে বিশাল প্যান্ডেল, প্রতিমা, আলপনা ও আলোকসজ্জার কাজ পুরোদমে চলছে। দেবী দুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও লক্ষ্মীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। মাটি আর খড় দিয়ে আকৃতি দেওয়ার পর এখন চলছে রঙের কাজ। এবার মণ্ডপগুলোতে ইতিবাচক সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের গুণীজনদের ছবি এবং বিভিন্ন উপদেশমূলক বাণীও টানানো হয়েছে।

প্রতিমা নির্মাণশিল্পী জগবন্ধু পাল বলেন, “আমরা ছয়জন মিলে ১২টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপাদান যেমন মাটি, খড় ও পাটের দাম অনেক বেড়ে গেছে। তবু প্রতিমা শেষ করে মণ্ডপে স্থাপনের পর যে আনন্দ পাই, তাতে সব কষ্ট ভুলে যাই।”

মেহারকালীবাড়ী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা জানান, পূজার পাঁচ দিনে এই মন্দিরে কয়েক লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এদিকে উৎসব আনন্দমুখর ও নিরাপদ করতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, পূজামণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন কোনো গুজব বা অপতথ্য না ছড়াতে পারে, সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর নজরদারিতে থাকবে।

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের প্রতি নজরদারি বাড়ানোসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ মেডিকেল টিম থাকবে। মণ্ডপ ঘিরে কোনো মেলা বসতে দেওয়া হবে না।’

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ৬ দিনব্যাপী এ দুর্গোৎসব। ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এ বছরের দুর্গাপূজার।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


চাঁদপুরে ২৩২ মণ্ডপে পূজা, নিরাপত্তায় কড়াকড়ি

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শরতের কাশফুল আর আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘের ভেলা জানিয়ে দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে শুরু হয়ে গেছে ব্যস্ততা। পাড়ায় পাড়ায় এখন মণ্ডপ সজ্জা আর প্রতিমায় তুলির স্পর্শ দিতে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন কারিগরেরা। চাঁদপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী মহাতীর্থস্থান শ্রী শ্রী মেহারকালীবাড়ী কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপসহ প্রতিটি মণ্ডপেই চলছে শেষ মুহূর্তের নিপুণ প্রস্তুতি।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, এবার চাঁদপুরের ৮টি উপজেলায় মোট ২৩২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে ৪১টি, ফরিদগঞ্জে ২৩টি, হাইমচরে ৬টি, হাজীগঞ্জে ২৯টি, মতলব দক্ষিণে ৩৯টি, মতলব উত্তরে ৩৬টি, কচুয়ায় ৩৯টি এবং শাহরাস্তি উপজেলায় ১৯টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেহারকালীবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গণে বিশাল প্যান্ডেল, প্রতিমা, আলপনা ও আলোকসজ্জার কাজ পুরোদমে চলছে। দেবী দুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও লক্ষ্মীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। মাটি আর খড় দিয়ে আকৃতি দেওয়ার পর এখন চলছে রঙের কাজ। এবার মণ্ডপগুলোতে ইতিবাচক সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের গুণীজনদের ছবি এবং বিভিন্ন উপদেশমূলক বাণীও টানানো হয়েছে।

প্রতিমা নির্মাণশিল্পী জগবন্ধু পাল বলেন, “আমরা ছয়জন মিলে ১২টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপাদান যেমন মাটি, খড় ও পাটের দাম অনেক বেড়ে গেছে। তবু প্রতিমা শেষ করে মণ্ডপে স্থাপনের পর যে আনন্দ পাই, তাতে সব কষ্ট ভুলে যাই।”

মেহারকালীবাড়ী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা জানান, পূজার পাঁচ দিনে এই মন্দিরে কয়েক লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

এদিকে উৎসব আনন্দমুখর ও নিরাপদ করতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, পূজামণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন কোনো গুজব বা অপতথ্য না ছড়াতে পারে, সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর নজরদারিতে থাকবে।

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের প্রতি নজরদারি বাড়ানোসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ মেডিকেল টিম থাকবে। মণ্ডপ ঘিরে কোনো মেলা বসতে দেওয়া হবে না।’

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ৬ দিনব্যাপী এ দুর্গোৎসব। ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এ বছরের দুর্গাপূজার।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত