সংবাদ

ভাসানী দম্পতির জীবন নতুন প্রেরণা জোগাবে : বস্ত্রপ্রতিমন্ত্রী


প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

ভাসানী দম্পতির জীবন নতুন প্রেরণা জোগাবে : বস্ত্রপ্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংবাদ

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও তার সহধর্মিণী বেগম আলেমা খান ভাসানীর কর্মময় জীবন দেশ গঠনে নতুন প্রেরণা জোগাবে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

তিনি বলেন, ‘মওলানা ভাসানীর রেখে যাওয়া কর্ম ও আদর্শ ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ লক্ষ্য অর্জনে মওলানা ভাসানীর কর্মময় জীবন আমাদের জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে দরবার হলে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বেগম আলেমা খান ভাসানীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, পৃথিবীর যেসব গুণী ব্যক্তি তাদের কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে সর্বজনশ্রদ্ধেয় হয়ে উঠেছেন, তাঁদের সাফল্যের পেছনে পরিবারের—বিশেষ করে জীবনসঙ্গীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকে। মওলানা ভাসানীর জীবনেও তার সহধর্মিণী বেগম আলেমা খান ভাসানীর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি শিক্ষানুরাগী ছিলেন এবং মওলানা ভাসানীর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন ও সাহস জুগিয়েছেন। বেগম আলেমা খান ভাসানী তার বাবার কাছ থেকে পাওয়া জমি জনকল্যাণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে মানুষের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ভূমিকা রেখেছেন।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে মওলানা ভাসানী ও আলেমা খান ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি; বরং অচল অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সরকার গুণীজনদের সম্মান জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন থেকে ত্যাগ, জনকল্যাণ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়। রাজনীতি মানেই মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং নিজের স্বার্থ ত্যাগ করা। টাঙ্গাইলের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মওলানা ভাসানীর দেখানো ন্যায় ও আদর্শের পথে পরিচালিত হতে হবে।’

মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীসহ স্থানীয় অন্য নেতৃবৃন্দ।

এর আগে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তাঁরা মওলানা ভাসানী ও বেগম আলেমা খান ভাসানীর কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন। অনুষ্ঠান শেষে বেগম আলেমা খান ভাসানীকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


ভাসানী দম্পতির জীবন নতুন প্রেরণা জোগাবে : বস্ত্রপ্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও তার সহধর্মিণী বেগম আলেমা খান ভাসানীর কর্মময় জীবন দেশ গঠনে নতুন প্রেরণা জোগাবে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

তিনি বলেন, ‘মওলানা ভাসানীর রেখে যাওয়া কর্ম ও আদর্শ ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ লক্ষ্য অর্জনে মওলানা ভাসানীর কর্মময় জীবন আমাদের জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে দরবার হলে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বেগম আলেমা খান ভাসানীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, পৃথিবীর যেসব গুণী ব্যক্তি তাদের কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে সর্বজনশ্রদ্ধেয় হয়ে উঠেছেন, তাঁদের সাফল্যের পেছনে পরিবারের—বিশেষ করে জীবনসঙ্গীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকে। মওলানা ভাসানীর জীবনেও তার সহধর্মিণী বেগম আলেমা খান ভাসানীর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি শিক্ষানুরাগী ছিলেন এবং মওলানা ভাসানীর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন ও সাহস জুগিয়েছেন। বেগম আলেমা খান ভাসানী তার বাবার কাছ থেকে পাওয়া জমি জনকল্যাণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে মানুষের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ভূমিকা রেখেছেন।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে মওলানা ভাসানী ও আলেমা খান ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি; বরং অচল অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সরকার গুণীজনদের সম্মান জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন থেকে ত্যাগ, জনকল্যাণ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা পাওয়া যায়। রাজনীতি মানেই মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং নিজের স্বার্থ ত্যাগ করা। টাঙ্গাইলের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে মওলানা ভাসানীর দেখানো ন্যায় ও আদর্শের পথে পরিচালিত হতে হবে।’

মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীসহ স্থানীয় অন্য নেতৃবৃন্দ।

এর আগে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা সন্তোষে মওলানা ভাসানীর মাজারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তাঁরা মওলানা ভাসানী ও বেগম আলেমা খান ভাসানীর কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন। অনুষ্ঠান শেষে বেগম আলেমা খান ভাসানীকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত