মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সারের ডিলারশিপ না পেয়ে হতাশা থেকে দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া এই পদত্যাগের পোস্ট ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘটনাটি নজরে আসার পরপরই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে যুবদলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সাদ্দাম হোসেন যুবদলের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপরই জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু ও সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে সাদ্দাম হোসেনকে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাদ্দাম হোসেন জানান, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সাটুরিয়ার দরগ্রাম বাজারে সারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তার বাবাও দরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সালে বিএনপি রাজনীতি করার কারণে তারা সারের ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হন। এরপর থেকে অন্য ডিলারের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে তাদের ব্যবসা চালাতে হচ্ছিল।
সম্প্রতি সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে সাদ্দাম হোসেন ও তার পরিবার আবেদন করে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় দরগ্রাম ইউনিয়নে মো. রুহুল আমীন নামের অন্য এক ব্যক্তিকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিজের রাজনৈতিক ত্যাগের কথা উল্লেখ করে সাদ্দাম হোসেন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে আমাদের পরিবার নানা নির্যাতন ও মামলার মুখোমুখি হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা ছিল। এমনকি বাবা ও ছেলে একসঙ্গে হাতকড়া পরে জেল খেটেছি। দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকেও সারের ডিলারশিপ না পাওয়ায় চরম হতাশ হয়েই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু জানান, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক প্রার্থী ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন। উপজেলা কমিটি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই এসেছে। এখানে দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কিছু নেই। পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিষয়ে উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হবে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। জেলা কমিটি তা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। গত ৬ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয় নতুন ডিলারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে।’
উল্লেখ্য, সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৯ জন ডিলারের সবাই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং তাদের মধ্যে চারজন নারী প্রতিনিধি রয়েছে বলে স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যেও গুঞ্জন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সারের ডিলারশিপ না পেয়ে হতাশা থেকে দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া এই পদত্যাগের পোস্ট ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘটনাটি নজরে আসার পরপরই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে যুবদলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সাদ্দাম হোসেন যুবদলের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপরই জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু ও সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে সাদ্দাম হোসেনকে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাদ্দাম হোসেন জানান, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সাটুরিয়ার দরগ্রাম বাজারে সারের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তার বাবাও দরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সালে বিএনপি রাজনীতি করার কারণে তারা সারের ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হন। এরপর থেকে অন্য ডিলারের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে তাদের ব্যবসা চালাতে হচ্ছিল।
সম্প্রতি সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে সাদ্দাম হোসেন ও তার পরিবার আবেদন করে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় দরগ্রাম ইউনিয়নে মো. রুহুল আমীন নামের অন্য এক ব্যক্তিকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিজের রাজনৈতিক ত্যাগের কথা উল্লেখ করে সাদ্দাম হোসেন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে আমাদের পরিবার নানা নির্যাতন ও মামলার মুখোমুখি হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা ছিল। এমনকি বাবা ও ছেলে একসঙ্গে হাতকড়া পরে জেল খেটেছি। দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকেও সারের ডিলারশিপ না পাওয়ায় চরম হতাশ হয়েই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু জানান, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক প্রার্থী ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন। উপজেলা কমিটি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই এসেছে। এখানে দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কিছু নেই। পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিষয়ে উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হবে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। জেলা কমিটি তা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। গত ৬ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয় নতুন ডিলারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে।’
উল্লেখ্য, সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৯ জন ডিলারের সবাই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং তাদের মধ্যে চারজন নারী প্রতিনিধি রয়েছে বলে স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যেও গুঞ্জন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন