সংবাদ

মাইক্রোওয়েভে গরম করার আগে সতর্ক থাকুন যে ৫ খাবারে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

মাইক্রোওয়েভে গরম করার আগে সতর্ক থাকুন যে ৫ খাবারে

দ্রুত খাবার গরম করা কিংবা অল্প সময়ে রান্নার কাজে মাইক্রোওয়েভ বেশ সুবিধাজনক। তবে সব ধরনের খাবারের জন্য এই যন্ত্র উপযোগী নয়। কিছু খাবার মাইক্রোওয়েভে দিলে স্বাদ ও গঠনের পরিবর্তন হতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে নিরাপত্তার ঝুঁকিও। তাই মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের সময় পাঁচ ধরনের খাবারের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

১. ব্রকলি

পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ব্রকলি মাইক্রোওয়েভে গরম করলে এর কিছু পুষ্টি উপাদান কমে যেতে পারে। সবজিটি দ্রুত গরম করার বদলে চুলায় ভাপে রান্না করলে পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে সুবিধা হয়। সময় কম থাকলে হালকা সেদ্ধ করেও ব্রকলি প্রস্তুত করা যেতে পারে।

২. আস্ত ডিম

খোসাসহ আস্ত ডিম মাইক্রোওয়েভে গরম করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাপের কারণে খোসার ভেতরে বাষ্প জমে চাপ তৈরি হয়, যা ডিমটি ফেটে যাওয়ার কারণ হতে পারে। এতে মাইক্রোওয়েভের ভেতর নোংরা হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।

ডিম প্রস্তুত করতে সেদ্ধ করা কিংবা চুলায় পোচ করার পদ্ধতি বেছে নেওয়া যায়। এতে ডিম রান্না করার পাশাপাশি এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বজায় রাখার সুযোগ থাকে।

৩. রান্না করা ভাত

বাসি ভাত পুনরায় গরম করার সময় সতর্কতা জরুরি। রান্না করা ভাতে ব্যাসিলাস সেরিয়াস (Bacillus cereus) নামের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। ভাত ধীরে ধীরে ঠান্ডা হওয়ার সময় এই ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে পারে। মাইক্রোওয়েভে গরম করলেই যে সব জীবাণু দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ভাত নিরাপদে খাওয়ার জন্য রান্নার পর দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পুনরায় গরম করার সময় চুলায় সামান্য পানি দিয়ে ভালোভাবে গরম করা যেতে পারে। এতে ভাত সমানভাবে গরম করার পাশাপাশি এর গঠনও বজায় রাখতে সুবিধা হয়।

৪. ফয়েলে মোড়ানো আলু

আলু মাইক্রোওয়েভে গরম করার ক্ষেত্রে বিশেষ করে ফয়েলে মোড়ানো অবস্থায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এতে আলু অসমভাবে গরম হতে পারে। পাশাপাশি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম (Clostridium botulinum) ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির ঝুঁকিও থাকতে পারে।

বিকল্প হিসেবে ওভেনে আলু বেক করা যায়। এতে আলুর ভেতরটা নরম এবং বাইরের খোসা মুচমুচে হতে পারে। দ্রুত কিছু তৈরি করতে চাইলে পাতলা করে কাটা আলু প্যানে ভেজেও পরিবেশন করা যায়।

৫. কাঁচা মুরগির মাংস

মাইক্রোওয়েভে কাঁচা মুরগির মাংস গরম করলে সব অংশে সমানভাবে তাপ নাও পৌঁছাতে পারে। ফলে কোনো অংশ পুরোপুরি রান্না না হলে সেখানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সালমোনেলাসহ খাদ্যবাহিত রোগের জীবাণু এ ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়।

মুরগির মাংস রান্নার জন্য বেকিং বা গ্রিলিংয়ের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। দ্রুত রান্নার প্রয়োজন হলে মাংস পাতলা করে কেটে সবজির সঙ্গে প্যানে ভাজা যায়। এতে মাংস ভালোভাবে রান্না করার পাশাপাশি এর স্বাদ ও গঠন বজায় রাখার সুযোগ থাকে।

মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারে খাবারের ধরন বুঝে নিন

সব খাবার একইভাবে গরম বা রান্না করা যায় না। তাই মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের আগে খাবারের ধরন ও প্রস্তুতপ্রণালি বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে ডিম, ভাত, আলু ও কাঁচা মুরগির মাংসের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া খাবারের মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


মাইক্রোওয়েভে গরম করার আগে সতর্ক থাকুন যে ৫ খাবারে

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দ্রুত খাবার গরম করা কিংবা অল্প সময়ে রান্নার কাজে মাইক্রোওয়েভ বেশ সুবিধাজনক। তবে সব ধরনের খাবারের জন্য এই যন্ত্র উপযোগী নয়। কিছু খাবার মাইক্রোওয়েভে দিলে স্বাদ ও গঠনের পরিবর্তন হতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে নিরাপত্তার ঝুঁকিও। তাই মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের সময় পাঁচ ধরনের খাবারের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

১. ব্রকলি

পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ব্রকলি মাইক্রোওয়েভে গরম করলে এর কিছু পুষ্টি উপাদান কমে যেতে পারে। সবজিটি দ্রুত গরম করার বদলে চুলায় ভাপে রান্না করলে পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে সুবিধা হয়। সময় কম থাকলে হালকা সেদ্ধ করেও ব্রকলি প্রস্তুত করা যেতে পারে।

২. আস্ত ডিম

খোসাসহ আস্ত ডিম মাইক্রোওয়েভে গরম করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাপের কারণে খোসার ভেতরে বাষ্প জমে চাপ তৈরি হয়, যা ডিমটি ফেটে যাওয়ার কারণ হতে পারে। এতে মাইক্রোওয়েভের ভেতর নোংরা হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।

ডিম প্রস্তুত করতে সেদ্ধ করা কিংবা চুলায় পোচ করার পদ্ধতি বেছে নেওয়া যায়। এতে ডিম রান্না করার পাশাপাশি এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বজায় রাখার সুযোগ থাকে।

৩. রান্না করা ভাত

বাসি ভাত পুনরায় গরম করার সময় সতর্কতা জরুরি। রান্না করা ভাতে ব্যাসিলাস সেরিয়াস (Bacillus cereus) নামের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। ভাত ধীরে ধীরে ঠান্ডা হওয়ার সময় এই ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে পারে। মাইক্রোওয়েভে গরম করলেই যে সব জীবাণু দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ভাত নিরাপদে খাওয়ার জন্য রান্নার পর দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পুনরায় গরম করার সময় চুলায় সামান্য পানি দিয়ে ভালোভাবে গরম করা যেতে পারে। এতে ভাত সমানভাবে গরম করার পাশাপাশি এর গঠনও বজায় রাখতে সুবিধা হয়।

৪. ফয়েলে মোড়ানো আলু

আলু মাইক্রোওয়েভে গরম করার ক্ষেত্রে বিশেষ করে ফয়েলে মোড়ানো অবস্থায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এতে আলু অসমভাবে গরম হতে পারে। পাশাপাশি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম (Clostridium botulinum) ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির ঝুঁকিও থাকতে পারে।

বিকল্প হিসেবে ওভেনে আলু বেক করা যায়। এতে আলুর ভেতরটা নরম এবং বাইরের খোসা মুচমুচে হতে পারে। দ্রুত কিছু তৈরি করতে চাইলে পাতলা করে কাটা আলু প্যানে ভেজেও পরিবেশন করা যায়।

৫. কাঁচা মুরগির মাংস

মাইক্রোওয়েভে কাঁচা মুরগির মাংস গরম করলে সব অংশে সমানভাবে তাপ নাও পৌঁছাতে পারে। ফলে কোনো অংশ পুরোপুরি রান্না না হলে সেখানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সালমোনেলাসহ খাদ্যবাহিত রোগের জীবাণু এ ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়।

মুরগির মাংস রান্নার জন্য বেকিং বা গ্রিলিংয়ের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। দ্রুত রান্নার প্রয়োজন হলে মাংস পাতলা করে কেটে সবজির সঙ্গে প্যানে ভাজা যায়। এতে মাংস ভালোভাবে রান্না করার পাশাপাশি এর স্বাদ ও গঠন বজায় রাখার সুযোগ থাকে।

মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারে খাবারের ধরন বুঝে নিন

সব খাবার একইভাবে গরম বা রান্না করা যায় না। তাই মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের আগে খাবারের ধরন ও প্রস্তুতপ্রণালি বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে ডিম, ভাত, আলু ও কাঁচা মুরগির মাংসের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া খাবারের মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত