রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই বিক্রিয়ার মাধ্যমেই পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন করা হয়। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ।
এর মধ্য দিয়ে দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন শুরুর আরও কাছাকাছি এগিয়ে গেল। আগামী ডিসেম্বরে এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনপ্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরে শুরুর পরিকল্পনা ছিল। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়লে এটি পিছিয়ে যায়। গত সপ্তাহে উচ্চ চাপে দুই দফায় ভালভের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এই পরীক্ষার ফলাফল যাচাই করে গত বৃহস্পতিবার বিক্রিয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। রোববার বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি টাকার অঙ্কে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন।
কমিশনের অধীনে পরিচালনার কাজটি করছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) নামের সরকারি কোম্পানি। রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান প্রথম আলোকে বলেন, তিন দিনের প্রস্তুতির পর গতকাল শনিবার পারমাণবিক বিক্রিয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজ সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে ১৯৬১ সালে শুরু করা পারমাণবিক ব্যবহারের যে যাত্রা, সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। দেশের বিজ্ঞান খাতে এটি বড় রকমের মাইলফলক।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, প্রথমবারের মতো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্র সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অর্জন।
ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর চুল্লিপাত্রের গুরুত্বপূর্ণ সব মাপকাঠি নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পথে পারমাণবিক বিক্রিয়া একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেটি আজ অতিক্রম করেছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র।
পরবর্তী পর্যায়ে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর ফিজিকস পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার যাচাই, ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টর পাওয়ার বৃদ্ধি এবং গ্রিড সংযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতি শেষ করা হবে। প্রতিটি ধাপ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান, অনুমোদিত পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, চুল্লিপাত্র (রিঅ্যাক্টর) ক্রিটিক্যালিটি অর্জন বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেশের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পারমাণবিক প্রযুক্তি সক্ষমতার এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।
দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর বাংলাদেশ এখন তার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পর পর্যায়ক্রমে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে।
এরপর ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রের ভেতর শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। পারমাণবিক জ্বালানির বিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে তাপশক্তি উৎপাদন। এই তাপ দিয়েই বাষ্প তৈরি করে ঘোরানো হবে টারবাইন, উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ।
চুল্লিপাত্রে শক্তি উৎপাদন শুরুর পর উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে বেড়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এরপর ৩০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এটি ডিসেম্বরে হতে পারে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর পর টানা সাত-আট মাস চলতে পারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। তবে গ্রিডে বিদ্যুৎ গেলেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশে স্থান করে নেবে বাংলাদেশ।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি আসার পরই পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পায় রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। জ্বালানি বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের তালিকায় নাম ওঠে বাংলাদেশ।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, চালুর পর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা সমান হারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রতি দেড় বছর পর নতুন জ্বালানি ভরতে হবে চুল্লিতে। ব্যবহৃত জ্বালানির বর্জ্য বের করা, নতুন জ্বালানি ঢোকানো ও রক্ষণাবেক্ষণ মিলে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।
রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা যেত। অথচ সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে এটি।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই।
কিন্তু ডলারের দাম বাড়ায় ২৬ হাজার কোটি টাকা খরচ বেড়েছে প্রকল্পের। ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা খরচ হবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই বিক্রিয়ার মাধ্যমেই পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন করা হয়। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ।
এর মধ্য দিয়ে দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন শুরুর আরও কাছাকাছি এগিয়ে গেল। আগামী ডিসেম্বরে এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনপ্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরে শুরুর পরিকল্পনা ছিল। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়লে এটি পিছিয়ে যায়। গত সপ্তাহে উচ্চ চাপে দুই দফায় ভালভের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এই পরীক্ষার ফলাফল যাচাই করে গত বৃহস্পতিবার বিক্রিয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। রোববার বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি টাকার অঙ্কে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন।
কমিশনের অধীনে পরিচালনার কাজটি করছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) নামের সরকারি কোম্পানি। রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান প্রথম আলোকে বলেন, তিন দিনের প্রস্তুতির পর গতকাল শনিবার পারমাণবিক বিক্রিয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজ সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে ১৯৬১ সালে শুরু করা পারমাণবিক ব্যবহারের যে যাত্রা, সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। দেশের বিজ্ঞান খাতে এটি বড় রকমের মাইলফলক।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, প্রথমবারের মতো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্র সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অর্জন।
ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর চুল্লিপাত্রের গুরুত্বপূর্ণ সব মাপকাঠি নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পথে পারমাণবিক বিক্রিয়া একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেটি আজ অতিক্রম করেছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র।
পরবর্তী পর্যায়ে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর ফিজিকস পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার যাচাই, ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টর পাওয়ার বৃদ্ধি এবং গ্রিড সংযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতি শেষ করা হবে। প্রতিটি ধাপ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান, অনুমোদিত পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, চুল্লিপাত্র (রিঅ্যাক্টর) ক্রিটিক্যালিটি অর্জন বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেশের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পারমাণবিক প্রযুক্তি সক্ষমতার এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।
দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর বাংলাদেশ এখন তার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পর পর্যায়ক্রমে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে।
এরপর ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রের ভেতর শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। পারমাণবিক জ্বালানির বিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে তাপশক্তি উৎপাদন। এই তাপ দিয়েই বাষ্প তৈরি করে ঘোরানো হবে টারবাইন, উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ।
চুল্লিপাত্রে শক্তি উৎপাদন শুরুর পর উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে বেড়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এরপর ৩০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এটি ডিসেম্বরে হতে পারে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর পর টানা সাত-আট মাস চলতে পারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। তবে গ্রিডে বিদ্যুৎ গেলেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশে স্থান করে নেবে বাংলাদেশ।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি আসার পরই পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পায় রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। জ্বালানি বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের তালিকায় নাম ওঠে বাংলাদেশ।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, চালুর পর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা সমান হারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রতি দেড় বছর পর নতুন জ্বালানি ভরতে হবে চুল্লিতে। ব্যবহৃত জ্বালানির বর্জ্য বের করা, নতুন জ্বালানি ঢোকানো ও রক্ষণাবেক্ষণ মিলে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।
রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা যেত। অথচ সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে এটি।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই।
কিন্তু ডলারের দাম বাড়ায় ২৬ হাজার কোটি টাকা খরচ বেড়েছে প্রকল্পের। ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা খরচ হবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে।

আপনার মতামত লিখুন