জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নানা কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক সংঘাত ও আলোচিত-সমালোচিত পদক্ষেপে বারবার খবরের শিরোনাম হওয়া আ ন ম আয়াস আবারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের ফুটপাতের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি ও গ্রাফিতি মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করে শাহবাগ থানা-পুলিশ। পরবর্তীতে তাকেসহ মোট তিনজনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
আয়াস আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় এসে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের নিজস্ব একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন। জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের নিয়ে অবমাননার অভিযোগ তুলে নতুন ধারা বাংলাদেশের (এনডিবি) ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৪ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে, যেখানে আয়াস নিজেও পাইপের আঘাতে জখম হন। পরবর্তীতে চিকিৎসাকেন্দ্রেও সংঘর্ষ গড়ায়। এই ইস্যু ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তিনি আলোচনায় উঠে এসেছেন।
১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনের সামনে শেখ অনুসারী ও যুবলীগের অপতৎপরতা প্রতিরোধের নামে অবস্থান নেন আয়াসের অনুসারীরা। সেদিন সাধারণ মানুষের মোবাইল পরীক্ষা করা এবং এক রিকশাচালককে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় মব জাস্টিসের অভিযোগে সমালোচিত হন তিনি। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি এবং ২০ সেপ্টেম্বর মাগুরায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বাড়ির ফটকের সামনে অশ্রদ্ধাশীল আচরণ করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নাগরিক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় তাকে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিশানায় পড়ে একাধিকবার শারীরিক হামলারও শিকার হন আয়াস। গত বছরের ২৬ মে ময়মনসিংহের পাটগুদাম এলাকায় শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভাঙচুরের অভিযোগে তাকে ছুরিকাঘাত ও মারধর করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৬ আগস্ট ময়মনসিংহের ভালুকায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হওয়ার পর তার ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর ছড়ায়, যদিও পরে তিনি নিজে থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। নানামুখী চরমপন্থি অবস্থান ও জনপরিসরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ধারাবাহিক অভিযোগের জেরেই অবশেষে গ্রাফিতি বিতর্কে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই আলোচিত তরুণ।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নানা কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক সংঘাত ও আলোচিত-সমালোচিত পদক্ষেপে বারবার খবরের শিরোনাম হওয়া আ ন ম আয়াস আবারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের ফুটপাতের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি ও গ্রাফিতি মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করে শাহবাগ থানা-পুলিশ। পরবর্তীতে তাকেসহ মোট তিনজনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
আয়াস আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় এসে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের নিজস্ব একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন। জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের নিয়ে অবমাননার অভিযোগ তুলে নতুন ধারা বাংলাদেশের (এনডিবি) ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৪ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে, যেখানে আয়াস নিজেও পাইপের আঘাতে জখম হন। পরবর্তীতে চিকিৎসাকেন্দ্রেও সংঘর্ষ গড়ায়। এই ইস্যু ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তিনি আলোচনায় উঠে এসেছেন।
১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনের সামনে শেখ অনুসারী ও যুবলীগের অপতৎপরতা প্রতিরোধের নামে অবস্থান নেন আয়াসের অনুসারীরা। সেদিন সাধারণ মানুষের মোবাইল পরীক্ষা করা এবং এক রিকশাচালককে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় মব জাস্টিসের অভিযোগে সমালোচিত হন তিনি। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি এবং ২০ সেপ্টেম্বর মাগুরায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বাড়ির ফটকের সামনে অশ্রদ্ধাশীল আচরণ করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নাগরিক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় তাকে।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিশানায় পড়ে একাধিকবার শারীরিক হামলারও শিকার হন আয়াস। গত বছরের ২৬ মে ময়মনসিংহের পাটগুদাম এলাকায় শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভাঙচুরের অভিযোগে তাকে ছুরিকাঘাত ও মারধর করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৬ আগস্ট ময়মনসিংহের ভালুকায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হওয়ার পর তার ‘নিখোঁজ’ হওয়ার খবর ছড়ায়, যদিও পরে তিনি নিজে থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। নানামুখী চরমপন্থি অবস্থান ও জনপরিসরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ধারাবাহিক অভিযোগের জেরেই অবশেষে গ্রাফিতি বিতর্কে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই আলোচিত তরুণ।

আপনার মতামত লিখুন