আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ধ্বংস করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়ে সংস্থাটির ওপর ব্যাপক ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
কাকতালীয়ভাবে একই দিন আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন। এই সম্মানজনক ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটনের তরফ থেকে আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার ওপর এমন নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের খবর আসে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
এক বিশেষ বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, “আইসিসির সঙ্গে মার্কিন সংস্থাগুলোর লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য মার্কিন সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।”
একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে আইসিসিকে সতর্ক করে বলেন, “আইসিসির হয় হুমকি বন্ধ করতে হবে, নয়তো আমরা তাদের অস্তিত্ব শেষ করে দেবো। আমাদের মিত্রদের, যাদের অনেকেই আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের সুরক্ষার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল; তারা এ আদালতকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে, তাদের কাছে আমরা এমনটিই আশা করি। যদি তারা সেটি না করে, তবে আমেরিকানদের আর কোনো হুমকি না থাকা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইট-পাথর খসিয়ে আইসিসিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার অভিযান চালু রাখবে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক আদালতকে কোনো আমেরিকানের বিচার করার সুযোগ দেবেন না উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আমরা এই বেপরোয়া আদালতের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করবো, যেন তাদের অর্থের জোগান বন্ধ হয় এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা মুখ থুবড়ে পড়ে।”
ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় দলই মার্কিনীদের ওপর আইসিসির হস্তক্ষেপ না থাকার বিষয়ে একমত হলেও ট্রাম্পই কঠোর পদক্ষেপ নিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
মার্কিন প্রশাসনের এই সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর হুমকির প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় নেয়নি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান যুক্তরাষ্ট্রের চরমপন্থি এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন।
তিনি বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। ২০০২ সালে গঠিত ১২৫টি সদস্যদেশের এই বৈশ্বিক সংস্থাটি তাদের নীতি অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল ওয়াশিংটন। এর ওপর আবার আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ডের অতীত তদন্ত এবং সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার সমালোচক সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল প্রাপ্তি ট্রাম্প প্রশাসনকে আরও বেশি ক্ষিপ্ত করে তুলেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর এমন সরাসরি বার্তা ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন ও গভীর টানাপোড়েন তৈরি করবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ধ্বংস করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়ে সংস্থাটির ওপর ব্যাপক ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
কাকতালীয়ভাবে একই দিন আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন। এই সম্মানজনক ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটনের তরফ থেকে আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার ওপর এমন নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের খবর আসে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
এক বিশেষ বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, “আইসিসির সঙ্গে মার্কিন সংস্থাগুলোর লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য মার্কিন সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।”
একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে আইসিসিকে সতর্ক করে বলেন, “আইসিসির হয় হুমকি বন্ধ করতে হবে, নয়তো আমরা তাদের অস্তিত্ব শেষ করে দেবো। আমাদের মিত্রদের, যাদের অনেকেই আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের সুরক্ষার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল; তারা এ আদালতকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে, তাদের কাছে আমরা এমনটিই আশা করি। যদি তারা সেটি না করে, তবে আমেরিকানদের আর কোনো হুমকি না থাকা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইট-পাথর খসিয়ে আইসিসিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার অভিযান চালু রাখবে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক আদালতকে কোনো আমেরিকানের বিচার করার সুযোগ দেবেন না উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আমরা এই বেপরোয়া আদালতের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করবো, যেন তাদের অর্থের জোগান বন্ধ হয় এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা মুখ থুবড়ে পড়ে।”
ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় দলই মার্কিনীদের ওপর আইসিসির হস্তক্ষেপ না থাকার বিষয়ে একমত হলেও ট্রাম্পই কঠোর পদক্ষেপ নিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
মার্কিন প্রশাসনের এই সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর হুমকির প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় নেয়নি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান যুক্তরাষ্ট্রের চরমপন্থি এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন।
তিনি বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। ২০০২ সালে গঠিত ১২৫টি সদস্যদেশের এই বৈশ্বিক সংস্থাটি তাদের নীতি অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল ওয়াশিংটন। এর ওপর আবার আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ডের অতীত তদন্ত এবং সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার সমালোচক সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল প্রাপ্তি ট্রাম্প প্রশাসনকে আরও বেশি ক্ষিপ্ত করে তুলেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর এমন সরাসরি বার্তা ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন ও গভীর টানাপোড়েন তৈরি করবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন