থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের নয়নাভিরাম কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএসএনসিসি) জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই শীর্ষ সম্মেলনটি আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো প্রাঙ্গণ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে পুরো এলাকা ঢেকে ফেলা হয়েছে। অভ্যাগতদের যাতায়াতের জন্য রাখা হয়েছে বিনামূল্যে বাস সেবা। মেইন বিল্ডিংয়ের পাশে নবসজ্জিত টোব্যাকো ফ্যাক্টরি ভবনে কার্ড সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে রেজিস্ট্রেশনের কাগজ ও পাসপোর্ট দেখিয়ে মেইন ভবনে প্রবেশের পাশ নিচ্ছেন অতিথিরা।
বাংলাদেশের জন্য এই বার্ষিক সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এই বার্ষিক সভায় যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৩৭টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।
এর মধ্যে বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা খাত, ক্লিন এয়ার, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো মৌলিক খাতগুলো প্রধান। এবারের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নতুন সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা এবং দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
পুরোনো ঋণ বাতিলের পর আইএমএফের সঙ্গে নতুন একটি তিন বছর মেয়াদি ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে এই নতুন কর্মসূচির নানা শর্তাবলী নিয়ে জোর দরকষাকষি চলছে। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, মারাত্মক জ্বালানি সংকট, রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাপের মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। এই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতে দ্রত এবং সাহসী সংস্কারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঋণ কর্মসূচির নতুন চুক্তি, সরকারি ভর্তুকি কমানো এবং অর্থনৈতিক সংস্কার ত্বরান্বিত করার নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে রূপরেখা নির্ধারিত হবে।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের নয়নাভিরাম কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএসএনসিসি) জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই শীর্ষ সম্মেলনটি আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো প্রাঙ্গণ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে পুরো এলাকা ঢেকে ফেলা হয়েছে। অভ্যাগতদের যাতায়াতের জন্য রাখা হয়েছে বিনামূল্যে বাস সেবা। মেইন বিল্ডিংয়ের পাশে নবসজ্জিত টোব্যাকো ফ্যাক্টরি ভবনে কার্ড সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে রেজিস্ট্রেশনের কাগজ ও পাসপোর্ট দেখিয়ে মেইন ভবনে প্রবেশের পাশ নিচ্ছেন অতিথিরা।
বাংলাদেশের জন্য এই বার্ষিক সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের এই বার্ষিক সভায় যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৩৭টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।
এর মধ্যে বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা খাত, ক্লিন এয়ার, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো মৌলিক খাতগুলো প্রধান। এবারের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নতুন সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা এবং দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
পুরোনো ঋণ বাতিলের পর আইএমএফের সঙ্গে নতুন একটি তিন বছর মেয়াদি ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে এই নতুন কর্মসূচির নানা শর্তাবলী নিয়ে জোর দরকষাকষি চলছে। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, মারাত্মক জ্বালানি সংকট, রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাপের মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। এই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতে দ্রত এবং সাহসী সংস্কারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঋণ কর্মসূচির নতুন চুক্তি, সরকারি ভর্তুকি কমানো এবং অর্থনৈতিক সংস্কার ত্বরান্বিত করার নীতিগত বিষয়গুলো নিয়ে রূপরেখা নির্ধারিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন