সংবাদ

থাইল্যান্ডের সাথে যৌথ উৎপাদনে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

থাইল্যান্ডের সাথে যৌথ উৎপাদনে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ

  • কৃষি ও হালাল খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে থাই বিনিয়োগের সম্ভাবনা
  • রেনং ও চট্টগ্রাম বন্দরের সামুদ্রিক যোগাযোগ বাড়ানোর জোরালো আলোচনা
  • অর্থনৈতিক সংস্কারে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নীতিগত পূর্ণ সমর্থন

থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ আকর্ষণে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালাল খাদ্য উৎপাদন, শিল্পায়ন এবং দুই দেশের মধ্যে যৌথ উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডের রেনং বন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগ বাড়িয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ডের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্য ঘাটতি কমানোই নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সংযোগ গড়ে তুলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাড়ানো সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, থাই চেম্বারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাত তুলে ধরা হয়েছে এবং কৃষিজাত পণ্য ও হালাল খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে থাই বিনিয়োগকারীদের গভীর আগ্রহ দেখা গেছে। বাংলাদেশে মৌসুমে আম, কাঁঠাল, লিচু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের সরবরাহ বেশি থাকলেও পর্যাপ্ত হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে অনেক জিনিস নষ্ট হয় এবং কৃষকরা ন্যায্য দাম পান না। এসব পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে যৌথ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে এমন উৎপাদন নেটওয়ার্ক তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে কোনো পণ্যের প্রাথমিক উপকরণ বাংলাদেশে উৎপাদিত হবে, মধ্যবর্তী পণ্য থাইল্যান্ডে তৈরি হবে এবং পরে চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হবে।

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থনৈতিক সংস্কারের যে রূপরেখা সরকার নিয়েছে, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীরাও তার মূল লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে একমত। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে সরকার জ্বালানির দাম বাজারের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করেনি।

ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারে পুনঃঅর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সাত শতাংশ ঋণাত্মক সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


থাইল্যান্ডের সাথে যৌথ উৎপাদনে বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

  • কৃষি ও হালাল খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে থাই বিনিয়োগের সম্ভাবনা
  • রেনং ও চট্টগ্রাম বন্দরের সামুদ্রিক যোগাযোগ বাড়ানোর জোরালো আলোচনা
  • অর্থনৈতিক সংস্কারে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নীতিগত পূর্ণ সমর্থন

থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ আকর্ষণে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালাল খাদ্য উৎপাদন, শিল্পায়ন এবং দুই দেশের মধ্যে যৌথ উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডের রেনং বন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগ বাড়িয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ডের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্য ঘাটতি কমানোই নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সংযোগ গড়ে তুলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাড়ানো সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, থাই চেম্বারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাত তুলে ধরা হয়েছে এবং কৃষিজাত পণ্য ও হালাল খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে থাই বিনিয়োগকারীদের গভীর আগ্রহ দেখা গেছে। বাংলাদেশে মৌসুমে আম, কাঁঠাল, লিচু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের সরবরাহ বেশি থাকলেও পর্যাপ্ত হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে অনেক জিনিস নষ্ট হয় এবং কৃষকরা ন্যায্য দাম পান না। এসব পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে যৌথ উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে এমন উৎপাদন নেটওয়ার্ক তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে কোনো পণ্যের প্রাথমিক উপকরণ বাংলাদেশে উৎপাদিত হবে, মধ্যবর্তী পণ্য থাইল্যান্ডে তৈরি হবে এবং পরে চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হবে।

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থনৈতিক সংস্কারের যে রূপরেখা সরকার নিয়েছে, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীরাও তার মূল লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে একমত। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে সরকার জ্বালানির দাম বাজারের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করেনি।

ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারে পুনঃঅর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সাত শতাংশ ঋণাত্মক সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত