সংবাদ

সমুদ্রপথে অস্বাভাবিক খরচ বৃদ্ধিতে নতুন অর্থনৈতিক সংকটে দেশ


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

সমুদ্রপথে অস্বাভাবিক খরচ বৃদ্ধিতে নতুন অর্থনৈতিক সংকটে দেশ
ছবি : সংবাদ

সামুদ্রিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন এক অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং কৃষ্ণসাগরে জাহাজ ও বন্দরে হামলার কারণে জাহাজ পরিচালনা, জ্বালানি, বিমা ও চার্টার ব্যয়-সবকিছুতেই খরচ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। দীর্ঘ পথ ঘুরে জাহাজ চলাচল, অতিরিক্ত বিমা প্রিমিয়াম এবং জাহাজস্বল্পতার কারণে স্পট ফ্রেইটের এই ঊর্ধ্বগতি কনটেইনার পরিবহনের পাশাপাশি ট্যাংকার ও বাল্ক ক্যারেবিয়ান খাতেও তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে। যার সরাসরি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক কনটেইনার ফ্রেইটের চাপ এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। ড্রিউরি ওয়ার্ল্ড কনটেইনার ইনডেক্সে (ডব্লিউসিআই) প্রতি ৪০ ফুট কনটেইনারের ভাড়া ৪ হাজার ৪৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এশিয়া-উত্তর ইউরোপ রুটে ভাড়া এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের এই জটিলতা দেশের আমদানি ব্যয়, শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ, জ্বালানি আমদানি এবং রপ্তানি পণ্যের পরিবহন খরচকে দারুণভাবে প্রভাবিত করছে।

চীন থেকে চট্টগ্রামগামী ২০ ফুট ও ৪০ ফুট কনটেইনারের ভাড়া এক মাসের ব্যবধানে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে ইয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুনির উদ্দীন আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, আগে চীনের সাংহাই থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ডলারে কনটেইনার চট্টগ্রামে আনতে পারত, যা বর্তমানে ৩ হাজার ৩০০ থেকে প্রায় ৪ হাজার ডলারে ঠেকেছে। এর প্রভাবে ভোজ্যতেল, ভোগ্যপণ্য, শিল্প কাঁচামাল, ইস্পাত, রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও টেক্সটাইলসহ আমদাননির্ভর পুরো বাজারে নেতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বাংলাদেশ থেকে ইউরোপগামী জাহাজকে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ এবং ১৫ থেকে ৩০ দিন ট্রানজিট সময় বাড়ার পাশাপাশি ফ্রেইট ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) একটি ট্যাংকার তেল নিয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে আসায় প্রায় ৫০ দিন সময় লেগেছে এবং অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

শিপিং এজেন্টদের একাধিক সূত্র জানায়, রপ্তানিকারকদের ওপর বাড়তি ফ্রেইটের প্রভাব পণ্যের বাণিজ্যিক শর্তের ওপর নির্ভরশীল। তৈরি পোশাকের বড় অংশ এফওবি (Free on Board) ভিত্তিতে রপ্তানি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রভাড়ার সম্পূর্ণ বোঝা বাংলাদেশি রপ্তানিকারককে বহন করতে হয় না; চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এর একটি বড় অংশ বিদেশি ক্রেতার ওপর পড়ে। তবে অতিরিক্ত ট্রানজিট সময়, জাহাজের অনিশ্চয়তা, কনটেইনার সংকট, বন্দরজট এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যয় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতিও নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। শস্য রপ্তানি টার্মিনালগুলোর প্রায় ২০ শতাংশ সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং নিরাপত্তাঝুঁকানির কারণে প্রায় ৫৩ মিলিয়ন টন বার্ষিক সক্ষমতার টার্মিনাল নিষ্ক্রিয় থাকায় শস্য পরিবহনের বিকল্প রুটের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইউক্রেনের দানবীয়মুখী বিকল্প রুটেও জাহাজজট তৈরি হয়েছে এবং ফ্রেইট টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বিকল্প পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে সুপার ট্যাংকার ও ভিএলসিসি’র ভাড়া রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ বিকল্পভাবে ওমান উপকূলের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বৃহৎ আকারের ট্যাংকারগুলোর (ভিএলসিসিএম) চাহিদা ও ভাড়া ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার এসব ট্যাংকারের ভাড়া দিনে ১২ লাখ ৭০ হাজার ডলারে পর্যন্ত উঠেছে।

একই সঙ্গে যুদ্ধঝুঁকির কারণে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর বিমা প্রিমিয়াম জাহাজের মূল্যের ৩ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি। অন্যদিকে জ্বালানিতেলবাহী কিছু ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ রুটে জাহাজ চলাচলের কারণে ট্রিপ সংখ্যা কমে যাওয়ায় জাহাজের কার্যক্ষমতা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে, যা ভাড়াকে আরও উসকে দিচ্ছে।

সমুদ্রের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ লজিস্টিক ব্যয়ও পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি ডিজেলের দাম বাড়ার পর চট্টগ্রামের বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলো খালি কনটেইনার পরিবহন ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেভায় ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করেছে।

এই বহুমুখী ব্যয়ের চাপে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে আমদানি পরিশোধ ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ৬১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, রপ্তানি বাণিজ্যেও এর ছায়া পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ৩৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এর মধ্যে মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়ে থাকা তৈরি পোশাক খাতের আয় কমেছে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং সমুদ্রপথের অনিশ্চয়তার কারণে শিপিং কোম্পানিগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। যুদ্ধের স্থিতিকাল ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা না কাটা পর্যন্ত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ এই পরিবহন সংকট দেশের শিল্প উৎপাদন এবং বাজারদরে চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


সমুদ্রপথে অস্বাভাবিক খরচ বৃদ্ধিতে নতুন অর্থনৈতিক সংকটে দেশ

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সামুদ্রিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন এক অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং কৃষ্ণসাগরে জাহাজ ও বন্দরে হামলার কারণে জাহাজ পরিচালনা, জ্বালানি, বিমা ও চার্টার ব্যয়-সবকিছুতেই খরচ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। দীর্ঘ পথ ঘুরে জাহাজ চলাচল, অতিরিক্ত বিমা প্রিমিয়াম এবং জাহাজস্বল্পতার কারণে স্পট ফ্রেইটের এই ঊর্ধ্বগতি কনটেইনার পরিবহনের পাশাপাশি ট্যাংকার ও বাল্ক ক্যারেবিয়ান খাতেও তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে। যার সরাসরি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক কনটেইনার ফ্রেইটের চাপ এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। ড্রিউরি ওয়ার্ল্ড কনটেইনার ইনডেক্সে (ডব্লিউসিআই) প্রতি ৪০ ফুট কনটেইনারের ভাড়া ৪ হাজার ৪৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এশিয়া-উত্তর ইউরোপ রুটে ভাড়া এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের এই জটিলতা দেশের আমদানি ব্যয়, শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ, জ্বালানি আমদানি এবং রপ্তানি পণ্যের পরিবহন খরচকে দারুণভাবে প্রভাবিত করছে।

চীন থেকে চট্টগ্রামগামী ২০ ফুট ও ৪০ ফুট কনটেইনারের ভাড়া এক মাসের ব্যবধানে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে ইয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুনির উদ্দীন আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, আগে চীনের সাংহাই থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ডলারে কনটেইনার চট্টগ্রামে আনতে পারত, যা বর্তমানে ৩ হাজার ৩০০ থেকে প্রায় ৪ হাজার ডলারে ঠেকেছে। এর প্রভাবে ভোজ্যতেল, ভোগ্যপণ্য, শিল্প কাঁচামাল, ইস্পাত, রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও টেক্সটাইলসহ আমদাননির্ভর পুরো বাজারে নেতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বাংলাদেশ থেকে ইউরোপগামী জাহাজকে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ এবং ১৫ থেকে ৩০ দিন ট্রানজিট সময় বাড়ার পাশাপাশি ফ্রেইট ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) একটি ট্যাংকার তেল নিয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে আসায় প্রায় ৫০ দিন সময় লেগেছে এবং অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

শিপিং এজেন্টদের একাধিক সূত্র জানায়, রপ্তানিকারকদের ওপর বাড়তি ফ্রেইটের প্রভাব পণ্যের বাণিজ্যিক শর্তের ওপর নির্ভরশীল। তৈরি পোশাকের বড় অংশ এফওবি (Free on Board) ভিত্তিতে রপ্তানি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রভাড়ার সম্পূর্ণ বোঝা বাংলাদেশি রপ্তানিকারককে বহন করতে হয় না; চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এর একটি বড় অংশ বিদেশি ক্রেতার ওপর পড়ে। তবে অতিরিক্ত ট্রানজিট সময়, জাহাজের অনিশ্চয়তা, কনটেইনার সংকট, বন্দরজট এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যয় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতিও নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। শস্য রপ্তানি টার্মিনালগুলোর প্রায় ২০ শতাংশ সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং নিরাপত্তাঝুঁকানির কারণে প্রায় ৫৩ মিলিয়ন টন বার্ষিক সক্ষমতার টার্মিনাল নিষ্ক্রিয় থাকায় শস্য পরিবহনের বিকল্প রুটের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইউক্রেনের দানবীয়মুখী বিকল্প রুটেও জাহাজজট তৈরি হয়েছে এবং ফ্রেইট টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে ট্যাংকার চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে বিকল্প পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে সুপার ট্যাংকার ও ভিএলসিসি’র ভাড়া রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ বিকল্পভাবে ওমান উপকূলের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বৃহৎ আকারের ট্যাংকারগুলোর (ভিএলসিসিএম) চাহিদা ও ভাড়া ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার এসব ট্যাংকারের ভাড়া দিনে ১২ লাখ ৭০ হাজার ডলারে পর্যন্ত উঠেছে।

একই সঙ্গে যুদ্ধঝুঁকির কারণে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর বিমা প্রিমিয়াম জাহাজের মূল্যের ৩ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি। অন্যদিকে জ্বালানিতেলবাহী কিছু ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ রুটে জাহাজ চলাচলের কারণে ট্রিপ সংখ্যা কমে যাওয়ায় জাহাজের কার্যক্ষমতা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে, যা ভাড়াকে আরও উসকে দিচ্ছে।

সমুদ্রের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ লজিস্টিক ব্যয়ও পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি ডিজেলের দাম বাড়ার পর চট্টগ্রামের বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলো খালি কনটেইনার পরিবহন ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেভায় ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করেছে।

এই বহুমুখী ব্যয়ের চাপে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে আমদানি পরিশোধ ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ৬১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, রপ্তানি বাণিজ্যেও এর ছায়া পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ৩৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এর মধ্যে মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়ে থাকা তৈরি পোশাক খাতের আয় কমেছে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং সমুদ্রপথের অনিশ্চয়তার কারণে শিপিং কোম্পানিগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। যুদ্ধের স্থিতিকাল ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা না কাটা পর্যন্ত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ এই পরিবহন সংকট দেশের শিল্প উৎপাদন এবং বাজারদরে চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত