সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরের ১২৬২ কোটি টাকার আমানত ‘ঝুঁকিতে’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের ১২৬২ কোটি টাকার আমানত ‘ঝুঁকিতে’

  • ৩ বন্দরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর তাগিদ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা মেয়াদোত্তীর্ণ স্থায়ী আমানত ফেরত আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব আমানত ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তুলে ধরা বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় ব্যাংকে থাকা প্রায় ১ হাজার ২৬২ কোটি টাকার আমানত ফিরে পাওয়া নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে।

কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ব্যাংকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্থায়ী আমানত ফেরত আনা এবং বন্দরগুলোর দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে কত টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এবং কত টাকা ফেরত পাওয়া গেছে, তা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি।

সংসদীয় কমিটিতে তুলে ধরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট স্থায়ী আমানত ছিল ১১ হাজার ১৩৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে আর্থিক সংকটে থাকা ছয়টি ব্যাংকে ছিল ১ হাজার ২৬২ কোটি ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮৪ টাকা। এটি মোট স্থায়ী আমানতের প্রায় ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পদ্মা ব্যাংকে বন্দর কর্তৃপক্ষের স্থায়ী আমানত ছিল ১৭৯ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্য পাঁচ ব্যাংক— গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকে সম্মিলিতভাবে ছিল ১ হাজার ৮২ কোটি ৮৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৪ টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে। অর্থাৎ, আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়ার মতো নগদ অর্থের সংকট রয়েছে ব্যাংকগুলোর। এই পরিস্থিতিতে আমানতের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে ঝুঁকি থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ড আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য হিসাবভিত্তিক কোনো সংস্থান রাখেনি বলে নিরীক্ষায় আপত্তি তোলা হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য এ ধরনের সংস্থান রাখা হয় আর্থিক ঝুঁকির প্রভাব হিসাবের মধ্যে দেখানোর জন্য। তবে নিরীক্ষায় চিহ্নিত পুরো অর্থই ক্ষতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

এদিকে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নাম আসা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকটি ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মতো প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘গায়েব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তি, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশগ্রহণ করেন।

কমিটির সদস্যরা ছাড়াও বৈঠকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রাম বন্দরের ১২৬২ কোটি টাকার আমানত ‘ঝুঁকিতে’

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

  • ৩ বন্দরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর তাগিদ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা মেয়াদোত্তীর্ণ স্থায়ী আমানত ফেরত আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব আমানত ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তুলে ধরা বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় ব্যাংকে থাকা প্রায় ১ হাজার ২৬২ কোটি টাকার আমানত ফিরে পাওয়া নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে।

কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ব্যাংকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্থায়ী আমানত ফেরত আনা এবং বন্দরগুলোর দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে কত টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এবং কত টাকা ফেরত পাওয়া গেছে, তা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি।

সংসদীয় কমিটিতে তুলে ধরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট স্থায়ী আমানত ছিল ১১ হাজার ১৩৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে আর্থিক সংকটে থাকা ছয়টি ব্যাংকে ছিল ১ হাজার ২৬২ কোটি ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮৪ টাকা। এটি মোট স্থায়ী আমানতের প্রায় ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, পদ্মা ব্যাংকে বন্দর কর্তৃপক্ষের স্থায়ী আমানত ছিল ১৭৯ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্য পাঁচ ব্যাংক— গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকে সম্মিলিতভাবে ছিল ১ হাজার ৮২ কোটি ৮৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৪ টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে। অর্থাৎ, আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়ার মতো নগদ অর্থের সংকট রয়েছে ব্যাংকগুলোর। এই পরিস্থিতিতে আমানতের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে ঝুঁকি থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ড আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য হিসাবভিত্তিক কোনো সংস্থান রাখেনি বলে নিরীক্ষায় আপত্তি তোলা হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য এ ধরনের সংস্থান রাখা হয় আর্থিক ঝুঁকির প্রভাব হিসাবের মধ্যে দেখানোর জন্য। তবে নিরীক্ষায় চিহ্নিত পুরো অর্থই ক্ষতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

এদিকে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নাম আসা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকটি ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মতো প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘গায়েব হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পণ্যভর্তি কনটেইনার, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তি, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশগ্রহণ করেন।

কমিটির সদস্যরা ছাড়াও বৈঠকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত