সংবাদ

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়নি জিয়াউল আহসানকে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়নি জিয়াউল আহসানকে

​নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির না করে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আদালতের আনুষ্ঠানিক অনুমতি সাপেক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচারিক কার্যক্রমে তিনি কারাগার থেকে সরাসরি ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে অংশ নেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি নিজে এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির না করে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি প্রদান করেছেন।

​এর আগে গত ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত শুনানিতে জিয়াউল আহসানের একক যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তার আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার।

আদালতকে তিনি জানান, অন্য আসামিদের স্বাভাবিকভাবে আনা-নেওয়া করা হলেও গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জিয়াউল আহসানকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে একা একটি প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হচ্ছে।

বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এভাবে একা আনা-নেওয়ার সময় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্য আসামিদের একা আনা না হলেও জিয়াউল আহসানকে কেন একা আনা হচ্ছে এবং তাকে অন্য আসামিদের সঙ্গে পরিবহনের দাবি জানান।

​আইনজীবীর বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়া থেকে জিয়াউল আহসান নিজেও অভিযোগ তুলে বলেন, তাকে একা গাড়িতে করে আনার মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেরা কোনো অঘটন ঘটিয়ে পরবর্তীতে সেই দায় তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া।

এই বিতর্কের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম মন্তব্য করেন, অভিযুক্তের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো রকম আশঙ্কা থাকলে তাকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে না এনে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রযুক্তিগত সুযোগ রয়েছে। যদিও সে সময় এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, তবুও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

​উল্লেখ্য, শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার পর বর্তমানে তাকে জেরার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই প্রধান মামলাটির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও নির্যাতন সংক্রান্ত আরও একাধিক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়নি জিয়াউল আহসানকে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

​নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির না করে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আদালতের আনুষ্ঠানিক অনুমতি সাপেক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচারিক কার্যক্রমে তিনি কারাগার থেকে সরাসরি ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে অংশ নেন।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি নিজে এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির না করে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি প্রদান করেছেন।

​এর আগে গত ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত শুনানিতে জিয়াউল আহসানের একক যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তার আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার।

আদালতকে তিনি জানান, অন্য আসামিদের স্বাভাবিকভাবে আনা-নেওয়া করা হলেও গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জিয়াউল আহসানকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে একা একটি প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হচ্ছে।

বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এভাবে একা আনা-নেওয়ার সময় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্য আসামিদের একা আনা না হলেও জিয়াউল আহসানকে কেন একা আনা হচ্ছে এবং তাকে অন্য আসামিদের সঙ্গে পরিবহনের দাবি জানান।

​আইনজীবীর বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়া থেকে জিয়াউল আহসান নিজেও অভিযোগ তুলে বলেন, তাকে একা গাড়িতে করে আনার মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেরা কোনো অঘটন ঘটিয়ে পরবর্তীতে সেই দায় তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া।

এই বিতর্কের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম মন্তব্য করেন, অভিযুক্তের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো রকম আশঙ্কা থাকলে তাকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে না এনে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রযুক্তিগত সুযোগ রয়েছে। যদিও সে সময় এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, তবুও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

​উল্লেখ্য, শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার পর বর্তমানে তাকে জেরার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই প্রধান মামলাটির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও নির্যাতন সংক্রান্ত আরও একাধিক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত