সংবাদ

ধামইরহাটে বাড়িঘর ভেঙে উচ্ছেদ, ১২ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

ধামইরহাটে বাড়িঘর ভেঙে উচ্ছেদ, ১২ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ
ছবি : সংবাদ

নওগাঁর ধামইরহাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ি ভাঙচুর, ভাড়াটিয়াদের মারধর করে মাঝরাতে উচ্ছেদ, মালামাল লুটপাট ও গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও থানায় কোনো মামলা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেনি। তবে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান পুলিশের ওপর কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কথা অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি মূলত আদালতের রায় ও আইনি জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এদিকে বিরোধের কেন্দ্রে থাকা বিতর্কিত একটি দলিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট জমির নামজারি বাতিল করেছিলেন ধামইরহাটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ। ওই আদেশে দলিলের প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠায় সাবরেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরের গরমিল এবং একাধিক স্থানে মহাদেবপুর ও পত্নীতলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সিল থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সরেজমিনে ধামইরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ফার্সিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির দরজা, জানালা, দেয়াল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সোলায়মান আলীর অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দলবদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পাঁচটি ইটের ঘর ভাঙচুর করে ভাড়াটিয়াদের মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ১২ দিন পরও ভাড়াটিয়ারা ওই ভাঙা বাড়িতেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ ঘটনায় সোলায়মান আলী বাদী হয়ে ধামইরহাট উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল হাসান মেবু এবং উপজেলা রিকশা ও অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল হামিদসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গে ধামইরহাট থানার ওসি মো. মিন্টু রহমান বলেন, ‘আদালতের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণের আলোকেই সংশ্লিষ্ট পক্ষ জমিটিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পুলিশের আলাদা পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।’ তবে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ সত্ত্বেও মামলা না নেওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শ্রমিক দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল হামিদ উল্টো বাড়িটি তাঁদের দখলে ছিল বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এনামুল হক জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


ধামইরহাটে বাড়িঘর ভেঙে উচ্ছেদ, ১২ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নওগাঁর ধামইরহাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ি ভাঙচুর, ভাড়াটিয়াদের মারধর করে মাঝরাতে উচ্ছেদ, মালামাল লুটপাট ও গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও থানায় কোনো মামলা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেনি। তবে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান পুলিশের ওপর কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কথা অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি মূলত আদালতের রায় ও আইনি জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এদিকে বিরোধের কেন্দ্রে থাকা বিতর্কিত একটি দলিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট জমির নামজারি বাতিল করেছিলেন ধামইরহাটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ। ওই আদেশে দলিলের প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠায় সাবরেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরের গরমিল এবং একাধিক স্থানে মহাদেবপুর ও পত্নীতলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সিল থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সরেজমিনে ধামইরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ফার্সিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির দরজা, জানালা, দেয়াল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সোলায়মান আলীর অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দলবদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পাঁচটি ইটের ঘর ভাঙচুর করে ভাড়াটিয়াদের মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার ১২ দিন পরও ভাড়াটিয়ারা ওই ভাঙা বাড়িতেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ ঘটনায় সোলায়মান আলী বাদী হয়ে ধামইরহাট উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল হাসান মেবু এবং উপজেলা রিকশা ও অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল হামিদসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গে ধামইরহাট থানার ওসি মো. মিন্টু রহমান বলেন, ‘আদালতের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণের আলোকেই সংশ্লিষ্ট পক্ষ জমিটিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পুলিশের আলাদা পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।’ তবে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ সত্ত্বেও মামলা না নেওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শ্রমিক দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল হামিদ উল্টো বাড়িটি তাঁদের দখলে ছিল বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এনামুল হক জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত