দুই বছরের বেশি সময় শূন্য থাকা তথ্য কমিশনে তিন পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রধান তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার (১৮ অক্টোবর) তাকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছেন বলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। দুই তথ্য কমিশনারও নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে জার্মানির মারবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানির ফ্রেইবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ নীতি ও পরিবেশগত বিরোধ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটারের পদে থাকা সাংবাদিক এসএএম মাহফুজুর রহমানকে তথ্য কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। । গত ২ মার্চ বার্তা সংস্থা ইউএনবির সাবেক এই সম্পাদকে স্পিচ রাইটার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। স্পিচ রাইটারের দায়িত্ব দেওয়ার সাড়ে সাত মাসের মাথায় তাকে তথ্য কমিশনে পাঠানো হলো।
একই প্রজ্ঞাপনে তথ্য কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আরেক সাংবাদিক খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন।
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রধান তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক ও তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম পদত্যাগ করেন। এরপর আরেক তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টিকেও বাদ দেওয়া হয়। এরপর দুই বছরেও প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আট মাসের মাথায় প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনার নিয়োগ দিল।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ‘আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “আমরা বাংলাদেশে একটা বিশ্বরেকর্ড করেছি। পৃথিবীতে আর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তথ্য কমিশন ২ বছর ২ মাস ধরে অনুপস্থিত থাকে বা গঠন করা হয় না।”
ইফতেখারুজ্জামান ওই অনুষ্ঠানে আরো বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ দেড় বছরে তাদের এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তখন সরকারে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অনেকেই আমাদের সুপরিচিত বা বন্ধুস্থানীয় ছিলেন। তাদের কাছে বারবার অনুনয়-বিনয় করে কমিশন গঠন করার জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়েছিল, সব ধরনের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক সে সময় অভিযোগ করে বলেন, “তথ্য কমিশনে তো ট্র্যাক রেকর্ড আছে, এটি মূলত দলীয় ক্যাডার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং আমাদের মতো সাধারণ কিংবা স্বাধীন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর জন্য সেখানে প্রবেশের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
দীর্ঘদিন তথ্য কমিশন সচল না থাকায় তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ দিন দিন বেড়েছে। তবে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি করাও সম্ভব হচ্ছিল না। কেননা, যাদের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি হওয়ার কথা, সেই তথ্য কমিশনই গঠন করা হচ্ছিল না। ফলে শুধু অভিযোগের নিষ্পত্তিই নয়, তথ্য অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রকাশনা ইত্যাদিও প্রায় বন্ধ ছিল। এখন তা আবার সচল হওয়ার পথ খুলল।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
দুই বছরের বেশি সময় শূন্য থাকা তথ্য কমিশনে তিন পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রধান তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার (১৮ অক্টোবর) তাকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছেন বলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। দুই তথ্য কমিশনারও নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে জার্মানির মারবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানির ফ্রেইবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ নীতি ও পরিবেশগত বিরোধ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটারের পদে থাকা সাংবাদিক এসএএম মাহফুজুর রহমানকে তথ্য কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। । গত ২ মার্চ বার্তা সংস্থা ইউএনবির সাবেক এই সম্পাদকে স্পিচ রাইটার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। স্পিচ রাইটারের দায়িত্ব দেওয়ার সাড়ে সাত মাসের মাথায় তাকে তথ্য কমিশনে পাঠানো হলো।
একই প্রজ্ঞাপনে তথ্য কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আরেক সাংবাদিক খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন।
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রধান তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক ও তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম পদত্যাগ করেন। এরপর আরেক তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টিকেও বাদ দেওয়া হয়। এরপর দুই বছরেও প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আট মাসের মাথায় প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনার নিয়োগ দিল।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ‘আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “আমরা বাংলাদেশে একটা বিশ্বরেকর্ড করেছি। পৃথিবীতে আর এমন কোনো দেশ নেই যেখানে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তথ্য কমিশন ২ বছর ২ মাস ধরে অনুপস্থিত থাকে বা গঠন করা হয় না।”
ইফতেখারুজ্জামান ওই অনুষ্ঠানে আরো বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ দেড় বছরে তাদের এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তখন সরকারে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অনেকেই আমাদের সুপরিচিত বা বন্ধুস্থানীয় ছিলেন। তাদের কাছে বারবার অনুনয়-বিনয় করে কমিশন গঠন করার জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়েছিল, সব ধরনের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক সে সময় অভিযোগ করে বলেন, “তথ্য কমিশনে তো ট্র্যাক রেকর্ড আছে, এটি মূলত দলীয় ক্যাডার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং আমাদের মতো সাধারণ কিংবা স্বাধীন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর জন্য সেখানে প্রবেশের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
দীর্ঘদিন তথ্য কমিশন সচল না থাকায় তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ দিন দিন বেড়েছে। তবে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি করাও সম্ভব হচ্ছিল না। কেননা, যাদের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি হওয়ার কথা, সেই তথ্য কমিশনই গঠন করা হচ্ছিল না। ফলে শুধু অভিযোগের নিষ্পত্তিই নয়, তথ্য অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রকাশনা ইত্যাদিও প্রায় বন্ধ ছিল। এখন তা আবার সচল হওয়ার পথ খুলল।

আপনার মতামত লিখুন